একজন অতিথির গল্প

রণিত দাশগুপ্ত on

ekjon-otithir-golpo1

স্টেশন থেকে টোটো বা সাইকেল রিক্সা করে আসা যায় শিবমন্দির পর্যন্ত। মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুটা গিয়ে পিসিমার বাড়ি। তবে সুনেত্রা এই রাস্তাটুকু হেঁটেই চলে এল। স্টেশন থেকে খুব বেশি দূরে তো নয়। মিনিট পনেরো। আর ট্রেন থেকে নেমেই পিসিমাকে ফোন করে দিয়েছিল। পিসিমা বলেছে শিবমন্দিরের সামনে নিজেই দাঁড়িয়ে থাকবে।

বাড়ি ছেড়ে খুব একটা বেশি বাইরে থাকে না সুনেত্রা। ভালোও লাগে না। কিন্তু এই পিসিমা বহুদিন বলেছে তার বাড়ি যেতে। তাছাড়া আগে মাঝেমাধ্যেই পিসিমা কলকাতা যেত। তখন পিসেমশাই বেঁচে। তাই সবার সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হত। কিন্তু দু-আড়াই বছর আগে পিসেমশাই মারা যাবার পর পিসিমা আর কলকাতা যায়নি। তারপর গত কয়েক মাস ধরে পিসিমা যখনই ফোন করে তখনই সুনেত্রাকে বাড়ি আসতে বলে। বারবার বলে, ‘যদি আমিও হঠাৎ তোর পিসের মতো মরে যাই, তাহলে তোকে আর আমাদের গ্রাম দেখানো হবে না।’ তাছাড়া বাবা-মাও অনেকবার বলেছে একবার গিয়ে কদিন থেকে আসতে। তাই অফিসে ছুটি নিয়ে সুনেত্রা এসেছে।

শিবমন্দিরের কাছে আসা মাত্রই পিসিমা প্রায় দৌঁড়েই এসে জড়িয়ে ধরল সুনেত্রাকে।  কতদিন পর দেখা। ভাইজিকে পিসিমা খুবই ভালোবাসে। পিসিমার ছেলে অভিষেকের থেকে দু বছরের ছোট সুনেত্রা। সুনেত্রার মনে হল পিসে মারা যাবার পরেই যেন হঠাৎ করে বুড়ি হয়ে গেছে পিসিমা।

‘যাক বাবা, অন্তত একবার তুই এলি। চল চল তাড়াতাড়ি বাড়ি চল। তারপর সারাদিন গপ্প করব। কত কত কথা জমে আছে জানিসই না।’

বাকি পথটুকু একবারের জন্যেও সুনেত্রার হাত ছাড়ল না পিসিমা। রাস্তায় দু এক জনের সঙ্গে দেখা হল। তারা জিগ্যেস করল, ‘কী গো, এই তোমার ভাইজি? যার আসার কথা ছিল?’

‘বাবারে! পিসিমা তুমি কি পুরো গ্রামকে জানিয়েছ নাকি যে আমি আসব?’

‘বাহ রে! জানাব না? কত আনন্দের কথা বল দেকিনি? সবাই জানবে না?’

সদর দরজা খুলে পিসিমা ভিতরে নিয়ে এল সুনেত্রাকে।  একটু এগিয়ে বাঁদিকে বাঁধানো পুকুর। পিসিমা বলল, ‘এই দ্যাখ আমাদের নিজেদের পুকুর। আর ওদিকটায় বাগান আছে। সব ঘোরাব তোকে। আজ তোর পিসেমশাই থাকলে দেখতিস কত খুশি হত।’

বাড়ির দাওয়ায় একজন বয়স্ক ভদ্রলোক আর দুজন মহিলা দাঁড়িয়ে ছিলেন। পিসি তাদের ডেকে বলল, ‘এই যে, এদিকে আয় পলির মা। আমার ভাইজি এসে গেছে। ওকে দোতলার দক্ষিণের ঘরে নিয়ে যা। ও ওখানে থাকবে।  আর সুনেত্রা, এই হল পলির মা, আমাদের এখানে কাজ করে। আর উনি তিরুদা, আমাদের মালি। এই বাড়িতেই থাকে। আর ও হলো রিনা। রান্না করে। যাও, তুমি পলির মার সঙ্গে গিয়ে ঘরটা দেখে নাও। আর একতলায় কলঘর আছে। হাত মুখ ধুয়ে নিও।’

দোতলায় যাবার জন্য একটু এগোনোমাত্রই পিসিমা পিছন থেকে আবার বলে উঠল, ‘ও হ্যাঁ, আমরা সবাই কিন্তু পুকুরে চান করি।’

‘পুকুরে? কিন্তু আমি তো সাঁতার জানি না।’

‘আচ্ছা, আচ্ছা। পলির মা তাহলে তোমার জন্য জল তুলে দেবে কলঘরে। ঠিক আছে?’

