দু’টি কবিতা

তিস্তা চক্রবর্তী on

(১)

উপশম

কাঁচের গেলাস ভেঙে কেটেছে আঙুল

টুপটাপ লাল রঙ
গড়িয়ে যায় খাঁজে খাঁজে
যেন বৃষ্টির জলে
ধুয়ে গিয়েছে সিঁদুর-

ডেটলতুলোর যত্ন নিয়ে
তুমি কাছে এলে
লাল রঙ মুছে যায় ,নোনা হয়
অন্তঃপুর
একটা চুম্বন এতটা মহার্ঘ্য
বুঝিনি তো আগে!

মনে মনে হেসে গড়িয়ে পড়ি-
বলি,
“কাছে এসো,
তোমাকে আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে।”

(২)
যেভাবে কবিতা হয়ে উঠি

ঘুম না এলে
আমি নিঃশরীর এসে দাঁড়াই
তোমার পাশে।
দারুণ ব্যস্ত আঙুলে তখন
পৃষ্ঠা উলটোও তুমি

মুগ্ধ হতে হতেও
অভ্যেসের অবহেলায়
আলো জ্বেলে বসি হঠাৎ!

ঊজ্জ্বল খুব ওই দুই চোখ!
তবু আলগোছে
ছুঁয়ে দিলে বুঝি
রোগা হয়ে গেছ অনেকখানি।

চাইলেই সহজে কাছে যেতে পারি
এমনটা নয়
ব্যথার শরীর জানান দেয়
উপশম আসলে উপেক্ষার বিপরীতে থাকে-
এতটা অযত্ন মানতে পারি না আমি।

পাশের বাড়ির আলো নিভে গেলে
আমাদের ভালোবাসা লিখি
নদীর মতো খুলে ফেলে দিই
অকারণ আভরণ,

ধারণ করতে করতে
কিভাবে কবিতা হয়ে উঠি
জানো কি তুমি?


 


তিস্তা চক্রবর্তী

জন্মঃ হাওড়ার আন্দুলে। বর্তমানে গড়িয়ায় বসবাস। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে এম.এ (২০০৪) পেশাঃ স্কুল শিক্ষিকা লেখালেখি শুরু লিটল ম্যাগাজিনের হাত ধরে। 'উৎসব ','সাপলুডো ','অপদার্থের আদ্যক্ষর' ইত্যাদি ম্যাগাজিনের পাশাপাশি 'নতুন কৃত্তিবাস ' ও 'দেশ ' পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।