আয়োজন

সৌম্য দত্তশর্মা on

রূপসা ব্যারাকপুরের বাড়ির সামনে রিক্সা থেকে নামল তিনটের দিকে। দুপুর তখন আস্তে আস্তে বিকেলের গায়ে ঢলে পড়ছে। হালকা হাওয়া দিচ্ছে দক্ষিণ দিক থেকে। রূপসা বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ালো কিছুক্ষণ, এই তো গেটের সামনে বকুল গাছটা আগের মতই ছায়া বিলোচ্ছে, তবে কুয়ো পাড় টায় মনে হলো শ্যাওলা জমেছে অনেকদিনের অব্যবহারে। সাত্যকি একা বাড়িতে থাকলে যে কোনো কিছুই গুছনো থাকবে না সেটা ওর থেকে ভালো আর কে জানবে!

তিন বছর আগে সাত্যকিকে ছেড়ে যাওয়ার পিছনে সবথেকে বড় কারণ ছিল সাত্যকির এই জীবনযাপন। পাঁচ বছর প্রেম করে তবে ওদের বিয়ে, তারপর আরও দু বছরের প্রাত্যহিক লড়াই। বিয়ের পর প্রেমের সংজ্ঞা বদলায়, কিন্তু প্রেমের আধার টাই বদলে গেলে তো সমস্যা। বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো রূপসা। বাইরে থেকে তালা দেওয়া। সেটাই স্বাভাবিক, এখন সাত্যকির অফিসে থাকার কথা। রূপসার কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে। আসলে সেরকমই তো কথা ছিল ওদের। তিনবছর কোনো যোগাযোগ রাখবে না ওরা, নো চিঠি, নো ফোন। ঠিক তিন বছর পর রূপসা ফিরে আসবে সাত্যকির কাছে। তিন বছর – ছত্রিশ মাস – নিজেকে বদলানোর সময় সাত্যকির, দায়িত্বশীল হাসবেন্ড হয়ে ওঠার শেষ সুযোগ।

ড্রয়িং রুমে এসে বসে রূপসা। ফ্যানের সুইচ, লাইটের সুইচ সবই মনে আছে ওর। সেই চেনা ঘর, চেনা গন্ধ – অনেকদিন পর ভালো লাগে রূপসার। বেশ গুছনো লাগছে চারদিক, বাইরে জামা কাপড় কিছু এলোমেলো ভাবে পড়ে নেই। নিজের মনে হাসে রূপসা, ওষুধে কাজ দিয়েছে তাহলে। সাত্যকি চিরকালই অগোছালো, নিয়মের বাইরে। বিয়ের আগে এই পাগল চালচুলোহীন লেখককে প্রেমের শ্রেষ্ঠ কাণ্ডারী মনে হলেও, বিয়ের পর একা সব কিছু সামলে ওঠা কঠিন ছিল রূপসার পক্ষে। সাত্যকি কথা দিয়েছিল নিজেকে বদলাবে ও। শুরুও করেছিল, একটা চাকরি ও জয়েন করেছিল, কিন্তু ছ’মাসের মধ্যেই গন্ডগোল। সপ্তাহে এক দু দিন কামাই, সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে বন্দী রাখা, খাতার পর খাতা লেখা, ছবি আঁকতে ব্যাগ গুছিয়ে একাই বেড়িয়ে পড়া – রূপসা যেন নিজের বাড়িতেই দূরের কোনো গেস্ট হয়ে উঠছিল। যোগাযোগ কমে আসছিল ওদের। প্রথম দিকটা রূপসা মানিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করত, কিন্তু দিন দিন শিল্পীর স্বাধীনতা ওকে আটকে ফেলছিল প্রেমের অন্ধ গলি পথে। কত দিন বাড়িই ফিরত না সাত্যকি, বকুলগাছটা আঁকড়ে রূপসা সারারাত কাঁদত। তারপর কিছু বন্ধুবান্ধব জুটল, শনি, রবি বাড়িতে সাহিত্যের আসর – সাথে মদ্যপান আর আঁতলামো। রূপসা যেন সাত্যকির উপন্যাসের নায়িকা হয়ে রয়ে গেলো শুধু – সত্যি জীবনের নায়িকা হওয়া হলো না ওর।

