এক কাপ চা আর খাপছাড়া নস্ট্যালজিয়া

ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য্য on

আমি বিকারগ্রস্ত। সেই কবে থেকে ভুগছি নস্ট্যালজিয়ার জ্বরে। ভেবেছি এক চাপ চায়ের উষ্ণতায় সব রোগ সারিয়ে ফেলব, তাই চা রসিক না হয়েও শিব্রামের আপ্ত বাক্যের পান মুখে গুঁজতেই হল। চা খান বা না খান,চাখান —তবে অনেকেই চা খান এবং এ ব্যাপারে বেশ গোছালো। মনে করুন গল্প হলেও সত্যির সেই বড় ছেলেকে। ধনঞ্জয়ের আগমনের পর,মাত্র পয়ষট্টি বছর বয়সে কেমন ফটাফট টাইপ করতেন,লেজার বুক আপডেট করতেন। তাঁর মুখে আফিসের চা মুখে রুচতো না। বাড়ির চা ছিল সুধা সম। ঠিক যেন এক পেয়ালা গরম জলে টুপ করে খসে পড়ল দুটো পাতা একটা কুড়ি।

এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই— আমি অনেকটা এই দলে। চায়ের সাথে টার প্রতি বেশী প্রেম। বাড়ির মেরি বিস্কুট,ক্যান্টিনের লেড়ো,রেস্টুরেন্টের কাটলেট,ক্যাভেনটার্সের কেক এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতেই নস্ট্যালজিয়ার বিকার চেপে ধরেছে। গরমের ছুটিতে রেল গাড়ি চেপে চলেছি পাহাড় দেখতে। রাতভোর দুলেছি ট্রেনের সাথে। ভোর হব হব, জানলা দিয়ে ভেসে আসে সেই চিরন্তন ডাক। অমলের দইআলার মতন সেই ঘুম ভাঙানিয়া ডাক— চায়ে,চায়ে। জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি অমলতাসের ডাল প্ল্যাটফর্মের রেলিং ছুয়েছে। রোদ উঠছে ফাঁক দিয়ে। কেটলির মুখে চায়ের বাষ্প অচেনা স্টেশনটাকে রুপকথা করে দিয়েছে। মনে পড়ছে। সব মনে পড়ছে।

রাজধানীর ডাইনিং। মুখোমুখি উত্তম কুমার আর শর্মিলা। মাঝে সাদা বোন চায়নার কাপ। হতেই পারত,চরিত্র গুলো পালটে গেল। নিজেই পট থেকে চা ঢালতাম। শর্মিলার ঠোঁটে হয়ত গোলাপী লিপস্টিক। ঠোটের চাপ রয়ে গেল চুমুকের পর। মগ্নতা দীর্ঘায়ু হচ্ছিল। টুপ করে এক টুকরো কাগজ এসে পড়ল চায়ের কাপে। আমি কাগজ তুললাম,ভাজ খুললাম—সাবধান! হুমকি ফেলু মিত্তিরকে। এরপর দশাশ্বমেধ ঘাটে বসেছি। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলেছি,হয় আমি এর বদলা নেব নয় গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেব। এরপর অনেক পরিশ্রম করেছি। আমার কালো স্করপিও কোলকাতার বুকে ছুটেছে। ট্রামের তারে আটকা ঘুড়ি আর রাত জাগা তারার মতন আমি বদলা নিতে চেয়েছি। অন্তহীণ চেষ্টা,রাধিকা আপ্তেকে মেরে দিয়েছে মাফিরারা। এক কাপ জাসমিন টির এরোমা আর ভালো লাগেনি তাই রাহুল বোস স্করপিওর কাঁচটা বন্ধ করে আড়ালে চলে গেছে।

পাও কে তলে ফিরদৌস চলে—রেল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে বৃষ্টির স্টেশনে। মনীষা কৈরালা চলে যাবে শাহরুখ খানকে ছেড়ে। শাহরুখ ফিরে আসতে আসতে ট্রেন আবার ছেড়ে দিয়েছে। ভিজে গেছে শাসরুখ। মেঘবালিকা বৃষ্টি হয়েছে। হাতের চায়ের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিয়েছে শাহরুখ। দিল সে রে। বৃষ্টির ফোটা মিশছে চায়ে সশব্দে । চায়ে চায়ে। আমি আজও বিকারগ্রস্ত ।



ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য্য

জন্ম ১৯৮৩র ৫ই এপ্রিল। ড়ি টাকিতে।রসায়নে স্নাতক।লেখালেখি সখ ইস্কুল থেকেই। স্রোত, কাজরী এমন কিছু লিটল ম্যাগের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল লেখা।সেই ভাললাগা থেকেই লিখে যাওয়া। সেভাবে বিশেষ কোন ধরনের প্রতি আলাদা পক্ষপাত না থাকলেও, ভ্রমনের গল্প, কবিতা, অনু গল্প, গল্প সব রকমের লেখাই পছন্দের। আপাতত রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থায় কর্মরত আর অবসর সময়ের সঙ্গী এই লেখা। বর্তমানে ব্লগ টগের মতন কয়েকটি অন-লাইন ব্লগের সাথেও এই লেখালিখির সুত্রে জড়িত। প্রতলিপি বা Story Mirror এর মতন পোর্টালেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এই নভেম্বরে Story Mirror আয়োজিত একটি সর্ব ভারতীয় প্রতিযোগিতায় “ট্যাটু” গল্পটি প্রথম পঞ্চাশটি গল্পের সূচীতে মনোনীত হয়েছে। লেখলেখির পাশাপাশি ছবি আঁকা, ছবি তোলা আর বেড়ানোর সখ আছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।