বাংলার প্রথম রাজবন্দী ননীবালা দেবীর দুর্দশাময় জীবন দর্শন

বটু কৃষ্ণ হালদার on

nonibaladebi

ইতিহাস হল মানব জীবনের অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। এক কথায় বলতে গেলে ইতিহাস হল মানব সভ্যতার কাছে এক জীবন্ত দলিল। সময় দিনপঞ্জি, জীবন দর্শন ঘটনা প্রবাহমান অতীত গুলো ঐতিহাসিকরা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ করে গেছে আমাদের সুবিধার্থে। সত্যের আলোকে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ ঘটনাগুলোকে পড়ে আমরা সমৃদ্ধ হই। ইতিহাস থেকে আমরা দেশ-বিদেশের জানা অজানা কাহিনী জানতে পারি। বিশ্বের বহুদেশের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাস,নানান যুদ্ধের কাহিনী, বিভিন্ন মনীষীদের জীবন দর্পণ গুলো সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ভারতীয় ইতিহাসে বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে রয়েছে দেশের রক্ত ঝরানো স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। দেশের স্বাধীনতা আনতে গিয়ে বহু নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমী হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে ছিল জীবনের জয়গান, নয়তো অকথ্য অত্যাচারে তার প্রাণ দিয়েছিল। আবার বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী স্বাধীনতার পরে যোগ্য সম্মান পাননি। সময় যত বয়ে চলেছে, ইতিহাসের তথ্য নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে। আমরা এযাবৎকাল যা পড়ে এসেছি তা সঠিক তো? কারণ ইতিহাসে পাতায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বহু সত্য ঘটনা। এই ইতিহাসের পাতায় স্থান হয়নি বহু নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমীদের। বহু সত্য ঘটনা চাপা পড়ে গেছে কালের আধারে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বহু সংগ্রামী উপেক্ষিত ও বঞ্চিত। কারণ সে সময় একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ঐতিহাসিকদের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছিল। কিন্তু কেন?

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের একদল বণিক রানী এলিজাবেথের কাছে এক আর্জি নিয়ে হাজির হন। তারা রাণীর কাছে পূর্ব এশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা করার জন্য সম্মতি ও রাজ সনদ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে ভারতে এলে ও তারা প্রায় দুইশত বছর এ ভারতবর্ষকে নির্মমভাবে শাসন-শোষণ করেন। চারিদিকে চলছে তখন ব্রিটিশদের প্রচন্ড আক্রমণ নির্মম অত্যাচার। দিনে দিনে ভারতীয় নাগরিকদের ওপর অত্যাচারের সীমা চরমে পৌঁছে ছিল। ফাঁসি দেওয়া দ্বীপান্তর মলদ্বারে রুল ঢুকানো,কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মনিতে সুচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু ও পায়ের চেপে ধরা, কয়েক দিন উপোস করিয়ে পিছনে হাত কড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দিকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রূলের মার, প্রকাশ্যে গুলি করা,হাতুড়ির ঘা মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়া, নাক মুখ ফাটিয়ে দেওয়া, সাঁড়াশি দিয়ে হাত পায়ের নখ উপড়ে নেওয়া এসব ছিল ব্রিটিশদের কাছে জলভাত। এমনভাবে দেশের সন্তানদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে ব্রিটিশরা। নারীদের ক্ষেত্রে অত্যাচারের মাত্রা ছিল অন্যরকম। বহু বন্দী নারীকে দিয়ে জোর করে তাদের কাম চরিতার্থ করত। দিনের পর দিন লাগাতার ধর্ষণ করতো। চলত মানসিক অত্যাচার, এমনকি শরীরের বস্ত্র ঘুরে যৌনাঙ্গে দুই বাটি লঙ্কা বাটা ঢোকানো হয়েছিল। হ্যাঁ, এমনটাই সত্যি। এমন নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন বহু নারী । কিন্তু সেই ইতিহাস রয়ে গেছে আড়ালে। ইতিহাসের পাতায় তাদের ঠাঁই হয়নি। এমন বহু বীর সন্তানদের কথা আমরা জানিনা। এমনই এক নির্মম ও নৃশংস অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। জেনে রাখা দরকার কে এই ননীবালা দেবী?

