দেবাশিস সাহা-এর তিনটি কবিতা

দেবাশিস সাহা on

debasish_saha

প্রত্যাখান

অবহেলা পেরিয়ে পেরিয়ে
এসে পড়ি অভিমানের মাঠে
এখানে কেঁদে বেড়ায় ঘোলাটে চাঁদ

নতমুখ পালিয়ে পালিয়ে
কোথায় যাবে রুকবানুর

প্রত্যাখানের আঘাতে আঘাতে
গড়িয়ে আসি প্রকৃতির কোলে
দুটো খুচরো পাখি
গন্ধে গন্ধে স্নান করে
আমার মন

প্রকৃতি কখোনো ফেরায়নি আমাকে
অথচ ভালোবাসার নারী
দড়াম দড়াম
বন্ধ করেছে হৃদয়।


অপেক্ষায়

এবাদুল দা
এখন কি তোমাকে
আকাশের ঠিকানায় কবিতা পাঠাবো

রক্তে লেখা অক্ষর
মেঘে ভিজে গেলে
কি হবে

তুমি কি ধেবড়ে যাওয়া কবিতা থেকে
চিনতে পারবে
নিজের হাতে গড়া কবিকে?

নদীর জলে মাদুর পেতে
আবার কবে শুনবো
সেই কবি আবিষ্কারের গল্প?

আমি খাম হাতে দাঁড়িয়ে
নেতাজি মোড়ে
কালিদা র চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে
নাসির পান নিয়ে এসেছে

গালে পান মুখে হাসি নিয়ে
একবার এসো এবাদুল দা

আমরা অপেক্ষায়।


রেশনে প্রেম

লক্ষীর ঢেউ
তৃতীয় সমুদ্র পেরিয়ে
এগিয়ে যাচ্ছে ভান্ডারের দিকে

দুয়ারে কাজ নেই
সারি সারি ভিক্ষাহাত
কখনো স্কুল মাঠ
কখনো ব্যাংকের দুয়ারে
ধাক্কা খেতে খেতে
ক্ষেত ভুলে গেছে

দুয়ারে দুয়ারে প্রেম নেই
রেশনে খাদ্যের সংগে
দেওয়া হোক প্রেমের রসায়ন।


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


দেবাশিস সাহা

জন্ম-০১.০১.১৯৭০, শিক্ষা - স্নাতক। পেশা-ব্যঙ্ককর্মী। নেশা- গাছ পোষা।কাব্যগ্রন্থ- ১.মা,আমি তোতন বলছি ২.কুড়িয়ে পাওয়া অক্ষরঘুম ৩.প্রজাপতি রঙের গ্রাম.৪.গাছ পুরাণের দৃশ্যকল.৫.পোষা মৃতদেহ. ৬.রাস্তা ভর্তি চাঁদ. ৭.সার্কাস জীবন. ৮.সম্পর্কের পাতাবাহার. ৯.দেখা শেখার স্কুল. ১০.আলোদের ঈশ্বর ।পুরস্কারঃ রামমোহন লাইব্রেরি থেকে কবিতা র জন্য। উন্মুখ পত্রিকার জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার।সম্পাদনাঃ ২০০৪ থেকে "ছাপাখানার গলি" , আলোচনার কাগজ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।