দোতলার এই ঘরটা সারাক্ষণ আলো হাওয়ায় ভরে আছে। বাইরে তাকালেই শুধু গাছ আর গাছ। তার সঙ্গে কিছু পাখির ডাক। সুনেত্রা জানলা দিয়ে দেখল পিসিমার বাড়ি আর পাশের বাড়িটা দোতলা। আর আশেপাশে এরকম বাড়ি চোখে পড়ল না। যা আছে সব ছোট ছোট বাড়ি।

দুপুরে খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখল একটি ছেলে সেখানে বসে। পিসিমা আলাপ করিয়ে দিল।

‘এ হচ্ছে শান্ত। আমাদের ঠিক পাশের বাড়িতে থাকে। খুব ভালো ছেলে। তুই আসবি বলে ওকেই বললাম আজ বাজার করে দিতে। ওইই তো সব নিয়ে এল। আজ বলেছি এখানে দুবেলা খেতে। শান্ত আমার খুব বড় ভরসা, বুঝলি। দরকারে-অদরকারে সবসময় ওকে ডাকি। আর ও চলেও আসে।’

‘ও কাকিমা, এত বেশি বেশি বলো না তুমি… উনি ভাবছেন আমি কী না কী… তেমন কিছু নই আমি…আসুন, বসুন। কাকিমা একটু বাড়িয়েই বলে। আমায় খুব স্নেহ করে তো, তাই।’ বলল শান্ত।

‘আজ কিন্তু সব রান্না আমি নিজে করেছি তোর জন্য। দ্যাখ কেমন হয়েছে। সব তোর প্রিয়। মুসুরের ডাল, আল পোস্ত, মুড়িঘন্ট, কাতলা মাছের ঝোল, চাটনি। আর রাতের বেলায় মাংস। আর শান্ত, তুই ওকে আপনি আপনি করছিস কেন রে?’ হাসিমুখে বলল পিসিমা।

‘ হ্যাঁ, আমাকে “তুমি” বললেই বরং আমি কমফর্টেবল। ওহ! পিসিমা, এত কিছু রান্না করেছ? এত খাওয়া যায় নাকি?’

‘কেন, তুমি কি ডায়েটিং করছ নাকি?’ শান্ত অল্প হেসে জিগ্যেস করল।

‘না না, তা নয়। কিন্তু এত কিছু। বাবারে! আর সব পিসিমা তুমি একা করেছ? কেন গো? অন্যরাও তো ছিল বলো।’

‘আরে তুই প্রথম এলি, আর আমি নিজে রান্না করে তোকে খাওয়াব না? নে নে, খাওয়া শুরু কর।’

খেতে খেতে শান্তর সঙ্গে আলাপটাও ভালোই হল সুনেত্রার। ভালো নাম শান্তনু।  গ্রামে সবাই তাকে শান্ত নামেই ডাকে। কী করে শান্তনু শান্ত হয়েছে সেটা অবশ্য কারোরই মনে নেই। সে বিকেলে গ্রামের কয়েকটা ছেলেমেয়েকে পড়ায়। কোনো চাকরি করার সেরকম ইচ্ছে তার নেই। নিজেদের চার-পাঁচ বিঘে দো-ফসলি জমি আছে। সেখানের কিছু কাজকর্ম দেখাশোনাও করে তার বাবার সঙ্গে।

খাওয়া যখন প্রায় শেষ, পিসিমা বলল, ‘শান্ত, একটু পরে সুনেত্রা কে নিয়ে গ্রাম ঘুরে দেখাস। নদীর ধারে ঘুরিয়ে আনিস। আমার তো জানিসই, খুব বেশিক্ষণ হাঁটতে পারি না। নাহলে আমিও যেতাম তোদের সঙ্গে।’

‘সে তোমায় বলতে হবে না। তোমার ভাইজির দায়িত্ব এখন থেকে আমার।’ কথাটা বলেই একটু থমকাল শান্ত। তাকাল সুনেত্রার দিকে। দেখল সেও একটু অবাক হয়ে একবার শান্তর দিকে তাকিয়ে আবার খাবারের দিকে মন দিল।

পুকুর পাড়ে বসে গল্প করছিল দুজনে খেয়ে ওঠার পরে। পিসিমার আবার দুপুরে একটু না ঘুমোলে হয় না। শান্তর সঙ্গে গল্পের মাঝেই সুনেত্রা মোবাইলে নানান ছবি তুলছিল। সেলফিও।

দুটো হাঁস সাঁতার কাটছিল। শান্ত সেদিকে তাকিয়ে বলল, ‘শুনলাম তুমি সাঁতার জানো না। শেখোনি কেন?’

