jabobrojerkulikuli

যাবো ব্রজের কুলি কুলি

আগুনের উল্টোদিকে একটা নির্লিপ্ত নৈশব্দ বয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য স্রোতে। একটা প্রাগৈতিহাসিক শৈত্যের ভিতর দিয়ে, একটা আদিম ধুসর কুয়াশার ভিতর দিয়ে দিকভ্রান্ত নদীর মত হারিয়ে যাচ্ছে। মিশে যাচ্ছে কোনো এক ঠিকানা বিহীন দিগন্তরেখায়। আকাশ বাতাস জুড়ে ফাগুন লেগেছে আজ। ফাগুন লেগেছে শহরের কোলাহল থেকে দূরে বহুদূরে মাদলের তালে। ফাগুন লেগেছে দলছুট আরও পড়ুন…

hurko dibos

শুভ হুড়কো দিবস

… রাত এগারোটা। চৌকান এর জঙ্গল পেরিয়ে তখন দাপটে ছুটে চলেছে একটা মোটরবাইক। চালকের নাক অবধি মাফলার এ ঢাকা, কাঁধে দোনলা বন্দুক। মাইলের পর মাইল নিকষ কালো আঁধার পথ। দুপাশে শাল পিয়ালের জঙ্গল। পিচ রাস্তা পেরিয়ে কিছুটা লালমাটির পথ উঁচু নিচু হতে হতে ইউক্যালিপটাস এর জঙ্গল পেরিয়েছে। রাতের ইউক্যালিপটাস কামগন্ধী আরও পড়ুন…

amar nabaneetadi

আমার নবনীতাদি

কবে যে প্রথম নবনীতাদির বাড়িতে গিয়েছিলাম, এখন আর মনে নেই। না, তখনও সিঁড়ি-লাগোয়া ইস্পাতের চ্যানেলে বসানো চেয়ারে করে ইলেক্ট্রিকের মাধ্যমে তিনি ওঠানামা করতেন না।তার পর মাঝে মাঝেই যেতাম ‘সানন্দা’ পত্রিকার জন্য কবিতা আনতে।আমি তখন লীলা মজুমদার, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে অনেকগুলো আরও পড়ুন…

MAA UNUN

মা এবং একটি উনুন

আমাদের শৈশবে মায়ের ছিল অভাবের সংসার। শাশুড়ি ননদের সঙ্গে প্রাত্যহিক বাকবিতন্ডার পর ঘুপচি রান্নাঘরে উনুন জ্বালাতেন মা। ধোঁয়ায় জেরবার হতে হতে বিড়বিড় করে যেতেন, একা একা। আমি দেখতাম সাদা ধোঁয়ার মধ্যে একটি আবছায়া মূর্তির ক্রমাগত নড়ে যাচ্ছে ঠোঁট, আর আগুনে ভরে যাচ্ছে মাটির উনুন। ওভাবে কার সঙ্গে কথা বলো, মা? আরও পড়ুন…

rabir alo o fokaser matra

রবির আলো ও আমার বিভিন্ন ফোকাসের মাত্রাগুচ্ছ

সহজ পাঠের সহজিয়া দিনগুলো পেরিয়ে পাড়ার জঙ্গল সাফ করবার দিন যখন সমাগত তখন তার ‘ অসন্তোষের কারণ ‘ সর্বপ্রথম আমাকে উদ্বেল করে তুলেছিল । এই যে  শিক্ষাকে আমরা শুধু বহন করেই চললাম , ভুল করেও আর বাহন করলাম না – এই আপ্তবাক্যটি সঙ্গী করে বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাইদের বরাবরই তীব্র উস্কানি দিয়ে আরও পড়ুন…

alo mane rabi

আলো মানে রবি

সমস্ত বিষয়ের মধ্যে থেকে আরেকটি বিষয় – সেটা ছবি আঁকার ক্ষেত্রে উপলব্ধি করতে পারলেও লেখার ক্ষেত্রেও যে একই কথা প্রযোজ্য আগে বুঝিনি । বুঝলাম,  যখন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত বিষয়-ভাবনায় হঠাৎ নাড়া দিল ভেতরকার অনেক কথা । ভাবলাম – গুরুদেব সম্পর্কে লেখার উপযোগ্য কলম আমার নেই অথবা তাঁর কীর্তির দিনক্ষণ , বিচার-বিশ্লেষণেও আরও পড়ুন…

sholey rabi

এ হাত মুঝে দে দে ঠাকুর

সে বছর বাড়িতেই কাহিল হয়ে পড়ে আছি।রোদ্দুরের কাছাকাছি বেরোতে পারছি না।মাঝে মাঝেই নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।নাকে জলপটি দিয়ে শুয়ে শুয়ে দিন গুনছি।যেসব পাখির নাম জানতাম না,ডাক চিনতাম না,সেগুলো চিনে নিয়েছি প্রায়।মায়ের আদরও বেড়েছে অনেকটা।আব্বা বলছে,সব ঠিক হয়ে যাবে।অস্বমেধের ঘোড়া ছুটবে বলে তার লাল তিলক পরানো চলছে।একদিকে ঘর,বারান্দা,পেয়ারা গাছের ছায়া আরও পড়ুন…

chhut 1

ছুট

সে অনেকদিন আগেকার কথা। তখন টোটো গাড়িও হয়নি, এমনকি মোবাইল ফোনও হয়নি। মোবাইল ফোন তো ছাড়, ল্যান্ডলাইনও ছিলনা বাড়িতে বাড়িতে। বাক্স টিভি ছিল,তাও সাদাকালো। সেইসময় বাবা হঠাৎ কল্যানী থেকে বালুরঘাট বদলী হয়ে গেলো। মা রাগ করলো,দিদি জেদ করলো,যাবে না। বাবা তখন আমায় বলল,’চল, পাহাড় আছে,নদী আছে।’ একটা দিন ট্রাকে সব জিনিষপত্র আরও পড়ুন…

chele belar modhupur

ছেলেবেলার মধুপুর

সেই ছেলেবেলার গল্প। বছর দশেক বয়স। শীতের ছুটিতে বাড়ির সব্বাই মিলে সেবার গেছিলাম মধুপুরে। ডিসেম্বরের ভোরে শীত মেখে কু- ঝিক ঝিক রেলগাড়ি চেপে টুক করে পৌঁছে গেছিলাম মধুপুর। এরআগে পাহাড় দেখিনি,তাই মালভূমির লাল মাটি আর শালের বন বাদাড় টপকে রেলগাড়ি যখন ছুটছিল,রোদ চুপচুপে ন্যাড়া টিলাগুলো দেখে চোখ গোল্লা হয়ে যাচ্ছিল। আরও পড়ুন…