ভিতরের ঘর গুলো ঘুরে দেখল রূপসা। সব পরিপাটি করে সাজানো, ঘরের যে কোণায় মদের বোতল জমা করে রাখত ওর বর, তাও নিট এন্ড ক্লীন। ওয়ার্ডড্রবে জামা কাপড় থাকে থাকে গুছিয়ে রাখা। মনে মনে সুপ্রীতিকে থ্যাংকস জানায় রূপসা, ওরই তো ফান্ডা ছিল এই আলাদা থাকার প্ল্যান টা। আজ কত বদলে গেছে সাত্যকি – ঠিক যেমনটি ও চেয়েছিল! আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো রূপসা, ভালো করে দেখল নিজেকে, নিজের বক্র রেখাগুলো উপভোগ করল খানিকক্ষণ। সাত্যকি বলত – রূপের সাগর ‘রূপসা’। আজ আসুক অফিস থেকে, তিন বছরের পাওনা আদর মিটিয়ে নেবে। ড্রেসিং টেবিলের উপর চোখে পড়ল phillips এর রেকর্ডারটা। প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে সাত্যকি নিয়ে এসেছিল – বৌ এর গান রেকর্ড করবে বলে। রূপসা রেকর্ডও করেছিল দু তিন টে গান। কিন্তু বরের আর শোনার সময় হয় নি। নিজের লেখা, বন্ধুবান্ধবের ভিড়ে সাত্যকি ভুলেই গেছিল রেকর্ডার টার কথা। অভিমানে রূপসা আর নিয়ে যায় নি ওটা।

নিজের মনেই প্লে করল ও। খানিকক্ষণ ঘরঘর করে সাত্যকির গলা ভেসে এল –
“কি রূপু! ঘরদোর কেমন লাগছে? শোনো, তোমার প্রিয় জেসমীন ফ্লেভারের বডি শোপ রাখা আছে বাথরুমে। ঘরের জামা ভাঁজ করে রাখা শোয়ার ঘরের আলমারি তে। তুমি কখন আসবে তা তো জানি না, আমি হয়তো তখন বাড়ি থাকব না। তাই রেকর্ড করে রাখলাম। কি ইমপ্রেস্ড তো?”
ইমপ্রেস্ড বলে ইমপ্রেস্ড! রূপসার ইচ্ছা করছিল এক্ষুনি সাত্যকির মুখটা দু হাতে চেপে ধরে একশটা চুমু খায়! ও স্নান টা সেরে নিল, কাল রাত থেকে তো রাস্তায় রাস্তায়। ডালটনগঞ্জ থেকে বেরিয়েছিল গতকাল। সাত্যকিকে ছেড়ে রূপসা ঝাড়খন্ড চলে গিয়েছিল সেজ মামার কাছে। ওখানেই ছিল এই তিন বছর, একটা ছোট ফার্মে অডিটিং এর কাজ করত। শেষ দিকটা একা আর পারছিল না, ফিরে আসতে মন চাইত, নিদেনপক্ষে একটা ফোন। কিন্তু প্রমিস করলে তো তা ভাঙা যায় না। তাছাড়া সাত্যকি ও তো ফোন করে নি একবারও। যদিও এই আলাদা থাকা টায় ওর একদমই সায় ছিল না, কিন্তু বৌএর জেদের কাছে হার মেনে নেয়। ছেড়ে যাওয়ার দিন সারাবেলা সাত্যকি কথা বলে নি।

স্নান সেরে ঘরের ড্রেস পরে রূপসা স্টাডি রুমে এসে বসল। ওই তো সাত্যকির ডাইরি – ওর সতীন। হাতে তুলে নিল সতীনকে, এটা নতুন ডাইরি, গল্পগুলো পড়া না। পড়তে আরম্ভ করল- একটার পর একটা। আজ এতদিন পর লেখা গুলো ভীষণরকম আপন লাগছিল রূপসার। নিজেদেরই দেখতে পাচ্ছিল যেন প্রত্যেক পর্বে। সতীনকে মনে হচ্ছিল আয়নার অন্য পারের রূপসা। গল্পে ডুবে গিয়েছিল ও। ঠিক তখনই – ‘ক্রিং ক্রিং’ করে ডোরবেল বাজল। দৌড়ে দরজা খুলল ও – না সাত্যকি ফেরে নি এখনো। পিৎজা ডেলিভারি বয়। ওকে দেখে হাসল ছেলেটা –
“ম্যাম, এই নিন আপনার এক্সট্রা চীজ স্পেশাল margherita পিৎজা। প্রিপেইড অর্ডার ছিল, জাস্ট রিসিভড বলে সাইন করে দিন।”
Margherita পিৎজা! ওর সবথেকে ফেভারিট। সাত্যকির মনে আছে তাহলে! এমনি ই ভীষণ খিদে পাচ্ছিল ওর, ঝড়ের বেগে খেয়ে নিল ও। প্রায় সাড়ে ছ’টা বাজে। আর এক ঘন্টা কি দেড় ঘন্টার মধ্যে চলে আসার কথা ওর বরের।