ননীবালা দেবী ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী। তাঁর জন্ম ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। পিতার নাম সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়ের নাম গিরিবালা দেবী। তৎকালীন সময়ে আমাদের সমাজে মহিলাদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হতো। নারীদের জন্য শিক্ষার কোন ব্যবস্থা তেমন ছিল না। নিয়মের গণ্ডি শিখরে ননীবালা দেবীর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হল না। ১৮৯৯ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের ৫ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। ননীবালা দেবীর বয়স মাত্র ষোল। স্বামীহারা নাবালিকা ননীবালা দেবীর জায়গা হল বাপের বাড়িতে। উনিশ শতকের সময়ে বিধবা মহিলা হওয়া সত্ত্বেও নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা শিখেছিলেন। সে সময় চারিদিকে চলছে অরাজকতা, ব্রিটিশদের চরম অত্যাচার। চোখের সামনে এমন নির্মম অত্যাচার দেখে গোপনে নাম লেখালেন বিপ্লবী দলে। বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে বিপ্লবের দীক্ষা নিলেন। অমলেন্দু চ্যাটার্জি ছিলেন ননীবালা দেবীর সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে। বিপ্লবের দীক্ষা মন্ত্র মাথায় নিয়ে দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানান ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতে শুরু করে। শুধু তাই নয় দক্ষতার সাথে সেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তার আচার ব্যবহারে এতটুকুও বোঝার জো নেই যে তিনি একজন বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্যা। বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য তিনি ছিলেন ভায়া, বা মিডিয়া। বহু অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। ইতিমধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯১৪ সালে। বাঘাযতীন ও রাসবিহারী বসুর মতো বাঘা বিপ্লবীদের মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাই বিদ্রোহের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বিপ্লবী রাস বিহারী বসু ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। এদিকে ১০ সেপ্টম্বর ১৯১৫ সালে বালেশ্বরের যুদ্ধে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘাযতীন শহীদ হন। বাংলার মুক্তি সূর্য যেন অচিরেই অস্তমিত হতে লাগলো। তার মৃত্যুতে বাংলার বৈপ্লবিক কর্মসূচিতে অভাবনীয় ক্ষতি পূরণ হয়ে গেল। তবে তার সাথীরা শহীদ বাঘা যতীনের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য সেই গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।

