দোলনকাল

তন্ময় রায় on

dolonkal

( নিলয়-কে )

যার মরতে বসে মায়ার কথা মনে পড়ে

যত ভুলভাল আমি তোমায় তুলে দিই
আমার অসময় ফসময় বলে কিছু নেই
অলঙ্কারে চিনি
আর একটু চওড়া করে মারার মতো কয়েকটা লাইন
এইসবই আমাকে তোমার লাস্ট ডেট করে তুলেছে

নিজের হেঁটে যাওয়া পেছন থেকে
দেখতে গিয়ে
কোথায় চলে এসেছি
মধু রঙের ফলে জ্বর জ্বর ভাব
এখানে সেলাই করে সুতো ছেড়ে রাখছি মাথার ভেতর
তাকে টানার মতো ডাক্তার হবে তুমি

যার দিনকাল ইটালিক্সে

গুচ্ছ ফুলে ঢোল
ফাঁপরে পড়ে থাকছি এবং সেটাকে এতটাই মজাচ্ছি যে
তাকে বইয়ে টুকে দিলে বইটা মারাই যাবে

যে দুএকটা কায়দায় এনার্জি ছিল
জল ছিল সমতল আবর্তিত
শীত শুনলেই বেঁকে বসত প্রতিমা
তারা সব ইচ্ছে করেই রাত সারে
আর আমি ঢোঁক গিলি

যার ছেড়ে দেওয়াই চলন

বেস্টে গিয়ে গুলিয়ে যাওয়া এক রামধনুর গল্প
না পারা মদেরও
কিভাবে গাড়ি এসে মেরে দেবে আমাদের ফেরা
আর ঢেউ ধরে নিয়ে যাবে গান লেখাতে…
তখনো মিল দেওয়ায় দম আসেনি
নেশার ভেতর ঘরের পুর দেওয়া শিখতে গিয়ে কাশি ওঠে
কাশির শব্দে তীর্থ
ওঠার শব্দে জীবন
গড়পড়তা সার্ভিস
এভাবেই এক দর্শনে ঝুলে যাচ্ছে
আমি ও আমার লেখারা…

যে যার সে তার

চরিত্র রং করতে এসে সময় বসত নিলেন
মায়ের ভেতর
প্রত্যেক দু ঘর ছেড়ে তৃতীয় বন্ধনী, ধাতুর তৈরি
উপহারে সরে গেল চোখের মণি
সেই থানে সিরিয়াল জল্বা
ভুলে যাওয়া দিয়ে যে ঘুম তৈরি তাতে আমরা আড়াই ভাই
মেলাতে পারা নতুন করে শিখি
তাল কাটে, কেটে যায় তালকানা আমার


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


তন্ময় রায়

ছোটবেলা বর্ধমানে । মামাবাড়ির দাদুর প্রশ্রয়ে পত্রপত্রিকা তে ধাঁধা তৈরির মধ্যে দিয়ে লেখার হাতেখড়ি । পরবর্তীতে কলকাতায় স্কুল পাল্টে চলে আসা । মিত্র ইনস্টিটিউশন এর মেধাবী ছাত্র । কৈশোর ও যৌবনের বৃহৎ অংশে মেস বাড়ির জীবনের সাথে জড়িয়ে যায় আড্ডা, কবিতা লেখা, রাস্তার নেশা । সেই রাস্তার খোঁজে প্রথম সম্পাদকীয় "আছি" পত্রিকায় । প্রথম বই কমবেশি ক্রিয়া তেই পাঠক মহলে সাড়া । পরবর্তী বই দৃশ্যাক্ষর, বাংলা কবিতা নিয়ে সাহসী পরীক্ষামূলক অবতরণ । তার কবিতায় বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের সংমিশ্রণ, আলো ও অন্ধকারের সিম্ফনি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে । কবি অবসরে মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।