এবং তুমি

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় on

ebong_tumi

( এক )

তোমারই তো মুখ
শত ভাঙনেও
তুমি উঠে আসো
তোমাকেই শুধু
পড়ে ফেলি বারবার
চোখের তারায়
তারাদল যেন জ্বলে
আকাশের মতো
চেয়ে থাকো তুমি
আলোকিত সব নামে
ঠোঁটের অংশ চোখে পড়লেই
মনে পড়ে এক সেতু
সারা দিন রাত চলে আনাগোনা
আবিষ্কারের নেশায়
চোখে এলে চুল শ্রাবণ ঘনায়
মেঘে মেঘে সব কালো
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে
দুজনেই জলে আলো ।

( দুই )

এই দ্যাখো এই বারান্দাতে
তোমার জন্যে বসে
চড়ুই টিয়া ফিঙে শালিক ময়না
তোমার কাছে হাত পেতেছি
ছড়া গানের জন্যে
একটু হলেও আমাকে দাও
যেমন খুশি যেভাবে চাও

তোমার জন্যে ছড়িয়ে আছে
আলোর বারান্দা ।

( তিন )

হাতের ওপর হাত এসে বসল
গাছের নিচে এসে দাঁড়াল পথিক
বাইরে বৃষ্টি বাজ
পথিক গাছের কাছে নিজেকে সঁপে দিল

অনেকক্ষণ ছেড়ে গেছে বৃষ্টি
পথিক ভুলে গেছে সব
আবার সে এক থেকে গোনে

গাছের নিচে আবার সে নতুন নামতা শিখবে

( চার )

তোমার মুখ মনে পড়লেই
নদীর মতো বয়ে আসে সকাল
ছোট ছেলেরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে
স্কুলের পথে
চাষীরা চাইলেই যেকোনো মুহূর্তে
ঝরে পড়তে পারে বৃষ্টি
তবে এখনই নয়
আগে গাছের সবুজ আলো
গড়িয়ে পড়ুক মনে মনে
আরও সবুজ হয়ে ওঠার আগে
মন যেন সবুজ পড়ার জন্যে তৈরি থাকে

তোমার মুখ মনে পড়লেই
সবুজের হাতে বেড়ে ওঠে আরও সবুজ ।

( পাঁচ )

রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে
তোমার কানে কানে বলবো
যে কথা আমাকে দিয়েছে নদী
পাখির শরীরের ওম মিলিয়ে দেব তোমার শরীরে
গাছের পাতায় পাতায় লিখব আগামীর পরাগ
ফুলের চন্দনে রঙিন হয়ে উঠবে তোমার ভূগোল

( ছয় )

একটাই বাতি
চোখে ছিল এতকাল
জ্বলল যখন
আলো হয়ে গেল
কবিতার পরিবার ।

( সাত )

এখনও এখানে কান পাতলে
কথাদের কথা শোনা যায়
এখনও কথারা ডানা মেলে দেয়
নিজেদের হাতে গড়া বৃত্তে ।
কথাদের সব কথা তোমারই
কিছু কথা জানা আছে আমারও
আরও কতো অজানাকে জেনে যাই
কথাদের হাত ধরে তোমাকে ।
ঘুরে ঘুরে কেন কথা তোমারই
তোমারই কথাতে দিন কেটে যায়
আসলে তুমি তো নেই এখানে
মনে মনে আমি কথা বলে যাই ।

( আট )

বন্ধ দরজা জানলা
ঘরের মধ্যে আটকে থাকা বাতাস
মেঝের ওপর তোমার পায়ের ছাপ
দরজার বাইরে পরে থাকা ধুলো

আবার তোমার আসার অপেক্ষায়

( নয় )

নিথর দুপুরের গায়ে তুমি
সারাদিন মিশে থাকো
নৈঃশব্দ্যের ঠোঁট থেকে
যে অবাধ চুম্বন ঝরে পড়ে
তার আলোকিত পেলবতা
তোমার শরীর সম্পদে

স্থির হয়ে পান করি লালারস
স্পর্শে উন্মাদ হই
তোমার উদ্দাম মুখরতা

দুজনেই ঘুমিয়ে
তবুও চেনা সমীকরণের
গোপনীয় ইঙ্গিতে স্পষ্ট
আমাদের উদ্দাম লীলা

আমরা আমৃত্যু হেঁটে যাব।

( দশ )

এসো তোমার কানে কানে বলি
আমার ঊষাকাল
আমার মধ্যাহ্ন

আমি দেখব আমার মধ্যাহ্ন
কিভাবে তোমার হাত ধরে
দূর প্রদেশে বেড়াতে যায়

দুজনে পাশাপাশি হেঁটে যাক
দিনের প্রথম রোদ্দুর
যেভাবে তোমার গায়ে গড়িয়ে পড়ে ।



হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্ম ১৯৬৭ সালের ২ জানুয়ারি হুগলী জেলার ধনিয়াখালি গ্রামে। লেখালিখির শুরু খুব ছোটবেলা থেকেই। ছাপার অক্ষরে স্কুল ম্যাগাজিনে চিরাচরিত নিয়ম ভেঙেই প্রথম প্রকাশিত হয় "কেয়া" নামের একটি প্রেমের কবিতা। সাহিত্য নিয়েই পড়াশোনা। পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও সাহিত্যই চব্বিশ ঘণ্টার ধ্যানজ্ঞান। মাসিক কৃত্তিবাস, একুশ শতক, ভাষাবন্ধন, প্রমা, কথাসাহিত্য প্রভৃতি পত্র পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ ৫টি। From the spring of light (পলাশ পালের শিল্পীজীবন), তুমি অনন্ত জলধি (কবিতা), বিমূর্ততার অনন্ত প্রবাহে (কবিতা সংক্রান্ত গদ্য), চার ছক্কায় সচিন (ছড়া), দু'এক পশলা মান্না (ছড়া) ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।