ছাদ বিহীন

বিদিশা সরকার on

পর পর পাঁচটি তেজস্ক্রিয় প্রয়োগের পরও বেঁচে গেলাম — …
আর একটু রাত হলে খুলে রাখব সব সংস্কার ।
মাথা ফুঁড়ে উড়ে গেল একটা প্লেন —
স্নায়ুর অক্টোপাসের গিঁট খুলে যাচ্ছে একটু একটু করে,
আজ যুদ্ধের বিষয়ে কিছু বলব না,
তোমরা ঘুমিয়ে পড়তে পারো

কেউ দায়বদ্ধ নও তোমরা।
প্রতিশ্রুতি আর চ্যারিটি ভুলে যাও এই
অনর্থ আর ব্যক্তিক অতিরঞ্জনের ঋতুর বিলাপ–

আজ ছাদ চেয়েছিল তার সঙ্গে থাকি
আমার থেকে দু বছরের ছোট,
হাওয়াই চপ্পলে মাথা রেখে ঢেকে যাচ্ছিলাম
ধুলোর ঝড়ে —
বাজ পড়া গাছটার মতই ।
অগ্নি-পরীক্ষার আগে চেয়েছিলাম
একবার
বিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলতে,
বিদ্যুৎ সপরিবারে বেরাতে গেছে


বিদিশা সরকার

জন্ম ১৯৬৩ সাল, কলকাতায়। সারদা বিদ্যাপীঠে স্কুল জীবন অতিক্রমণের পর ঠাকুরপুকুর বিবেকানন্দ কলেজে বাংলায় অনার্স নিয়ে স্নাতক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে এম.এ। মূলত সংগীত নিয়েই তার জীবনযাত্রা বাহিত হয়। ২০০৫ সালের কথা। তিনি উপলব্ধি করেন কবির কাছে কবিতার জন্য অন্তঃসলিলা সংগীতের ভূমিকা অনেকখানি। এই উপলব্ধির সুত্রেই অতঃপর বিবর্তিত হতে থাকে তার কবিতা। সন্দেহাতীতভাবে সমকালীন বাংলা কবিতার জগতে তিনি এক উজ্জ্বল মুখ। প্রথম কাব্যগ্রন্থ --- ‘যার সঙ্গে থাকি’ প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। এরপর ‘শূন্যের মাঝারে’ (২০০৯), “ঈশ্বর গোপনে আসে” (2011)। ২০১২ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘খণ্ডিতা’ প্রকাশিত হয় ‘পরম্পরা প্রকাশনী’ থেকে। প্রতিষ্ঠানিক পত্রিকার পাশাপাশি লিতল-ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখাও তাঁকে যথেষ্ট পরিচিতি দিয়েছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।