মোবাইলটা পাশে রাখতে রাখতে সুনেত্রা অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা! পিসিমা সে কথাও অলরেডি বলে দিয়েছে?’

‘হ্যাঁ বলেছে, যাতে জলের ধারে গেলে আমি খেয়াল রাখি, সে জন্য।  তা, শেখোনি কেন?’

‘শেখা হয়নি। বিশেষ কোনো কারণ নেই।’

‘সাঁতার জানলে গ্রামের পুকুরে, বিশেষ করে নিজেদের পুকুরে সাঁতার কাটার একটা অভিজ্ঞতা হত। আর শহরের মেয়ের গ্রামের পুকুরে সাঁতার কাটার ব্যাপারটাও কিন্তু দারুণ হত।’

‘কীরকম দারুণ হত?’

‘সেটা পরে বলছি। এখন চলো, একটু ঘুরে আসি। হাঁটতে অসুবিধা নেই তো?’

‘না, না, কোনোভাবেই কোনো অসুবিধা নেই।’

এদিক-ওদিক-সেদিক ঘুরতে ঘুরতে, গাছপালা, আমবাগান, জামবাগান, পোড়ো বাড়ি, মাঠ, স্কুল, পুকুর, ধানক্ষেত ঘুরে শান্ত সুনেত্রা কে নিয়ে গেল নদীর ধারে। এখানে নদী বেশ চওড়া। ধার ধরে কিছুটা এগিয়ে গেলে একজায়গায় কয়েকটা নৌকা বাঁধা। শান্ত একজন মাঝিকে ডেকে বলল, ‘তোমার নৌকায় কিছুক্ষণ বসছি। আমার সঙ্গে যাকে দেখছ, সে কলকাতা থেকে এসেছে। আমাদের পাশের কাকিমার বাড়িতে।’

‘মাঝি কি তোমার চেনা? কোনো আপত্তি করল না তো?’

‘ওই আর কি। অনেককে চিনি। অনেকে চেনে। এই পর্যন্ত। তা, কেমন লাগল আমাদের গ্রাম?’

‘ভালোই। খারাপ কেন লাগবে? সব থেকে বড় কথা আমরা তো শহরে সারাদিন পলিউশনের মধ্যে থাকি। তার জায়গায় এখানে শুধু সবুজ আর সবুজ। ফ্রেশ এয়ার। বেশ কয়েকটা ছবি আর সেলফি তুলে রেখেছি। বাড়ি গিয়েই ফেসবুকে পোস্ট করব। ক্যাপশন দেবো, সবুজের মাঝে আমি। আচ্ছা, তোমার সন্ধেবেলা পড়ানো আছে না?’

‘না, আজ নেই। ছুটি নিয়েছি। দুপুরেই ফোন করে বলে দিয়েছি, কলকাতা থেকে আমার বন্ধু এসেছে। আজ তাই আমার ছুটি।’

‘এর মধ্যে বন্ধুও বানিয়ে ফেললে?’

‘বন্ধু হতে সময় লাগে না ম্যাডাম। বন্ধু হয়ে থাকতে সময় লাগে।’

‘একটা ব্যাপার আমার বারবার মনে হচ্ছে জানো। আমাকে নিয়ে তোমরা খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছ। এই দ্যাখো, সকাল সকাল তুমি আমার জন্য বাজার করে আনলে, বিকেলে পড়ানোর থেকে ছুটি নিলে, পিসিমা নিজে সব রান্না করল, কাল আবার শুনলাম দাদা অফিস ছুটি নিয়েছে আর তুমি সেই দুপুর থেকে আমার খেয়াল রাখছ, সঙ্গ দিচ্ছ। সব কাজ আমায় কেন্দ্র করে। নিজেকে কেমন যেন ভিআইপি মনে হচ্ছে।’  

‘না, না, তেমন কিছু নয়। তুমি আমাদের গ্রামের অতিথি। অতিথির যত্ন করা কর্তব্য। তারা তো ভগবান। আর যা যা দেখছ, সে তো সব আমাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার। তুমি প্রথম গ্রামে এসেছ দেখে তোমার এরকম মনে হচ্ছে।’

‘কেমন যেন মনে হয়, আমি এসে সবাইকে ব্যস্ত করে তুলেছি। আচ্ছা, তুমিই বলো, আমার জায়গায় যদি কোনো ছেলে আসত, তুমি কি তার সঙ্গেও এভাবে থাকতে?’

