দেবাশিস মহন্ত-এর কবিতা

দেবাশিস মহন্ত on

debasish_mohontor_kobita

তুমিই বাবাঠাকুর

তুমি বললে— গুলি চলেনি; তো চলেনি,
তুমি বললে— ইয়াহ— বড়ো,
তুমিই বাবাঠাকুর—

শনিবার অমাবস্যা
শাস্ত্রমতে শুভক্ষণ,
ফুলে বেলপাতায়
তুমুল বাজাও—
তেলে সিন্দুরে,

সিক্সটি এম এল মদে মাংসে
তুমিই উত্থিত
তুমিই সবচেয়ে উঁচু…

বানভাসি

সারা গা-ময় পাপ নিয়ে,
কীভাবে ঘুরে বেড়াও,
এত ভালোবাসা!
মনে এত রঙ!

বানভাসি নদীর মত
কেন এত রেগে ওঠো,
কেন,
রাস্তায় এসে দাঁড়াও,

ভালোবাসা ঢাকতে শেখোনি!

দহ

হাঁটু জল—
এমনিই পেরিয়ে যাই
ছপাৎ … ছপাৎ …

কোমর জলে
ঐ বাঁক পর্যন্তই যাওয়া যায়
তারপর তো দহ— গোঁসাই

অতিথকে একটা নৌকা দিবা না…

কান্না অথবা গান

বুঝতে পারি না
গুনগুন করে কী কান্না কাঁদও!
কী গান গাও!

গোটা এক পুরুষ কেটে গেল
বুঝতে পারি না,
কাঁদও না কি গান গাও!

আই অ্যাম ইন লাভ

এটা ঠিক
তোমার সঙ্গে ছিলাম এতোদিন
তবু পরোয়া নেই
আমি ভালোবাসি।

কেড়ে নিয়েছ কিছু,
দেরি হয়ে গেছে অনেকটা,
তবু— পরোয়া নেই,
আমি ভালোবাসি।

হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে সময়
এবার তো হাত বাড়াও…

জানি,
ভুল করেছি— সুচরিতা,
মৃত্যু অনিবার্য,
তবু একদম পরোয়া নেই,
আমি ভালোবাসি।


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


দেবাশিস মহন্ত

জন্ম- ১ জানুয়ারি, ১৯৭৯। পশ্চিমবঙ্গ-এর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের কাছে একটি প্রান্তিক গ্রাম তিওড়-এ। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় স্কুল ম্যাগাজিনে। সিরিয়াসলি লেখালেখির শুরু শূন্য দশকের শুরুতে। বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে। ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই – ‘আলো নিভে গেলে’। তিনি বলেন – “ কবিতাই একমাত্র সাধনা। কবিতাই শিহরিত করে জানিয়ে দেয় এই চরাচরকে, চারিদিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে। এখনও লিখে চলেছি নিরন্তর। যা লিখতে চাই তা আর পারলাম কই। শুধু অতৃপ্তি …অতৃপ্তি … অতৃপ্তি …। শুধু অপেক্ষা সেই নিরাকারের। তাকে আকার দেব বলে পারে বসে আছি একা। বিশ্বাস করি - কবিতাতেই একমাত্র মুক্তি ...।“ বর্তমানে স্বাস্থ্যদপ্তরে কর্মরত।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।