গ্রীষ্মের রাত ও মা

মোহিত তন্ময় on

গ্রীষ্মের রাত্রে ঘুমের মধ্যে এক অদ্ভুত চামড়া পোড়ার গন্ধ পাই , বিছানায় নিজেকে আটকে রাখতে পারিনা। নোনা লাগা শরীর নিয়ে ছাদে 
উঠে আসি , তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। 

দেখি , কতো সম্পর্ক আকাশে নক্ষত্র হয়ে গ্যাছে যাদের দেখতে গেলে নির্জন রাত্রে ছাদে এসে দাঁড়াতে হয়। সবার উজ্জ্বলতা এক নয় ,
কেউ কেউ বাঁচতে চায় তাই অনেকটা নীচে নেমে এসে নিজেকে জ্বালিয়ে রেখেছে আবার কেউ সুবিশাল আকাশে হারিয়ে যাবে তাই নিজেকে নিয়ে গ্যাছে অনেক উপরে, নাগালের বাইরে। জীবনে অন্ধকার যতই বাড়তে থাকে উজ্জ্বল নক্ষত্র গুলো আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি লাফ দিয়ে ওদের ধরতে যাই কিন্তু পারিনা একটা সময় পর ওরা আমাকে ডিঙিয়ে চলে যায়, লবনাক্ত শরীর জুড়ে পড়ে থাকে মাধ্যাকর্ষণ ।

আকাশের অনেক নিচ দিয়ে প্রেমিকারা একে একে মেঘ সেজে পেরিয়ে যাচ্ছে , কেউ একবারের জন্য হলেও ভিজিয়ে দিচ্ছে না। প্রেমিকারা সবাই অন্ধকার ভয় পায়… তাই আলোর খোঁজে সারিসারি প্রেমিকা মেঘ হয়ে রাতের আকাশ ছেড়ে চলে যায়। কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়। গাঢ় অন্ধকারে নির্জন ছাদের মাঝখানে আমি জামা খুলে দাঁড়াই। একশো বছর হলো এই শরীরে বৃষ্টি নেই…..তীব্র খরা চলছে ….. নাড়িভুঁড়ি হৃৎপিন্ড সব দলা পাকিয়ে ফাটা চামড়া দিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়। ফাটা ফুটো শরীর নিয়ে আমি আবার আকাশের দিকে তাকাই ….. এখন সারা আকাশ জুড়ে শুধুই মায়া বাতাস বইছে সে বাতাসে প্রেম নেই , তাই বৃষ্টি নেই ।

দুদণ্ড লোভের জন্য জমানো দিন খরচ করে দিই 
তারপর এই মহাসাগরের মতো বুক জুড়ে বিষন্ন শীতল রাত নেমে আসে , বছরের পর বছর সে রাত চলতেই থাকে। রাতের অন্ধকারে আকাশের মঞ্চে অভিনয় করে একটা চাঁদ। মেঘের প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে জ্যোৎস্নারা সাগরে এসে পড়ে, একটা স্তব্ধতায় থৈ থৈ সাগর বুকে সোনার খনি ধারণ করে। আর এই চাঁদের ভিতর মুক্তমঞ্চে অভিনয় করে একটা বুড়ি ,সে বুড়ি সারাদিন বাসন মাজে, ঝাড়ু দেয়, রান্না করে, ভাত বেড়ে দেয়। সে মাঝরাতে অতিসঙ্গপনে নিজের অস্তিত্ব টুকরো টুকরো করে রেখে আসে চিরসবুজ বনভূমির কাছে। এভাবে এক মিথ্যে মহাসাগরে ভাসতে ভাসতে একশো বছর কেটে যায়, এখনো আকাশে চাঁদ ওঠে বুড়িটা ছেড়া কাপড় পড়ে ঘুরে বেড়ায়।

আমি চাঁদ কে বাবা বলে ডাকি , আর বুড়িটা আমাকে রোজ নিজের মাংস দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দেয়। 



মোহিত তন্ময়

নাম :- মোহিত তন্ময় জন্ম :- ২২/০৮/২০০০ স্থান :- চণ্ডীদাস ভূমি নানুর ( বীরভূম জেলার অন্তর্গত ) শিক্ষা :- কলকাতায় ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজে বাংলা বিভাগে পাঠ্যরত লেখা ছাড়া ফটোগ্রাফির নেশা আছে ।তবুও প্রয়াস ম্যাগাজিন ও প্রকাশনীর সদস্য ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।