গল্পের মত করে

সোহেল ইসলাম on

বাড়িতে ন’জনের ভাতের হাঁড়ি মুখ চেয়ে বসে আছে সুব্রতর। একজোড়া চোখ ন’টা মানুষকে দেখে রাখছে সামলে রাখছে। মাঝে মাঝে সুব্রতকে রঙিন পেন্সিলের মত লাগে। যে যার মত সাজিয়ে নেবার জন্য ওকে রুলকাটা মেশিনে কেটেই চলেছে। গ্রাফাইট রঙের সুব্রতর কোনও আহাউহঃ নেই। কোনও বিরক্তি নেই। সারাজীবন যেন সময় নষ্ট করার জন্যই ওর বেঁচে থাকা।লক্ষ্যের ভেতরে যা তাকে নিয়েই চলা। এ কেমন চলা বেছে নিলি সুব্রত। ঠিকানায় না পৌঁছনো চিঠির মোড়কে রুদ্ধশ্বাসে লড়াই তার।যার কোনও ব্যাকরণ নেই। জীবনে লড়াইয়ের কোনও ব্যাকরণ থাকে না। দীর্ঘশ্বাসের পর আরেকটা দীর্ঘশ্বাস জুড়ে জীবনটাকে শেষমেশ টিকে রাখতে চেয়েছে সুব্রত। কুয়াশাভর্তি কুয়োর মধ্যে বালতি ফেলে জল তুলে আনার মত করে সংসারটাকে আগলে রাখতে চেয়েছে। তার মধ্যে সুব্রতর কোনও আপোষ নেই। অন্ধকার ছাতার তলায় দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটাকেই শান্তিনিকেতন বানিয়ে তোলার কসরত সুব্রতকে একটা লোক বানিয়ে তুলেছিল। কিন্তু সব ঠিকঠাক করতে পারছিল না কিছুতেই। এই পথ যেন শুধু তার জন্য। কোনও পথিক নেই আর। একটা সরলরেখার খোঁজ করছিল সুব্রত শেষের দিকে। জীবনটাকে ফিরে পেতে চাইছিল আরেকবার,ঢাকঢোল পিটিয়ে নয়, চুপিসারে। বেঁচে থাকার মত করে। রাস্তায় কাউকে বলত, আমাকে কিছু কাগজ দাও, সাদা কিংবা কাটাকুটি। কতদিন নৌকো ভাসাইনি। ডানা ঝাপ্টানোর শব্দ নিয়ে একটা কাগজের নৌকো ভাসিয়ে দিতে চাই তোমাদের দিকে…।



সোহেল ইসলাম

জন্মঃ ১৯৮৫ সালের ১লা মে । ২০০১ থেকে লেখা শুরু। প্রথম লেখা ব্যাক্তিগত না পাওয়া থেকে।তারপর দেখেছেন শুধু নিজে নয় হাজার হাজার মানুষ না পাওয়ার পুকুরে গলা জলে ডুবে যাচ্ছে,ডুবে আছে, তাদের কাছে নিজেকে দাঁড় করানোর জন্য লেখা। কবির মতে লিখলে ,না বলা গুলো, না বোঝাতে পারা গুলো বলতে পারেন। কবিতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "সবাই প্রতিরোধ শিখুক,প্রতিবাদ শিখুক,নিজের দাবি নিজেরাই জানাতে শিখুক।কেউ কারুর কান্না কেঁদে দেয় না।রাজস্থানের গ্রামে রুদালি ভাড়া পাওয়া যায়,কিন্তু আমাদের রুদালি আমরাই হব।কাউকেই এক ছটাক জমি ছাড়বো না।" প্রিয় কবিঃ রঞ্জন আচার্য, রানা রায়চৌধুরী। প্রিয় বই : সম্পর্ক। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - আব্বাচরিত। উত্তর দক্ষিণ , নাটমন্দির , কবিসম্মেলন , কৃত্তিবাস ও ছোট বড় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।