ছোট্ট বেলায় দাড়িতে তোমার
পেতাম ভীষন ভয়
তখন তুমি ঠাকুর ছিলে
কাছের মানুষ নয়।

সহজ পাঠে ‘ছোটো খোকা’
তোমার সাথে দেখা
কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি
হয়নি তখন শেখা।

তখন তোমায় মনে হোত
লম্বা দাড়ির সাধু
আবার কখন মনে হোত
পাশের বাড়ির দাদু

‘জল পড়ে পাতা নড়ে’
করছি যখন শুরু
তোমায় আমার মনে হল
পাঠশালা র ই গুরু।

‘এসেছে শরৎ’ ‘ছোট নদী ‘
‘নৌকা আছে বাঁধা ‘
“দুই ধারে কাশবন
ফুলে ফুলে সাদা।”

তারপর ধীরেধীরে
বেড়ে চলে পরিচয়
”নাথ’গিয়ে ‘রবি ‘হল
‘ঠাকুর’ যাবার নয়।

‘দামোদর শেঠ ‘কে
ভুলতে কি পারি’?
মদন কেমন যাচ্ছে হাটে
চেপে মামার  গাড়ি।

চোখটা তখন পড়ার বইয়ে
মারের ভয়ে বদ্ধ ঘরে।
মন উড়ছে মাঠে তখন
যেথায় সবাই খেলা করে।

তখন তুমি শোনালে আমায়
ফুলের ভাবনাগুলো
আমার যত ইচ্ছে তখন
তাদের গিয়ে ছুঁ ‘ল।

ফুল তখন প্রজাপতি
উড়ছে বইয়ের পাতায়
আমিও তখন ইচ্ছেডানা
আর কি রাখা যায়!

আমি তখন তালের বনে
একপায়ে সে দাঁড়িয়ে
ডানাটা তো পেল না সে
যেত সব ছাড়িয়ে।

আমিও তো তার ই দলে
ওড়া আর হল না
 বলে শুধু “পড় পড়”
খেলতে তো বলেনা

আর ও তুমি কাছে এলে
খোকাকে নিয়ে  বীরপুরুষে
যদিও আমার ভুতের ভয়
আমি ই তখন খোকার বেশে।

হঠত্ দেখি তোমার লেখায়
আছে আমার ভুলো
সেদিনই আমি  বুঝেছিলাম
তুমি যে কি ভালো—

আমার কথাই লেখো তুমি
তোমার বই এর পাতায়
আমি ই সেই’ ফেরিওয়ালা”
দুপুরে যে হাঁক দিয়ে যায়।

আমিই সেই ‘কানাইমাস্টার”
”’বেড়ালছানা ছাত্র””
ভুলেও আমি তার পিঠে
মারিনাতো বেত্র।

‘খেয়াঘাটের মাঝি ‘হয়ে
আমি ই করি পার
”মালি ‘হয়ে চেষ্টা করি
ফুল ফোটাবার।

তোমার সাথেই প্রথম আমি
গেলেম ‘মেঘের দেশে”
ঢেউগুলো সব ডাক পাঠাল
“এসো ঘাটের শেষে।”

তুমিই প্রথম নিয়ে গেলে
রাজকন্যার কাছে
“মাটিরপরে লুটিয়ে ””চুল
ঘুমিয়ে সে আছে।

এত এত কবিতা
নাই যদি লিখতে
পড়তে তো হোতনা
যেতাম  তো খেলতে

তুমি ই আনো বিপদ
তুমি ই শেখাও ‘প্রার্থনা’
কবিতা তো ঠিক ছিল
এল তোমার রচনা।

কত কত নাম  সব
কবিতা নাটক উপন্যাস
কি যে জ্বালা মনে রাখা
প্রান হোত হাঁসফাঁস।

কানে এল তুমিও নাকি
স্কুল যেতে চাইতেনা
কি যে খুশি হল মন
বোঝাতে তা পারবনা।

তোমার ও নাকি আমার মত
পড়াতে এলেই পেটে ব্যথা?
তখন তুমি বন্ধু আমার
বলতাম সব মনের কথা।

তুমি ই শুধু ছুটির দলে
বলো ‘রবিবার’এর কথা
ওরাও যদি তোমার মত
বুঝত আমার ব্যথা!

সেদিন থেকেই তোমার প্রতি
ভালোবাসার শুরু
তুমি ই শুধু বন্ধু আমার
আমার কবিগুরু।


অগ্নিশিখা ( দীপান্বিতা বালিয়াল )

 , যিনি সাহিত্যের জগতে অগ্নিশিখা নামেই পরিচিত, তার  জন্ম ও বেড়ে ওঠা  হুগলি জেলার খানাকুলের সেনপুর গ্রামে  ।ইংরাজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও বি.এড ডিগ্রী অর্জন করে এখন একটি হাই স্কুলে ইংরাজীর শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরতা।পঞ্চম শ্রেণীতে স্কুল ম্যাগাজিনে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে কবিতা লেখায় হাতেখড়ি।তারপর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁ র কবিতা।সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁ র কবিতা জয় করেছে অসংখ্য মানুষের মন। পাঠকদের মুগ্ধতাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে।গত বছর ই প্রকাশিত হয়েছে তাঁ র কাব্যগ্রন্থ" একলা জাগা মন"। কবিতা লেখার পাশাপাশি আবৃত্তি , শ্রুতিনাটক ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনাতে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।অত্যন্ত আবেগপ্রবন ও অনুভুতিশীল এই মানুষ্টি কখনই সমাজ বিমুখ নন।সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যান মুখী কাজের সাথে যুক্ত থেকেছেন তিনি বারবার।মানুষের যন্ত্রনায় কেঁদেছে তাঁ্র হৃদয় আর তার প্রতিফলন ঘটে তাঁ র লেখাতেও।

2 Comments

MD SHAHINUR RAHMAN · মে 28, 2018 at 7:40 অপরাহ্ন

খুবই ভাল লাগল।

    অগ্নিশিখা · মে 28, 2018 at 7:58 অপরাহ্ন

    অনেক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা ও ভালবাসা বন্ধু। ভালো থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।