রান্না ঘরে এসে ঠিক করল পরোটা আর আলুর দম করবে, সাত্যকি খুব ভালোবাসে। কতদিন করে না, একা থাকার সময় পরোটা আলুর দম খায় নি একদিনও, কেন জানি, ইচ্ছেই করে নি কখনো। ময়দার বয়ামটা চোখে পড়ছে না তো! সেকেন্ড তাকেই তো থাকত। আচ্ছা সাত্যকিকে ফোন করলেই তো হয়। তিন বছর ওভার – এখন আর বারণ নেই। ফোন নম্বর ডায়াল করে নি:শ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকে, সেই গলা শুনতে পাবে ও। যা! ঘরেই কোথায় মনে হচ্ছে রিং হচ্ছে। হ্যাঁ, এই তো ড্রয়িং টেবিলের নিচে সাত্যকির ফোন। ফোনটা হাতে তুলে নিল রূপসা। অবশ্য ফোন বাড়িতে ফেলে যাওয়া সাত্যকির পক্ষে অসম্ভব কিছু না। সেই একবার বিয়ের পর পর রূপসার ব্যাগ নিয়ে অফিস চলে গিয়েছিল, ব্যাগ ভর্তি মেয়েদের জিনিস, স্যানিটারি ন্যাপকিন – কি লজ্জার ঘটনা। সেদিন ঝগড়া করলেও আজ হাসি পেল খুব ওর। ফোন বাড়িতে, অগত্যা অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। সোফায় বসে সাত্যকির মোবাইল টাই ঘাটতে লাগল রূপসা। বলে আজকাল একজন মানুষের প্রকৃত প্রতিবিম্ব তার মোবাইল। না, কোনো অচেনা মেয়ের নম্বর ও পেল না। কনট্যাক্টস খুঁজতে খুঁজতে একটা অদ্ভুত নামে এসে দাঁড়িয়ে গেল রূপসা। ‘Pizza pre-order’। কি ভেবে ডায়াল করল ও, চারবার রিং হতেই একটি ছেলে ফোন টা ধরলো –
— “হ্যালো বলুন, পিৎজা হাট ডেলিভারি”।
— “আমার একটা মারগেরিটা অর্ডার ছিল”।
— “সেটা তো ডেলিভার্ড দেখাচ্ছে ম্যাম, ব্যারাকপুর তালপুকুর থেকে অর্ডার তো”।
— “আপনি কি করে জানলেন ঠিকানা টা?” অবাক হয় রূপসা, ও তো শুধু পিৎজার নাম বলেছিল।
–“ম্যাম, আপনি তো রেজিস্টার্ড নম্বর থেকে ফোন করছেন। সব ডিটেইলস আমি কম্পিউটার এ দেখতে পাচ্ছি”।
–“আচ্ছা, এই অর্ডার টা মনে হয় আমার হাসবেন্ড দিয়েছিলেন, কবে অর্ডার করেছিলেন বলতে পারবেন?”
— “অবভিয়াসলি ম্যাম, আর এটা সবথেকে ইউনিক অর্ডার। স্যার ঠিক একমাস আগে প্রি-অর্ডার করেছিলেন, এক্সট্রা পেমেন্ট করেছিলেন টু এনসিয়র – আমরা যেন আজই ডেলিভার করি, কেন ম্যাম? এনি প্রবলেম?”

ফোন রেখে দিল রূপসা। একমাস আগে? কেন?? অফিসের কাজে কি বাইরে গেছে সাত্যকি? ও বাড়ি থাকবে না বলেই কি রূপসার ফিরে আসার দিনে এত আয়োজন?
ডাইরি টা তুলে নিল ও আবার। সাত্যকির স্বভাব ডাইরির ক্যালেন্ডারে বিশেষ দিন মার্ক করে রাখা। এই তো আজকের দিন টা নীল কালিতে মার্ক করা। কিন্তু এই মাসে আজকের আগে, পরে আর তো কিছু নেই। এই তো আগের মাসের দশ তারিখ লাল দিয়ে সার্কেল করা, আসলে শেষ পাঁচ মাসের প্রত্যেকটার ই দশ তারিখে লাল রঙ।

