সৌমাল্য গরাই-এর দু’টি কবিতা

সৌমাল্য গরাই on

soumalya_garai

রাক্ষস কথা

প্রত্যেক রাত্রিতে আমি রাক্ষসটিকে ছেড়ে দিয়ে আসি গ্রহাণুপুঞ্জের ঘরে। নীল হয়ে যায় আচ্ছন্ন আকাশ, শবদেহ ফুটে ওঠে তারায় তারায়। দূর কালো মেঘে চাঁদ তার নারীটিকে খায়, এবং পুরুষ হয়, নরম আগুনে রান্না করে জন্মাঙ্গ।

এক আদ্যাশক্তি মহাবিদ্যা দিয়ে রাক্ষসকে প্রাণপণে সৃষ্টি করে। প্রবল ঘূর্ণির মুখে পড়ে বাতাসেরা ঘোড়া হয়, অপহরণ করে শ্মশান
কালো নদীতীরে দাহমাত্র ঘুম ভাঙে রূপসীর
তার হিমগর্ভ সতীচ্ছদকে, প্রবল পুরুষ রাজপুত্রকে দীর্ঘদিন রক্ষা করে এসেছে
অভিশপ্ত রাতের শিয়রে জেগে থাকা অবিস্মরণীয় বীভৎস রাক্ষস

পূর্বাভাস

বিংশ শতক চলে যাবে, উন্মাদ অবস্থায়
অহিতুণ্ডকের হাতে সম্মোহিত জীবন কাটানো শেষ হবে
দেনা থাকবে কিছু বাজারে, প্রেমিকার কাছে
লেখার খাতায়, পড়ার টেবিলে
কিছু ঋণ অশোধিত থাকা ভালো

ন্যুব্জ আয়ুরেখা ভেসে ওঠে করতলে
যেন শব্দের চেয়ে ভারী কিছু হয়ে
জড়চেতনায় মিশে যাওয়া

আমার না থাকায় ক্ষতি হবে না কারোরই
সকলেই ভুলে যাবে, ভুলে যেতে খানিক সময় লাগে
তবুও কিছু কিছু দিন মনে পড়বে
এই বিলীন জীবন হিংসা পাপ পঙ্কপদ্মসহ ছিল ভাসমান—
এবং আমার মনে পড়ায়
সেইদিন বৃষ্টি হবে খুব…


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


সৌমাল্য গরাই

সৌমাল্য গরাই

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।