১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত জার্মান যোগাযোগ এবং তারপর পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে সেই সম্পর্কে পুলিশ কলকাতার শ্রমজীবী সমবায় নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করতে যায়। তল্লাশির সময় এই প্রতিষ্ঠান এক সক্রিয় বিপ্লবী অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন, কিন্তু সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেফতার হন। বৈপ্লবিক শিক্ষা গুরু অমর চ্যাটার্জী ও তার কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস হুগলির রিষড়াতে আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী। রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেফতারের সময় “মাউজার” পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে কথা দলকে জানিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু সে সময় পিস্তলটা খুব জরুরি ছিল। কিন্তু কিভাবে এর সন্ধান জানা যাবে, তা নিয়ে চলল বিপ্লবীদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সুস্থ সমাধানের পথ বেরিয়ে এলো। জেলে ঢুকিয়ে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের কথা জানতে চললেন বাংলার দুঃসাহসী এক বিধবা ননীবালা দেবী। তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার রক্তচক্ষু কে উপেক্ষা করার মত দুঃসাহস কোথায় ছিল নারীদের ছিল না। কিন্তু বিধবা ননীবালা দেবী সমাজের নিয়মের গণ্ডি শিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথায় সিঁদুর পরে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫ ১৬ সাল নাগাদ এক বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে এমনভাবে সিঁদুর পরাটা ছিল মৃত্যুর সমান। তিনি জানতেন যদি ধরা পড়েন, সমাজ তাকে মেনে নেবে না। কারণ তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার সাথে বর্তমান সমাজের মধ্যে ছিল বিস্তর ফারাক। সে ভয় কে তিনি আমল দেননি। বিধবা ননীবালা শতবার সাজে সিঁদুর পরে এক গলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে পিস্তলের সন্ধানে নিয়ে বেরিয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে। এমন দু সাহসিক কাজ বর্তমান সময়ের নারীরা করতে পারবে? তিনি সেখানের বিধবা মহিলা হয়েও করেছিলেন শুধুমাত্র দেশের জনগণের স্বার্থে। তবে এ মিথ্যা বেশিদিন চেপে রইল না। সত্য সামনে এলো। পুলিশ অনেক পরে জানতে পারল যে ননীবালা দেবী রাম চন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে তিনি রিষড়া তে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পুলিশের নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে পুনরায় বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছিল। তবে এখানেও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে মহিলা না থাকলে ভাড়া পাওয়া যেত না। অগত্যা আবার ডাক পড়লো ননীবালা দেবীর। শুধু তাই নয় বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী সাথে করে এনেছিলেন তার বড় পিসি কে। এই বড় পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। গোপনে সেই বাড়ি দুটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন পলাতক বিপ্লবী নেতা যদু গোপাল মুখার্জি,অমর চ্যাটার্জী,অতুল ঘোষ,ভোলা চ্যাটার্জী,নলিনীকান্ত কর বিনয় ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তীরা। এঁদের প্রত্যেকের মাথার দাম হাজার টাকা করে ঘোষণা হয়েছিল। সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে থাকতেন, আর রাতে নিশাচরের মত বেরিয়ে পড়তেন। পুলিশ এসে পড়ল এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষেই ভ্যানিশ হয়ে যেতেন। এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি ও বিপ্লবীদের নিমেষে পালাবার পর ননীবালা দেবীকে চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ সেই মুহূর্তে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবী কে গ্রেফতার করার জন্য। তার বাবার সূর্যকান্ত ব্যানার্জিকে পুলিশ বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে ১০ টা থেকে ৫ টা অব্দি বসিয়ে রেখে জেরা কত। ননীবালা দেবী কোথায় আছেন সেই খবর জানতে। একবার এদিক তো আবার অন্যদিক, এইভাবে পালিয়ে পালিয়ে চলতে থাকলো ননীবালা দেবীর জীবন। কিন্তু এবার সুযোগ এলো একটু অন্যভাবে। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। সেই বাল্য বন্ধু দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজি করালেন বিপ্লবী ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। পলাতক ননীবালা দেবী প্রবোধ মিত্রর সঙ্গে পেশোয়া তে চলে গেলেন। এক বিধবার জীবনে এটা ছিল এক দুঃসাহসিক অভিযান। কারণ যে সময় নারীরা ঘোমটা টেনে শুধুমাত্র সংসারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো, সে সময় এক বাঙালি বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে।

তিনি বেশিদিন এভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারলেন না। প্রায় ১৬ ১৭ দিন পরে পুলিশ সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবী কে গ্রেপ্তার করতে গেছে পেশোয়ার, তখন তিনি অসুস্থ। এভাবে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে বেড়াতে কলেরাতে আক্রান্ত হন। দুই থেকে তিন দিন সে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। পুলিশ প্রথমে তার বাড়ি ঘিরে রাখে,পরদিন পুলিশি হেফাজতে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাকে নিয়ে আসা হয় কাশির জেলে। এরপর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে।

কাশিতে নিয়ে আসার কয়েক দিন পরে জেলগেটের অফিসে এনে কাশির ডেপুটি পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জিতেন ব্যানার্জি তাকে জেরা করত। কিন্তু ননীবালা দেবী কিছুতেই মুখ খুললেন না। সব অস্বীকার করতেন, বলতেন তিনি কাউকে চেনেন না কিছুই জানেন না। এরপর শুরু হতো জিতেন ব্যানার্জীর তুই তু কারীর অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ। ননীবালা দেবী চুপচাপ। এতদিনে পুলিশ সুপারেনটেনডেন্ট বুঝতে পেরে গেছে এই মহিলা অতি সহজেই দমবার পাত্রী নয়। একদিন দুইজন জমাদারনী ননীবালা দেবী কে একটা আলাদা সেলে নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিলো। তারপর শরীরের সমস্ত কাপড় খুলে দু বাটি লঙ্কা বাটা যৌনাঙ্গে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তিনি চিৎকার করতে লাগলেন এবং সমস্ত শক্তি দিয়ে লাথি মারতে লাগলেন। এক পাষণ্ড,নির্মম,ভাষাহীন অত্যাচার করা হলো তার সঙ্গে। যা বর্ণনা করার ভাষা বোধহয় নেই বললেই চলে। এরপর আবার তাকে নিয়ে আসা হতো জেলগেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জির কাছে। শুরু হতো আবার জেরা করা। এমন অকথ্য অত্যাচার,শরীরের ভেতর লঙ্কার জ্বালা, তবুও তার মুখ থেকে একটা কথা জানতে পারলেন না। এরপর কাশির জেলে যেখানে মাটির নিচে একটা খুবই ছোট্ট পানিশমেন্ট সেল অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরি ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই কিন্তু আলো-বাতাস প্রবেশ করার জন্য সামান্য ঘুলঘুলি ও ছিল না। সুপারিনটেনডেন্ট জিতেন ব্যানার্জি নির্দেশে তিন দিন প্রায় আধঘন্টা সময় ধরে ননীবালা দেবী কে ওই আলো-বাতাসে অন্ধকার ছেড়ে তালা বন্ধ করে আটকে রাখত। যা ছিল জীবন্ত অবস্থায় কবরখানার যন্ত্রণা ভোগ করার সমান। তবুও তার মুখ খোলাতে পারল না। কিছুদিন পর ওই বন্ধ ঘরে আধ ঘন্টারও বেশি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে বন্ধ করে রাখা হল। শুরু হলো নির্মম মানসিক অত্যাচার, স্নায়ু শক্তিকে চূর্ণ করে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে আছেন মাটিতে