কি বিপদ! এখন কোথায় খোঁজ পাবে সাত্যকির? ভাবতে ভাবতে আট টা বেজে গেল, বাড়ির মালিকের দেখা নেই কোনও। রূপসা বাইরের দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে এল। ওদের সব সময়ের কাজের লোক ছিল বুলুর মা। ও যাওয়ার আগে বুলুর মা কেই সাত্যকির দেখাশুনোর দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিল, মাঝে ঝাড়খণ্ড থেকে দু বার ফোনও করেছিল বুলুর মা কে, কিন্তু রং নাম্বার শুনতে হয়েছিল রূপসাকে। কাছেই বস্তিতে বাড়ি বুলুদের। তিন বছর পরেও রাস্তা চিনে ওদের বাড়ি পৌছে গেল রূপসা। দরজায় কড়া নাড়তেই কাঠের পুরনো পাল্লা ফাঁক করে বাইরে এসে দাঁড়ালো বুলুর মা, এত তাড়াতাড়ি, যেন ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল বয়স্ক মহিলাটি।
–“এসেছ দিদি, জানতাম আজ তুমি আসবেই। এই গরীব ঘরে কি ঢুকবে? এখানেই দাঁড়াও এক মিনিট।”
রুপসাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ভিতরে চলে গেল বুলুর মা। এসব হেঁয়ালী একদম ভালো লাগছিল না রূপসার। দু মিনিটের মধ্যেই ফিরে এল ওদের দীর্ঘ দিনের কাজের মাসি। হাতে একটা মাঝারি প্যাকেট।
— “এই নাও দিদি, দাদাবাবু রেখে গেছে, তোমাকে দিতে বলেছিল।”
— “কোথায় তোমার দাদাবাবু?” অস্থির লাগে রূপসার।
— “আমি কাল গিয়ে ঘর দোর সব ঝাড় দিয়ে এসেছিলাম। দাদাবাবু বলেছিলেন তুমি আজ আসবেই। এই নাও অন্য চাবিটা”।
যন্ত্রের মতো হাত বাড়িয়ে চাবিটা নেয় রূপসা। কথা বলেই চলে বুলুর মা।
— “শেষ দিকটা দাদাবাবু বড় কষ্ট পেয়েছে গো। প্রতি মাসে দশ তারিখে ওরা কেমো না কি দিত দাদাবাবু রে। সব চুল পড়ে অত সুন্দর লোকটা কি দেখতে হয়েছিল। মানুষটা ডাক্তারবাবুরে শুধু বলত আর দুটো মাস বাঁচানো যাবে না আমায়? কত রাত একটা চাদর গায়ে দিয়ে তোমাদের ওই বকুলতলায় বসে থাকত লোকটা! গাছ টারে জড়ায়ে খুব কাঁদত। তোমার মোবাইল নম্বরও ছিল না, আমার আগের ফোন টা চুরি হয়ে গেল না সেবার”। কাঁদতে শুরু করল বুলুর মা।

রূপসা প্যাকেট টা খুলে ফেলেছে। সমস্ত কথা সমুদ্রের শেষ ঢেউ এর মতো ওর উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল, গলা চিড়ে কান্না আসছিল, কিন্তু ও কাঁদতে পারছিল না একদম। প্যাকেটে ওদের দুজনের একটা ছবি। সাত্যকির আঁকা শেষ ছবি। বকুলগাছের নিচে ও রূপসার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। দু হাতে জড়িয়ে আছে বৌকে। হাসছে সাত্যকি, সব কিছু পাওয়ার হাসি। সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ছে সকল ফুলের রেণুতে, চাঁদের আলোর ভেলায়, বকুলতলায়, কুয়োপাড়ে, বাতাসের ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ধূলি কণায় – রমণী মনের গভীরে, শিল্পীর সৃষ্টিকারী সত্তার মজ্জায় মজ্জায়।

চোখ বুজে আসে রূপসার। মনের গহন থেকে উচ্চারিত হয় সাত্যকির নিখাদ ছন্দময়তা –

তোমার জন্য সাজিয়ে রেখেছি ঘর,
ঝরা পাতাদের সংগ্রাম আমরণ –
আমার মুক্তি তোমার হাসির পর’
বিদায়কালের এটুকুই আয়োজন ।।



সৌম্য দত্তশর্মা

নাম : সৌম্য দত্তশর্মা। জন্ম : ০৯-০১-১৯৮৫, প্রথম প্রকাশ : অবচেতন (রহস্য গল্প), রংছুট প্রকাশনী।লেখালেখি : বড়গল্প: লুনী, ঘনিষ্ঠকাল। গল্প: অবচেতন, ফেরা, আয়োজন, গ্রাস, টাকার মূল্য। আর অনেক আদরের কবিতাগুচ্ছ।লিখে কি পাই :কতবার জন্মেছি আমি, মরে গেছি প্রতিদিন রাতে।কাজের শেষে ঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার আগে দু একটা অনুগল্প, কিছু সদ্যজাত কবিতা, ছুটির দুপুরে ভূতের গল্প লেখার মধ্যে দিয়ে শহুরে মনটাকে হারিয়ে ফেলা যায় দিকশূন্যপুরের শালুক বনে। ব্যথা আঁকতে গেলে নাকি সত্যিই নোনা জলে ডুবে যেতে হয় গাঙচিলের মতো। আমিও ডুব দিই রোজকার বেহিসাবি কান্নাবাসরে, হাতে উঠে আসে যা, তাই পরিবেশন করি। আসলে সকলেই মুক্তির পথ খোঁজে, আমিও খুঁজি - এই অক্ষরমালার আদানপ্রদানের অলিতে, গলিতে...

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।