তুঙ্গভদ্রার তীরে

চন্দ্রানী গোস্বামী on

চন্দ্রহাস ,
এক এক করে নামিয়ে রাখছি
আমার সমস্ত রিপু যন্ত্রনা, ধর্ম, অর্থ, মোহ
তবুও ভরা গায়ে জোয়ার খেলছে দ্যাখো!
এই মাত্র জ্বালিয়ে নিয়েছি চোখ
দ্যাখো এই আমার স্থূল শরীর
নরম জ্যোৎস্নার উঁকিঝুঁকি, তীব্র অভাবী ঘোর….

অল্প অল্প সুখ খাওয়া হলুদ পাখি কার্নিশে উঁকি দিয়ে দুঃখ লিখে উড়ে যায় মোহনার দিকে

এই সবই নামিয়ে রাখলাম….

হাওয়ায় উড়ে যায় বরফকুচি
এখানে গাছেরা নীরবতা পালনের দৃশ্যের মতো স্থির
পরিজন হারিয়ে গেলে যেমন গায়ে পায়ে ঘুম জড়িয়ে আসে
চোখের পাতায় লেগে থাকে ধানগুঁড়ো বহুকালের বেহিসেবি অভ্যাসের মতো…..

এইসব যাওয়া আসা শেষ হলে
উঠোনে পেতে রাখা মায়ায় নিবিড় হই।

মাটির দাওয়ায় লুটিয়ে থাকে শুধুই কবিতার ঘ্রাণ…..

ঘ্রাণ পাই,
নিরাশ্রয় বাউল কবির গায়ে লেপ্টে থাকা আদুর কবিতার ঘ্রাণ…

ঢুকে পড়ে অন্দরে।

ও কবি,জানো কি!
আমার ঘরে আজ আর কোনো দেওয়াল নেই।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


চন্দ্রানী গোস্বামী

জন্মঃ মে, ১৯৭৭, দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর অঞ্চলে।ছোটবেলায় বেড়ে ওঠা একান্নবর্তী পরিবারের উদারপন্থী খোলা বাতাসে। অত্যন্ত মধ্যবর্তী পরিবার, তাই জীবন খানিক সংগ্রামের রূপ। ছোট থেকেই বই পড়ার নিয়মিত অভ্যাস ছিল। পড়াশুনোঃ প্রথমে যাদবপুর সম্মিলিত বিদ্যালয় তারপর দক্ষিণ কলকাতার নামকরা অভিজাত কমলা গার্লস স্কুলে।যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক তারপর কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কর্মজীবনঃ দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজে একাউন্টস ডিপার্টমেন্টে করনিকের পদে চাকরি করি আর অফুরন্ত লেখার স্বপ্ন দেখেন। বিশেষ আগ্রহ: ছোটবেলায় উপহার পাওয়া ডাইরিতে কবিতা,গল্প লেখা।বই পড়ার খুব নেশা ,বিশেষত কবিতার বই। রবি ঠাকুরের শিশু ভোলানাথ জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।আবোলতাবলে আজও বেঁচে থাকার হাসি খুঁজে পান। সুনীল সাগরে ভেসে শঙ্খর শক্তি নিয়ে এগিয়ে চলাই প্রেরণা। ছেলে সবচেয়ে বড়ো সমালোচক। প্রথম "উত্তরভূমিকা" পত্রিকায় শ্রদ্ধেয় গৌরাঙ্গ সিনহার উৎসাহে আত্মপ্রকাশ।লেখা ছাড়া মনের খুশিতে গান শুনতে আর পাহাড় ঘুরতে ভালোবাসেন।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।