তৈমুর খানের দুটি কবিতা

তৈমুর খান on

রাখাল

আমার অযোগ্যতা প্রমাণ হইল ।
সমস্ত গাঢ়লগুলি বৃক্ষছায়ায় আনিয়া
বিশ্রাম হেতু টুপি খুলিলাম ।
মরুভূমি ধুধু করিতেছে
সমস্ত হৃদয় শুষ্ক হইয়া গিয়াছে ।
বহুদিন বৃষ্টি হয় নাই
কোনও যুবতী ঝরনা কল্ কল্ শব্দে
হাসিয়া উঠে নাই ।
ক্লান্ত প্রাণ লইয়া সারাজীবন
রাখালি করিতেছি ।
এই বিদগ্ধ মাঠে গাঢ়ল চরাইতেছি ।
আমি মানুষ হইলাম না ।
আমি যোগ্য হইলাম না ।
আমি গাঢ়লদের মতো চিৎকার করিয়া
গাঢ়লদের ডাকিতেছি ।
লোকালয় সমাজ সভ্যতা আমাকে
কেহ গ্রহণ করিল না ।

রাজপুরুষ

আমি হিরণ্য আলোয়
নিজেকে রাজপুরুষ ভাবিলাম ।
আমার জরির পোশাক ঝলমল
করিতে লাগিল ।
প্রজারা দলে দলে আসিয়া
আমাকে স্যালুট জানাইল ।
আমি মহান হইলাম ।
আমি দেবদারু বৃক্ষের মতো
উদার হইলাম ।
সমস্ত পৃথিবীটাকে আমার
একটা ফুটবল মনে হইল ।
পা দিয়া গড়াইবার ইচ্ছা জাগিল।
অহংকার আসিয়া আমার পেশী
রাঙাইয়া দিল ।
আমি ভয়ংকর গর্জন করিয়া উঠিলাম।
বুঝিলাম
আমার রক্তের পিপাসা জাগিয়াছে ।



তৈমুর খান

তৈমুর খান নব্বই দশকের কবি হিসেবেই পরিচিত। তাঁর কবিতায় জীবনযাপনের নানা মুহূর্ত উঠে এসেছে। মূলত প্রেম ও বিষাদের তীব্র অভিঘাত । শব্দ ব্যবহারে ও চিত্রকল্পের ব্যাপ্তিময় প্রয়োগে কবির অসাধারণ দক্ষতা চোখে পড়ে। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল :বৃত্তের ভেতরে জল, জ্যোৎস্নায় সারারাত খেলে হিরণ্য মাছেরা, নির্বাচিত কবিতা, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার ভেতর এক নিরুত্তর হাসি, নির্ঘুমের হ্রস্ব ধ্বনি, কাহার অদৃশ্য হাতে, ইচ্ছারা সব সহমরণে যায়, আকাঙ্ক্ষার ঘরের জানালা ইত্যাদি ।পুরস্কার পেয়েছেন :নতুন গতি সাহিত্য পুরস্কার। ঠিকানা :রামরামপুর (শান্তিপাড়া), রামপুরহাট, বীরভূম।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।