বানভাসি পদ্য

অন্তর চক্রবর্তী on

banvasi_podyo

এঁটো থালাটির গায়ে লেগে থাকে এঁটো ভাতটুকু
পাশ ফিরে শুয়ে আছে তছনছ ভিটেমাটিবুক
আধপেটা গলা কাঁপে ভরপেট সংশয়জলে
স্বভাবে ছলকে পড়ে কবেকার গহীন অসুখ

শুকনো ঢেঁকুরময় তবু ওড়ে স্বাদের অছিলা
সুফলা আগামী শুঁকে উজাগর ক’টি হৃদিকোণ
আচমকা বমি ফুঁড়ে উঠে আসে নিখাদ লালিমা
উঠোনে ফুঁপিয়ে কাঁদে আলুথালু ওষধির বন

ক’ঝড়ে তেপান্তর? কত ক্ষতে মিলবে রেহাই?
রুদালি বাটের কোলে তিরতির পিদিমনিশানি
আধপেটা চোখে ডুবে ভরপেট খোয়াবের রাত
এঁটো আকাশের গায়ে লেগে আছে এঁটো চাঁদখানি…

বানভাসি মেঘে ঢাকা থমথমে এই কোজাগরী
অশ্রুসজলে চেয়ে, ক্ষুরধার অশনি-আঘাত
খুঁটের নাভিটি চিরে ভেসে যায় অন্ন-সুরাহা
একমুঠো জোছনায় গৃহিণীর শুনশান হাত

চৌচির শাঁখাজোড়া ছুটেছে নিখুঁত এলোমেলো
টুকরো শাদার শোকে গাঢ় হয় ছটফটে লাল
সহসা ছাপিয়ে এসে সুনিবিড় আঁধারিয়া সিঁথি
ছায়া জুড়ে ক্রমাগত ছিটকোয় সিঁদুরে কপাল

প্রমাদে প্রমাদে ঘেরা অনাবিল দাহসংসার
স্তবের ওপারে স্থাণু, মায়ানৈবেদ্যের ডালি
নিথর আলতা চিরে হেঁটে চলে বিষাদসুদূর
বানভাসি আলেয়ায় ছারখার লক্ষ্মীপাঁচালী…

সদ্য লাশের ঠোঁটে দিশেহারা পিঁপড়ের দল
চকিতে এগিয়ে আসে ছিটেফোঁটা শ্বাসের তাগিদে
উধাও ছাদের নীচে অপলক শূন্য উনুন
শ্রান্ত জোনাকে মিশে রাশিরাশি চকমকি খিদে

কেউ ঘুমে দোলে আর ঘনঘন ঝলসায় কেউ
কারোর আলোটি আজ হতভাগা জ্বরে অশরীরী
নিরুপায় খুঁড়ে ফ্যালে পোড়ামুখ হাঁ-এর অতল
জিভের হিমানি ভেঙে খোঁজে ওম-জনমের সিঁড়ি

হে দরদী খোদাপ্রাণ, আঁজলায় সামান্য দোয়া
ছাদহারা দোচালার তরে হোক ‘ভেস্ত নাজেল’
সোনাচাষ জমি হয়ে ফোটে যেন বিরহী উনুনে
সদ্য ভোরের কাছে, খুন হওয়া মাটির হেঁশেল…


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


অন্তর চক্রবর্তী

জন্ম নয়ের দশকের মাঝামাঝি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। সেই জেলারই পাড়াগেঁয়ে মফস্বল গঙ্গারামপুরে বেড়ে ওঠা। স্বভাববালক ও উচ্চিংড়ে। ভাবতে ভালোবাসেন। ছোট থেকেই পাগলামিতে ঝোঁক। তারপর সাহিত্যের কাছাকাছি আসা। কলেজে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াকালীন কবিতায় বিশেষ আগ্রহের সূত্রপাত। তখন থেকেই টুকটাক লেখালিখির শুরু।কয়েকটি ছোট পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে এযাবৎ।কবিতার পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবলও বড্ড ভালোবাসেন। ভালোবাসেন গান শুনতে, সিনেমা দেখতেও।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।