‘তখন আড্ডা হত অন্যরকম। তখন ঘুরে বেড়ানোর জায়গাও হত অন্য। আচ্ছা তুমি কোনোদিন কোনো গ্রামে থাকোনি না?’

‘না, আমি বাড়ির বাইরে খুব কমই রাত কাটিয়েছি। আমার ঠিক ভালো লাগে না।’

‘আচ্ছা ভাবো, তোমার পিসিমা যখন তোমাদের বাড়ি যেত, তখন কি তোমরা যত্ন করতে না? খেয়াল রাখতে না?’

‘এতটাও বোধহয় না। কিছুটা কিছুটা।’ বলে হাসল সুনেত্রা। ‘এসো, এখানে দুজনের একটা সেলফি নিই।’

অন্ধকার হয়ে এসেছিল। সেলফি তোলার পরে ওরা উঠে পড়ল। এবার বাড়ির পথ। কিছুটা রাস্তা দুজনে চুপচাপ হাঁটছিল। আশপাশ থেকে গভীর হচ্ছিল ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। সুনেত্রার বেশ ভালোই লাগছিল পরিবেশটাকে।

‘আচ্ছা বললে না তো, পুকুরে সাঁতার কাটার ব্যাপারটা দারুণ হত কেন?’ হঠাৎ শান্তকে জিগ্যেস করল সুনেত্রা

‘দেখুক পাড়া পড়শিতে কেমন মাছ গেঁথেছি বড়শিতে……’ সুর করে গেয়ে উঠে শান্ত গম্ভীরভাবে তাকালো সুনেত্রার দিকে। সেই তাকানো দেখে সুনেত্রার খুব হাসি পেল। বলল, ‘শোনো, সবাই ঠিক গম্ভীর মানুষ হতে পারে না।’

‘সেটা ঠিকই বলেছ। কিন্তু আমি হতে পারি। নাহলে কি আর আমার ছাত্রছাত্রীরা পড়া করত?’

‘তারা কি কেউ পাশ করে?’

‘মানে?’

‘না, যাদের মাষ্টার এভাবে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই ফাঁকি মারে, তারা কীরকম স্টুডেন্ট হবে ভাবছিলাম।’

‘ঠিকই বলেছ। তা আমার স্টুডেন্টদের সঙ্গে কাল আলাপ করাব। নিজেই না হয় দেখবে তাদের। এখন তো কদিন থাকবেই এখানে।’

কথা বলতে বলতে শিবমন্দির চলে এল। তার পাশের রাস্তায় গিয়েই সুনেত্রা আচমকা বলল, ‘ভাবছি, কাল ফিরে যাব।’

‘কালই! কিন্তু কয়েকদিন তো থাকার কথা তোমার।’

‘আসলে কী জানো, বারবারই আমার মনে হচ্ছে, আমার জন্য তোমরা খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেছ। আমি যেন তোমাদের এসে উপদ্রব করছি। আর আমার জন্য কেউ ব্যস্ত হোক, সেটা আমার পছন্দ নয়।’

‘ম্যাডাম, এটাই তো ভালোবাসার বাঁধন।’

‘বেশি ভালোবাসায় আমার অস্বোয়াস্তি হয়। এই যে একটা আগলে আগলে রাখা, এই যে সব কাজ ফেলে শুধু আমায় নিয়ে মেতে থাকা, এই যে মারাত্মক যত্ন, এই যে প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখা, এসবে আমার নিজেকে কেমন যেন বন্দী বন্দী মনে হয়। আর আমি কোনোভাবেই কোনো সময় বন্দী থাকতে ভালোবাসিনা। না, ভালোবাসাতেও নয়।’

‘তার মানে সুনেত্রা তোমায় ভালোবাসা যাবে না? তোমায় ভালোবাসতে পারব না?’

হাঁটতে হাঁটতে ওরা বাড়ির সামনে এসে গিয়েছিল। সুনেত্রা শান্তর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে ঠেলে লোহার গেটটা খুলল। ক্যারাং করে একটা আওয়াজ হল। আর সঙ্গে সঙ্গেই ভিতর থেকে পিসিমা চেঁচিয়ে বলে উঠল, ‘এসে গেছিস তোরা? আয় আয়। তা কেমন ঘুরলি বল? আর দ্যাখ সুনেত্রা তোর দাদাও আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি এসে গেছে তোর জন্য।’



রণিত দাশগুপ্ত

অনিয়মিত লেখালিখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। যেমন - আজকাল, তথ্যকেন্দ্র, দৈনিক স্টেটসম্যান, একদিন, কয়েকটি ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্ম।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।