অগত্যা হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিশ ননীবালা দেবী কে কাশি থেকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে এলেন। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশ নের ধারা প্রয়োগ হলো তার বিরুদ্ধে। প্রথম মহিলা রাজবন্দী হিসেবে তিনি এলেন প্রেসিডেন্সি জেলে সেখানে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলেন জেল কর্তৃপক্ষ এমনকি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও তাকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন বাইরে গেলে খাবেন তাই সেই মত প্রতিদিন সকাল ন’টায় তাকে নিয়ে যাওয়া হতো গোয়েন্দা অফিসে। সেখানে আই.বি পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট গোল্ডি তাকে জেরা করত।

জেরা ঠিক যেমনভাবে চলত-
–আপনাকে এখানেই থাকতে হবে তাই বলুন কি করলে খাবেন?
–যা চাইবো তাই করবেন?
–করব।
–আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের স্ত্রী সারদা মায়ের কাছে রেখে দিন তাহলে খাবো।
গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।
ননীবালা দেবী তৎক্ষণাৎ একটা দরখাস্ত লিখে দিলেন। আইবি পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট গোল্ডি কাগজের টুকরো ছিঁড়ে দলা পাকিয়ে কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত পাখির মতো লাফিয়ে ওঠে ননীবালা দেবী ,সজোরে এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। বললেন ছিঁড়ে ফেলবে তো আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলেন কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোন মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারার আগেই অন্য সিআইডি-র তাকে ধরে ফেলে। ভাবতে অবাক লাগে প্রায় ১০০ বছর আগের এক বাল্য বিধবা মহিলার দুঃসাহস দেখে। কারণ বর্তমানে সভ্য শিক্ষিত সমাজের অর্জুন আজ নির্বিকার,অবিচল। অন্যায় দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ থাকে।
জেলে থাকাকালীন একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি মাসিমা নামে পরিচিত ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে অস্ত্র আইনের সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি। ননীবালা দেবী জানতে পারলেন সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবী বাড়িতে সাতটা মাউজার পিস্তল পাওয়ার অপরাধী দুকড়িবালা দেবী দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড সাজা ঘোষণা হয়েছে। রাখা হয়েছিল তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদিদের সঙ্গে যার অর্থ হলো চোর ডাকাতের সাথে একি সেলে। অথচ রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে রাখা হয়। কিন্তু তাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়নি, অসম্ভব খাটানো হত। প্রতিদিন প্রায় আধ মণ ডাল ভাঙতে দেওয়া হতো। এভাবে যে কোন মত এই সমস্যার সমাধান হবে না সেটা বুঝতে পারলেন ননীবালা দেবী। তাই মতলব স্থির করে ফেললেন অনশন করবেন। অনশনের ১৯ ২০ দিন চলছে, আবার ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে এলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট বললেন আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কি করলে খাবেন বলুন?
ননীবালা দেবী জবাব দেন
–আমার ইচ্ছা মত হবে?
–হ্যাঁ হবে।
–তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণকন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।
ম্যাজিস্ট্রেট জিজ্ঞাসা করলেন, ব্রাহ্মণ কন্যা কেউ আছেন এখানে?
ননীবালা দেবী বললেন, আছেন দুকড়িবালা দেবী।
–আচ্ছা তাই হবে।
এরপরের সমস্ত নতুন বাসন-হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পর ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। সেই সাথে দুকড়িবালা দেবী কে ও পরিশ্রম এর হাত থেকে মুক্তি দিলেন। এই ভাবে দুই বছর বন্দী জীবন কাটিয়ে দিলেন। ১৯১৯ সালে অবশেষে ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এল। জেল থেকে ফিরে এলেন তাঁর পৈতৃক বাড়িতে। অথচ সেখানে ঠাঁই পেল না দেশের অন্যতম বিদ্রোহিনী নারী ননীবালা দেবী। প্রথমেই ছিল পুলিশের ভয়, দ্বিতীয় ছিল সামাজিক। তৎকালীন সমাজের এক বিধবা হয়ে শাঁখা-সিঁদুর পরে পর স্ত্রীর সাজা, এরপর পর পুরুষের সাথে এক ঘরে থাকা বা পেশোয়া তে যাওয়া, এসব কারণেই সমাজ তাকে মেনে নেয় নি। শুধু সমাজ নয়, তাকে গ্রহন করেনি নিজের বাড়ির লোকজন আত্মীয় পরিজনরা। অন্যদিকে তার নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাচেনা সবই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমত অবস্থায় উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাকে আশ্রয় নিতে হয়। আবার কারও মতে কোন পূর্ব পরিচিত অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে। সুতো কেটে রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে দিন কেটে ছিল এক নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমী র। সমাজ এবং নিজের আত্মীয় স্বজনদের উপরে রাগে দুঃখে অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন। পরবর্তীকালে কোন দেশ নেতাদের কাছে গেলেন না। যে মহিলা নিজের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ কোনো খোঁজখবর করল না।

