দুটি কবিতা

সৌম্য দত্তশর্মা on

আলেখ্য

প্রত্যেকবার চলে যাওয়ার পথেই
তুমি রেখে যাও জলছাপ !
তাকেই আশ্রয় ভেবে
ফিরে আসে মাছ,
হতোদ্যম পুরুষ,
পরিযায়ী কবি,
উল্কাখন্ড।

আমি উল্কার থেকে খনিজ তুলে আনি –
কবির থেকে ধার করি অক্ষর,
পুরুষের থেকে মোহ
আর সবশেষে…
মাছের থেকে
কানকো।

জলে ডুব দিয়ে লিখি বিসর্জন,
মোহাবিষ্ট হন প্রতিমা।
একরাশ যন্ত্রণা পর –
গড়ন ভাঙে ধাতু,
বিভক্তি!

যতক্ষণ নিঃশ্বাসে থাকে ধ্রুপদী সঙ্গীত
নির্মাণ করি আলেখ্য !
পাড়ে বসি, নিভৃতে,
একাকী।

রাত গাঢ় হলে, ফিরে যান কবি পৌরুষ নিয়ে,
নিয়ে যায় মাছ খনিজ লবণ,
সাগরে।

ঠিক তখনই জলছাপ দেখে দেখে…
তুমি ফিরে আসো ঘরে!

বারবার…

জননাশৌচ

হাতের ছোঁয়ায় নুয়ে পড়ে শ্যামল তরুদল,
বীজতলা ঘুরে জীমূতবাহন
মৃতদেহ আগলে রাখে সহস্রকাল –
ঝড়ের আগে সন্তানসম্ভবা মহাকাশ,
অনন্ত ক্রোধে,
প্রসব করেছিল এক অন্ধ কমল।

গর্ভে চমক থাকে… আর মরণে সন্তাপ।
সে তেজ যতই বিকলাঙ্গ হোক-
তাঁর স্নাতক চোখের জল এঁকে দেয় নদী,
গাল বেয়ে নেমে আসে কাম!
হননের দিনে,
ফিরে আসে শাম্বের অভিশাপ।

শহরে বসত করে, কিছু ধর্ষকামী লোক।
অরণ্যে আজও কাঁদে নিঃসঙ্গ সম্রাট !
বন্টন মতবাদ হলে,
কেউ নেই, কিছু নেই জনহীন প্রান্তরে..
তবে বলো আদালত –
এ কৃতজ্ঞতার সুবিচার হোক।।


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


সৌম্য দত্তশর্মা

নাম : সৌম্য দত্তশর্মা। জন্ম : ০৯-০১-১৯৮৫, প্রথম প্রকাশ : অবচেতন (রহস্য গল্প), রংছুট প্রকাশনী।লেখালেখি : বড়গল্প: লুনী, ঘনিষ্ঠকাল। গল্প: অবচেতন, ফেরা, আয়োজন, গ্রাস, টাকার মূল্য। আর অনেক আদরের কবিতাগুচ্ছ।লিখে কি পাই :কতবার জন্মেছি আমি, মরে গেছি প্রতিদিন রাতে।কাজের শেষে ঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার আগে দু একটা অনুগল্প, কিছু সদ্যজাত কবিতা, ছুটির দুপুরে ভূতের গল্প লেখার মধ্যে দিয়ে শহুরে মনটাকে হারিয়ে ফেলা যায় দিকশূন্যপুরের শালুক বনে। ব্যথা আঁকতে গেলে নাকি সত্যিই নোনা জলে ডুবে যেতে হয় গাঙচিলের মতো। আমিও ডুব দিই রোজকার বেহিসাবি কান্নাবাসরে, হাতে উঠে আসে যা, তাই পরিবেশন করি। আসলে সকলেই মুক্তির পথ খোঁজে, আমিও খুঁজি - এই অক্ষরমালার আদানপ্রদানের অলিতে, গলিতে...

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।