তুষারতীর্থ-এর একগুচ্ছ কবিতা

তুষারতীর্থ নাথ on

tushartirtha_guccho_kobita

রক্তপলাশ

আমার হৃদপিন্ড জমা থাকে তোমার তমসুকে
জমা থাকে একান্ত সন্ধ্যার শিলালিপি
বিষণ্ণ প্রেম তবু বয়ে চলে ধমনীর অন্ধকারে
বসন্ত অধ্যুষিত জীবনে আমি হত্যা করি
একের পর এক কবিতা
পলাশে পলাশে আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে বিষাদ আখ্যান

ক্যাকটাস

তোমার ভিতরে বেড়ে ওঠে প্রিয় ক্যাকটাস
তীব্র যন্ত্রণাময় অথচ নির্বিকার
তবু আদর দাও স্পর্শ দাও
জল মাটি খাদ
সংস্পর্শ লেগে থাকে
সবুজ জীবনে
উদাসী প্রজাপতি ওড়ে
রোদে শুকানো বিষণ্ণ সন্ধ্যায়
ঝাপসা হয়ে আসে ভালোবাসা
অপেক্ষা অভিমান ছাপোষা ইচ্ছে
শ্যাওলা হয়ে সব জমাট বাঁধে অলস দীর্ঘশ্বাসে
বোবা বেদনারা শমিত ডানা ঝাপটায়
বেহায়া স্মৃতির রেলিঙে
তবু কেন?
কেন আগলে রাখো প্রিয় ক্যাকটাস
প্রতিশোধের মতো
কেন বাজাও বিরহের তীক্ষ্ণ সুর
রক্তঝরা অবুঝ আঙুলে

প্রেম প্রণয় এবং অন্যান্য

যেখানে রাত পিলপিল করে ভোর হয়ে গেছিল
সেই বাঁকে কর্তব্য মোড় নেয় আজ
আদিম ভাস্কর্যে নাজেহাল কিছু রাত
মাইলফলক স্পর্শ করে রাখে সচেতন বসন্তগুলোতে
অনভিজ্ঞ সকাল লজ্জায় কুন্ঠিত হলে
অন্ধকারে বসে ক্ষুধার্ত চিতাবাঘের মতো
আমি মাংসল সূর্যের অপেক্ষা করি
নরম থাবায় নিশ্চিত থাকে তোমার সাবধানী ঘুম

কবলিকা ফুঁড়ে সূর্যের ধারা প্রকাশিত হয় এরপর
রক্তের স্বাদ নিতে
টগবগে আলোর মফস্বলে তৎপর হই
রক্তের স্বাদ সকালের মতো টাটকা
ভয়ানক চনমনে
রক্তের গন্ধ সম্ভবত আমিই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি

সিগারেট

ধোঁয়ার সুতোয় বাঁধা একটা সিগারেট
আমার হাতে ঝুলছে
কুড়ি লাইন লেখার পর আমি জঘন্য অবসর চাই।

তোমার কথামতো আমি কয়েকটা লেটেস্ট মাস্টারপিস
পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছি গত তিন বছরে
কবিতা না লিখলে চল্লিশ ঘন্টায় বছর।

আমি অর্ধেক সুদ কষেই
সিগারেট মওকুফ করে দিই
চিতায় কবিতা পুড়লে সিগারেটের গন্ধ বেরোয়।

ক্যান্সারে মরা মড়াটার
বা-কানে সিগারেট ডানকানে রজনীগন্ধা
খেয়াল না করলে বোঝাই যায় না
আমার শরীরেও দু’শ ছ’টা সিগারেট।

আমি তালি বাজিয়ে ঢেউ ডাকলে
কর্করঙা শোধকেরা
ফেঁপে ওঠা পচালাশের মতো পায়ে এসে জমা হয়।

এক বিড়িখোরকে বিড়ি ঘোরায়
কানের কাছে দু’আঙুলে চেপে,
আমিও চেষ্টা করি
গায়ত্রী মন্ত্র শুনি সিগারেট ঘুরিয়ে।

গেম অব ওয়ার্ডস্ না জেম অব থটস্?
একটা প্যাকেট দিয়ে টস্ করি
শিবু হারামজাদা আচমকা লুফে নেয়
ওটা সম্পূর্ণ খালি প্যাকেট ছিল।

ট্রামের ভিতর ঢুকে গেলে
বাইরের মানুষগুলোকে জ্বলন্ত সিগারেট মনে হয়
হাজার হাজার পোড়া সিগারেট ঠেলে
ট্রামটা ঘন্টি বাজিয়ে এগিয়ে চলে।

ঈশ্বরের ক্ষেত

চাঁদের কলঙ্ক যেন
ঐতিহাসিক ন্যাতানো স্তনে
অগণিত সঙ্গমনকশা
এখন প্রবল শব্দে রাত বাড়ছে
পিষে পিষে যাচ্ছে নক্ষত্রগুলো
এখানে তেরোঘর ভালোলাগা
বেশি যেটা, শুধুমাত্র তোমার জন্য অতিরিক্ত
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রত‍্যন্ত প্রান্তগুলিতেও
আমার প্রেয়সীরা অপেক্ষা করে আছে
গর্ভে চিরন্তন শস্যবীজ নিয়ে
আপাতত এই কবিতা গোপন করছি পৃথিবীর কাছে
আমার প্রেয়সীরা এখন শান্তি বিয়োবে
ঈশ্বরের অবিনশ্বর ক্ষেতে


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


তুষারতীর্থ নাথ

জন্ম- উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটে। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে সপরিবার মামার বাড়িতে চলে আসেন হাসনাবাদে। স্কুল জীবন কাটে সীমান্ত শহর টাকিতে যেখানে ইছামতী নদী সবার বুক জুড়ে বয়ে চলে। অনেকের মতোই জীবনে লড়াই ছিল,অভাব ছিল, তার মধ্যে প্রেম ছিল, কবিতা ছিল। এখন কর্মসূত্রে দেশের বিস্তীর্ণ সীমান্তে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনকে নতুন ভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছি। কবিতা লেখার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা সম্ভব হয় না এ পেশায় কিন্তু যখন দমবন্ধ হয়ে আসে বুক ভরে কবিতা টেনে নেন এখনও। বন্দুক নামিয়ে তুলে নেন কলম, কেননা --কবিতা জমে, কবিতা জমে ব্যাথা হয়, // কবিতা ভিতরে পচে।// কবিতায় গোপন করি, কবিতা উজাড় খোলস// কবিতা যন্ত্রণা বোধ, তীব্র মুক্তি।// কবিতা বেঁচে থাকার জন্য আপোষ, কবিতা প্রবণতা// কবিতা বুকজোড়া পাথর, কবিতা সফল নিষ্ফলতা ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।