সবথেকে দুঃখজনক ব্যাপার হল দেশ স্বাধীন হওয়ার কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। যে দেশের জন্য তিনি এমন নির্মম অত্যাচার সহ্য করেছিলেন, স্বাধীনতার ৭৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তিনি বঞ্চিত রয়ে গেলেন। বেঁচে থাকাকালীন ও এমন দেশ প্রেমের খোঁজখবর নেয়ার প্রয়োজন টুকরো কেউ মনে করল না। ইতিহাস তো দূরের কথা, তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাকে মনে রাখেনি। একটা তথ্য সূত্র থেকে জানা যায়, কোন এক বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায় বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে, যদিও তার নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম ৪২) তাকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, পাওনা বলতে শুধু এই টুকুই। বিধবাদের সধবা সাজতে নেই, দেশের স্বার্থে সধবা সেজেছিলেন, ছোট্ট কুঠুরি পানিশমেন্ট ছেলে শ্বাস নিতে না পেরে বহুবার অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, দুই বাটি লঙ্কা বাটা তার শরীরের গোপন অঙ্গে প্রবেশ করানো হয়েছিল,কেমন নির্মম অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেও বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতের বুকে এক নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমিকে অনাহারে কাটাতে হয়েছিল বহুদিন। যে দেশের মানুষ স্বাধীনতা প্রেমীদের সম্মান দিতে শিখেনি, স্বাধীনতা প্রেমীদের দুঃখ কষ্ট উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেনি, সে দেশের ভাগ্যে চরম দুর্দশা ছাড়আর কিছুই থাকতে পারেনা। যে দেশের রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে এমন বহু নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমীদের কে ইতিহাসের পাতা থেকে বঞ্চিত করেছে সে দেশের ইতিহাস শুধুমাত্র মিথ্যা ছাড়া আর কি বা শিক্ষা দিতে পারে। আমরা যদি ইতিহাসকে একটু উপলব্ধি করার চেষ্টা করি, তাহলে বুঝতে পারবো প্রকৃত ইতিহাস ইতিহাস থেকে এতদিন আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আমরা এমন নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমীদের দেশপ্রেমের ইতিহাস জানার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। ইতিহাসের পাতায়়় তাদের এতটুকুু সম্মান প্রদর্শন করার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি কেউ।
এরই কারণে স্বাধীনতা লাভের ৭৪ বছর পরেও ভাবতে বাধ্য হই,সত্যিই আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম তো?কারণ স্বাধীনতার এত বছর পরেও এ ভারতবর্ষের এক শ্রেণীর বর্বর মানুষ আজও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেনি,দেশপ্রেমীদের সম্মান করতে শেখেনি,দেশের পতাকাকে অবমাননা করতে শিখেছি, নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আজও ভারতবর্ষে উলঙ্গ জারোয়াদের দেখতে বাইরে থেকে লোকজন আসে। যে ভারতবর্ষের বুকে মানুষ এখনও অসভ্য ও উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেই ভারত কে কিভাবে বলবেন,সভ্য দেশ।
অথচ বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় আমাদের দেশের অর্থমন্ত্রী জেল খাটে। শুধু তাই নয়,জেল খেটে আসা নেতা মন্ত্রীদের জন্য ফুলের মালা নিয়ে বহু মানুষ জেলের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। তাদের নামে স্লোগান দেওয়া হয়,জয়ধ্বনী দেওয়া হয়। মূর্খ ও অযোগ্য ব্যক্তিরা নেতা মন্ত্রী হয়ে যায়। গুন্ডা মস্তানদের হাতে চলে যায় সমাজের লাগাম। বিবেকবান,বুদ্ধিজীবী,শিক্ষিত যুব সমাজ মূর্খের মিছিলে রাজনৈতিক পতাকা নিয়ে পা মেলায়। মৃত্যুর পরে ও সেই সব অযোগ্য নেতা-মন্ত্রীদের মূর্তি স্থাপন করা হয়। এখন তো আবার পশ্চিমবাংলায় ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব করে, কিংবা পরকীয়ায় ধরা পড়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হলে আঞ্চলিক দলগুলির কৃপায় তাদের কপালে ও শহীদ তকমা জুটে যায়। মোড়ের মাথায় বেশ ঘটা করে তাদের মূর্তি ও বানানো হয়। এসব নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা। অথচ প্রকৃত দেশপ্রেমীদের মূর্তি বা একটা ফুলের মালা তো দূরের কথা, জীবিত অবস্থায় দুবেলা দুমুঠো অন্নের সংস্থান কেউ করে দেয় না। এভাবেই অবহেলায়,নীরব অভিমানে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী পৃথিবী ছেড়ে ছিল। তবে সমাজব্যবস্থা চলবে কালের নিয়মে,স্বার্থবাদী মানুষ থাকবে,আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গকারি নেতা মন্ত্রী থাকবে, ধর্ষক বিধায়ক থাকবে,তবুও তাদের মধ্যে থেকে খুঁজে নিতে হবে,নেতাজি,বিবেকানন্দ,বিদ্যাসাগর, ভগৎ সিং,ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা,ননীবালা দেবী’দের। যাঁরা সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়ে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত শুধুমাত্র দেশের মাটিকে আঁকড়ে ধরে স্বপ্ন দেখতে থাকবে।


