একটি আজগুবি গল্প

শুভাশিস চক্রবর্তী on

আমি উঠে দাঁড়িয়ে প্যান্টের চেনটা লাগালাম। পূবপাড়ার মাঠে মেলা বসেছে। সরকারী মেলা। লম্বা উঁচু পুতুলনাচের প্যান্ডেলের আলো এত দূরে এই বন্ধ স্কুলঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে ঢুকে আমার মুখে এসে পড়ল। ক্ষীণ আলো। যুদ্ধের শেষ আলোর মত।
লতিফ লুঙ্গিটা একবার ঝেড়ে নিয়ে পড়ল। বিলাস বলল, এবার?
মেয়েটা আমের শুকনো আঁটির মত ইঁটের ভাঁজে পড়ে আছে – খোসা ছাড়া, রস ছাড়া। আমার কষ বেয়ে সেই রস নামছে। লম্বা জিভ বের করলাম।
লতিফ বলল, ওই! মেয়েটা হাসে ক্যান?
বিলাস বলল, মাথাত কি পোকা ঢুকিসে তোর? হাসবে ক্যান?
– দ্যাখ, তাকায় দ্যাখ, মাগী হাসে। অন্ধকারে কারো হাসি কান্না কিছুই দেখা যায় না।
বিলাস বলল, চুপ! এখন কি করবি সেটা ক?
আমি বললাম, নদীর ধারে ফেলে দিয়াসি? সন্ধ্যাবেলা কেউ দেখতে পাবে না।
এইবার সত্যি সত্যিই মেয়েটা হাসছে মনে হল। লতিফ মরা মাছের মত মেয়েটাকে ঠাঁটিয়ে একটা চড় মাড়ল, মাগী কাঁদ, চিৎকার কর।
সাথে সাথে বিলাসও বলল, কিরে কথা কানে যায় না। মেয়েটা না কেঁদে হেসেই চলেছে।
সে চকগোবিন্দ গ্রামের হবে বোধহয়। ওতে কিছু না। নাম, ঠিকানা, বয়স, জাত, পাত – এগুলো কোনদিনই আমরা দেখি না। দেখে কাজ নাই। আমাদের কাছে সব এক।
লতিফ মেয়েটার খোলা বুকের উপর বসে গলা টিপে ধরল, শালা ঢুকানোর সময়ও আওয়াজ করলি না। চিল্লা, চিল্লা মাগী। চিৎকার না শুনলে মজা নাই।
বিলাস ঘরে এদিক ওদিক করতে লাগল, চিল্লা জোরে জোরে, শালা মরা সাপ। সে অন্ধকারের মধ্যেই বাতিল স্কুলঘরে একটা লোহার রড জোগার করে ফেলল। আমি পা দুটো ফাঁক করে ধরলাম। বিলাস লোহার রডটা মেয়েটার যোনিতে ঢুকিয়ে দিতেই কে যেন চিৎকার করে বলল, বাপ! কি করিস?
হকচকিয়ে গেলাম, মেয়েটার বুকের উপর থেকে ছিটকে সরে গেল লতিফ। ওই, কাক কোস বাপ? কাক কোস?
মেয়েটা হাসছে, কন্ঠটা কোথা থেকে যেন বলল, মিছামিছি কই, এটা ভ্যাবো না। কারণ আচে।
– কারণ আচে! কি কারণ?
– তুমি বুঝবা? লতিফ হাঁপাতে লাগল। কন্ঠটা বলল, এখুনি আমার জন্ম হইছে। শুনলা। আমি ভিতরেই আচি। লতিফ চিৎকার করে উঠল। বিলাস যোনির রডটা টেনে বের করে ফেলল।  সাথে পেচানো দড়ির মত কি সব বেরিয়ে এলো। আমি সেইসব ধরে টানতে লাগলাম।
মেয়েটাকে ছেঁচড়ে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে চমকে উঠলাম। ব্যাপক ভিড় জমেছে। সেই ভিড় থেকে শুধু হাসি ভেসে আসছে। ভয়ংকর অথচ মরা হাসি। হাসি শুনে হাত পা কাঁপতে লাগল। কত অজানা অচেনা সব মানুষ। সব আমাদেরই মত দলে দলে এসে হাজির হয়েছে। সবাই একটা করে কি যেন কি যেন ছেঁচড়ে টেনে এনেছে। সেটা এক একটা যোনি সর্বস্ব শরীর ছাড়া আর কিছু না। লক্ষ্য করলাম আমরা সবাই পাল্টে যাচ্ছি। আমরা কেন জানি একরকম দেখতে হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে।

শুভাশিস চক্রবর্তী

জন্ম আশির দশকের গোড়ার দিকে। জন্ম দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কাঁজিয়ালসী গ্রামে হলেও স্থায়ী বসবাস বালুরঘাটে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক। পেশায় ও নেশায় চিত্রশিল্পী, কর্মসূত্রে দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও মাটির টানে আবার আত্রেয়ীর পাড়ে। মূলত ছোটগল্প লেখায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নাটকের দলের সাথেও জড়িত। দধীচি, আয়নানগর, আত্রেয়ীর পাড়া সহ কিছু পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।