নিমাই জানার কবিতা

নিমাই জানা on

nimai_jana_kobita

মৃত মানুষ অথবা নয়ন তারার ভ্রুণ

মৃতেরা সমান্তরাল রোদ হলেই পাখিদের ঘুম আসে
ছেঁড়া বাকল আর পুরনো জামা ফেলে আসে পুরনো শহরের কোন এক প্রান্তদেশে
আমি একটি অলীক মানুষকে কল্পনা করি নয়ন তারার পাজল শিরাবিন্যাসে , ভ্রুণের মতো তরল ব্রহ্মতালু আর পায়ের তলার কাদা মাটি নিয়ে পড়ে থাকে নেক্রপলিস এ শ্মশান ঘাট
শ্যাওলা কচুরিপানার রুপোলি শরীর বৃত্তাকার পথে মহাত্মার আবর্তন লক্ষ্য করছেন

চতুর্ভুজ অথবা বিকলাঙ্গ শরীর

পরস্পর রৈখিক গতি বেয়ে থেমে যাচ্ছে আমার চর্যাপদ , প্রাচীন পিথাগোরাস
আমি কখনো রাবণের বংশধর ছিলাম না
আমাদের অপ্রাকৃত দেহ থেকে বয়ে যাচ্ছে এমন দীর্ঘ ক্ষেত্রফলের আলপথ
আমি ক্রমশ চতুর্ভুজের দুঃখকে ধরে রাখি আমার পেছনে থাকা উদোম ডোরাকাটা শিকড় দিয়ে
কোন হলুদ পাতার অদ্ভুত বিকলাঙ্গ শরীর দেখিনি ক্রোমোজোমের তারারা জোনাকির মতো উড়ে যায় আমাকে নিয়ে , দীর্ঘ জরায়ু ফুলের দিকে

হিমোগ্লোবিন অথবা সিডনেফিল

আমি নক্ষত্রের পাদদেশে হিমোগ্লোবিন আর গণিতজ্ঞের মতো ভরে দিচ্ছি গুননীয়ক খাতা
আমার কোন মৃতদেহের সাংখ্যমান নেই, তাদের চোখ নেই , ময়নাতদন্ত নেই , পুরুষ নেই
অথচ একটি নরম সুপুরি গাছের নিচে একটি ছায়া দেখে তাকে আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়েছি
আমার হাতের তালুর নীচে দুই কোয়ান্টাম সবুজ সিডনেফিল সাইট্রেটের ৫সিসি বোতল আছে
আমি তাদের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভে ভাসিয়ে দিয়েছি , হলুদ নার্সটি আমার ব্রাকিয়ালের রক্তচাপ মাপছে তরল ঠোঁট দিয়ে

শাপগ্রস্থ মুনি অথবা স্থানাঙ্ক জ্যামিতি

আমার হৃদপিন্ডের তরল কণিকাকে একটি বিদ্যুৎ রেখায় ভেঙে ফেলছি স্থানাঙ্ক জ্যামিতি দিয়ে
ঘোড়াটি নির্বোধের মতো আমাকে নিয়ে অংক কষছে উপবৃত্তের উপর
আমার চোখে কোন শাপগ্রস্থ মুনি নেই
আমার যৌন গহ্বরের ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টি করেছেন জন্মলগ্নের আগে
আমার ব্রহ্মতালু ক্রমশ নরম হয়ে যাচ্ছে কার্বনেট পাথরের মতো
আমি এক সাদা বরফের জরায়ু খাচ্ছি তেল ও লবন দিয়ে
অবৈধ জনুক্রম সব নিউমেরিক্যাল ভ্যালুর উপর আমনের শস্য বীজ বুনেছে
আমি ডারউইনের গোলাপি ফিজিওলজি পড়ছি দীর্ঘ সময়


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।