হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ

কমল সরকার on

সেই কবে শাল মুড়ি দিয়ে
কোণে বসে ফসল কুড়োনো শুরু ,
তারপর জীবনের ‘সহজ পাঠ’ পেরিয়ে
পা ফেলেছি কঠিন গদ্যে ।
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর জীবনের
হেঁটে চলা পথে
অবিচ্ছেদ্য ছায়ার মত
থেকে গেছে সব , অলক্ষ্যে ,
বুঝিনি ।

বুঝিনি , কখন অহংচক্ষু খুলে গিয়ে
ছুটে গেছে ব্যস্ত সময় ,
আরো আরো দূর যেতে হবে বলে
দূর নির্বাসনে পাঠিয়েছি সব ।

তবুও, আঙুলের ব্যবধান গলে
বেশ কিছু দুর্লভ রাত খসে গেলেও
কিছু অনাবিল সকালের নির্যাস
রয়ে যায় করপুটে
রেখায় রেখায় ;
সেরকমই কিছু অনুপম মুহূর্তে
যাবতীয় ব্যস্তযাপন ও নাগরিক খোলস ভুলে
যখন এসে দাঁড়াই কোন
অচেনা উড়ালপুলের কিনারে ,
কান পেতে শুনি
দূরাগত কোন ট্রেনের হুইশেলে
মিশে যাচ্ছে অন্য এক সুর —

বিস্ময়ে দেখি
আদিগন্ত সবুজ মাঠ
আর ঝলমলে একটা আকাশ নিয়ে
মনের ভেতর জেগে উঠছে এক বর্ধিষ্ণু গ্রাম ,
মেঠো আলপথ ধরে
একতারা হাতে হেঁটে আসছেন
দীর্ঘশ্মশ্রু এক অক্ষরপুরুষ —
তাঁর কান্তিময় আলোয়
ধুইয়ে দিচ্ছেন সমস্ত চরাচর ।
আলোয়-স্নাত সেই বিশ্বপারাবারে
আমৃত্যু আমাদের অনন্ত অবগাহন ।।


কমল সরকার

জন্ম ১৬-০৫-১৯৮৩। বাড়ি বর্তমান আলিপুরদুয়ার জেলা ও অসম সীমান্তের গ্রাম বারোবিশায়। শৈশব কেটেছে কোচবিহার জেলার ভোগডাবরি কেশরিবাড়ি নামক গ্রামে মামার বাড়িতে। প্রাথমিক শিক্ষা সেখান থেকেই। এরপর বারোবিশা থেকে মাধ্যমিক। অতঃপর ফালাকাটা, জলপাইগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরবর্তী শিক্ষা । পেশায় রসায়নের শিক্ষক । বর্তমানে শিলিগুড়ির কাছে কর্মরত । ছোটবেলায় মামারবাড়িতে থেকেই একটি ছোট্ট অভিমান থেকে লেখালেখির শুরু । শখ সাহিত্যচর্চা, ভ্রমণ ও লেখালেখি ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।