সপ্তম কুয়াশাপরব

সুমন মল্লিক on

কুয়াশাপরব শুরু হতেই বুকের ভেতর আদিম একটা জোয়ার
ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমশ ৷ সন্ধ্যার পর থেকে যে হিমেল বাতাস
ধেয়ে আসে গাজলডোবার দিক থেকে, তার মাঝে সময় কাটাতে
ভালো লাগে ছাদের আরামকেদারায় ৷ চাঁদের মিঠে আলোয়
একটা দিব্য জলধোঁয়ায় তোমাকে ফিরে পাই গত মরশুমের মতো ৷
কাচের জানালার ধুলো সরিয়ে খুঁজে পাই তোমার সুবাসিত
নিঃশ্বাস আর তাকে জড়িয়ে নীরব তোলপাড় ৷ হিম গাঢ় হয় ৷
আমার মাথায় ঘন হয়ে আসে সোনাঝুরি মেঘ – আনমনে
মেঘের সুরঙ্গে খুলে দিই বুকভাঙা রিমঝিম অসুখ আর
সুন্দরে সেরে নিই এক সোনালি স্নান ৷ পথবাতির আলোয়
ছুটে চলে গাড়িগুলো ; আমি তাদের পেছনে একটু একটু করে
আমার শূন্যতা বেঁধে দিই ৷ পাশের ছাদের সন্ধ্যামালতী ঘেঁষে
দাঁড়াও তুমি – এটুকু দূরত্ব স্বাভাবিক এতটা সময় পর ৷
এতটা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে যা যা লিখেছি পড়তে শুরু করি
একের পর এক ৷ চাঁদ, কুয়াশা, সন্ধ্যামালতীর গন্ধ – সবকিছু
মিশে গিয়ে ভরিয়ে তোলে কবিতার রোমাঞ্চিত চারণভূমি ৷
আর ঠিক তখনই কখন যেন হঠাৎ তুমি চলে আসো কাছে,
বরফ হাতে, ঢেলে দাও গ্লাসে, কিছুটা চোখের পাতাতেও ৷
একচুমুকের ভেতর কবিতা, চাঁদ, কুয়াশা, দূরত্ব… ডুবিয়ে রেখে আমি
ডুবে ডুবে রবাব বাজাই এলোমেলো তোমার আফিমসাগরে ৷


সুমন মল্লিক

জন্ম : ২৬ এপ্রিল ১৯৮৫, তুফানগঞ্জ, কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত । স্থায়ী বসবাস : ২০০৩ থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে । শিক্ষা : ইংরাজি সাহিত্যে এম এ। পেশা : সরকারি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ : আর্দ্র নিশাত (জানুয়ারি ২০১৫), মনকেমনের হাউল (সেপ্টেম্বর ২০১৫), অগ্নিগোলাপ ও শাশ্বত ক্যাটাসট্রফি (অক্টোবর ২০১৭), মাধুরীপ্রসব (জানুয়ারি ২০১৮), শল্য কিংবা বিশল্যকরণী (অক্টোবর ২০১৮) ৷ সম্পাদনা : উত্তরের কবিমন পত্রিকা (সম্পাদকমন্ডলীর সক্রিয় সদস্য) ৷শখ : ভ্রমণ, আড্ডা, গান শোনা, সিনেমা দেখা, ছবি তোলা ও বই পড়া ৷সুমন মল্লিকের কবিতাচর্চা শুরু স্কুলজীবন থেকেই ৷ প্রথম দশকের (ভারতে) একজন উল্লেখযোগ্য কবি ৷ তার কাব্যগ্রন্থগুলিতে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তার কবিতাগুলিতে তিনি নিজ স্বকীয়তার ছাপ রেখেছেন ৷ আকাশবাণী শিলিগুড়িতে নিয়মিত কবিতা পাঠ করেন ৷ পেয়েছেন “চুনী কোটাল স্মৃতি সম্মান” (২০১৭) এবং “অমিতেশ মাইতি স্মৃতি সম্মান” (২০১৮) ৷ ২০১৮ তে দু’বার ‘দেশ’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ পেয়েছে ৷

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।