(তথ্য সংগৃহীত)


বটু কৃষ্ণ হালদার

জন্ম: ১৯৮৫ সালে সুন্দর বনের গো ব্লকের অন্তর্গত পাঠান খালির কামার পাড়া গ্রামে। পিতা- সনৎ কুমার হালদার, মাতা- ঊষা রানী হালদার।মাধ্যমিক পাশ পাঠান খালি আদর্শ বিদ্যা পিঠ থেকে ২০০০ সালে। এর পর উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতায় চলে আসা কাকুর বাড়ি সুভাষ গ্রামে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজপুর বিদ্যানিধি হাই স্কুল থেকে ২০০২ সালে। ইতিহাসে অনার্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন পাস করেন কলেজ স্ট্রিটের সংস্কৃত কলেজ থেকে ২০০৬ সালে।কলকাতা ইউনিভার্সিটি আলিপুর ক্যাম্পাস থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন২০০৮ সালে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ রেলওয়ে কর্মচারী। পোস্টিং শিয়ালদাহ। ২০১৪ সালে প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় পুরুলিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদপত্র মান ভূম সংবাদ পত্রে। দেশি-বিদেশি অনেক পত্রিকায় লেখালেখি, এমনকি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। লেখালেখি করছেন আনন্দবাজার, এই সময় আজকাল,সংবাদ প্রতিদিন,মানব সংবাদ সকাল সকাল যুগশঙ্খ দৈনিক সংবাদপত্র তে। আনন্দবাজারের দেশ পত্রিকায় লেখা ছাপা হয়েছে অনেকবার।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।