দুটি কবিতা

তৈমুর খান on

আমারই ভারতবর্ষ

আজ সভ্যতার একটা সকাল
আজ সভ্যতার একটা দিন

আমি কি বেঁচে আছি ?
আমরা কি বেঁচে আছি ?

নিরুত্তর একাকী নিজের কুয়াশায়
নিজেই অস্পষ্ট চেয়ে আছি

ওরা কাঁদছে , কান্নার শব্দ মুহুর্মুহু
বন্দুকের নল ঘুরে আছে এইদিকে এখন
রক্তেভেজা আর্তনাদ গড়ে আসছে এদিকেই
ধর্ম না ঘাতক ? কী উগ্র বুট পরেছে আজ !

এটাতো ভারত ! আমারই ভারতবর্ষ !
আমি অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছি
আমার পিপাসা পাচ্ছে খুব
আমার মায়ের মুখখানা ভেসে উঠছে বারবার
হয়তো আর কিছুক্ষণ পর আমিও লাশ হব
হয়তো আমার রক্তে ভিজে যাবে মাটি

একটা সকাল ক্রমশ রাত্রির দিকে যাবে
একটা দুপুরও ক্লান্ত বিষণ্ণ নীরবতায়
ঘুরে ঘুরে পাক খাবে এখানেই
কেউ আর ডাকবে না আমাকে

যুগের সংকটে ভেসে যাবে দেশ


উল্লম্ফন 

এত উল্লম্ফন কখনও দেখিনি

সবাই উঠে আসছে নিরন্তর
সীমাহীন প্রাচূর্যের উল্লাস নগরে

এইখানে অবিরাম সূর্য
সূর্যের বার্ধক্য নেই

কিছুটা যৌনগোধূলি যদিও
গোলাপি রঙের মায়ায়
বিশ্রামের পাঁচালি পাঠ করে

তারপর নিরুক্ত শয়ন ঘর
প্রাণশস্যে ক্ষুধা নিবৃত্তির আয়োজন

এসব তবুও দূরের সমাচার মনে হয়
আমাদের কারুণ্য নির্ভর পর্যটন
কোথাও ঝরনার আবেগ খুঁজে ফেরে বাহ্যত সংকট শুধু আর সব মৃত্যুযাপন

দুরপনেয় বোধ কাঙ্ক্ষিত শোভার কাছে
মাথা নত করে দেয়

উল্লম্ফন চলতে থাকে

বস্তুত জাগতিক প্রশ্রয়



তৈমুর খান

তৈমুর খান নব্বই দশকের কবি হিসেবেই পরিচিত। তাঁর কবিতায় জীবনযাপনের নানা মুহূর্ত উঠে এসেছে। মূলত প্রেম ও বিষাদের তীব্র অভিঘাত । শব্দ ব্যবহারে ও চিত্রকল্পের ব্যাপ্তিময় প্রয়োগে কবির অসাধারণ দক্ষতা চোখে পড়ে। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল :বৃত্তের ভেতরে জল, জ্যোৎস্নায় সারারাত খেলে হিরণ্য মাছেরা, নির্বাচিত কবিতা, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার ভেতর এক নিরুত্তর হাসি, নির্ঘুমের হ্রস্ব ধ্বনি, কাহার অদৃশ্য হাতে, ইচ্ছারা সব সহমরণে যায়, আকাঙ্ক্ষার ঘরের জানালা ইত্যাদি ।পুরস্কার পেয়েছেন :নতুন গতি সাহিত্য পুরস্কার। ঠিকানা :রামরামপুর (শান্তিপাড়া), রামপুরহাট, বীরভূম।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।