শিরোনামহীন কবিতাগুচ্ছ

বিপ্লব সরকার on

১.
গাঢ় শব্দের দেশ থেকে নেমে এসে দেখি
বিচ্ছিন্ন পাখির পালক

উল্টো সুরে ব্যালাড গায়

রাগ নেই অভিমান নেই। ক্ষীণ হয়ে আসা
অভিযোগে ক্ষমা জেগে ওঠে

ও আমার হারিয়ে ফেলা নাইটেঙ্গল পাখি!
গাঢ় শব্দের দেশ থেকে নেমে এসেছি
আমি ঘুমবো, আমাকে আর একটিবার
বুকে চুম্বন দিয়ে যাও প্লিজ!

২.
চাঁদের আলো ক্ষীণ নয়, সূর্য উঠলে
মানুষের ভিতর সাপ জন্ম নেয়

এইতো অসময়ের পাঠশালা। চারপাশে
অকৃতজ্ঞ আয়নার ভীড়

তবু অন্ধকারের ভিতর দিগন্তবিস্তৃত জ্যোতস্নাশিবির
আমাকে উপদেশ শোনায়

আবছা জাগরণের ভিতর মৃদু সুর বরাবর
আমি কোন গন্তব্যের দিকে ধাক্কা খেতে খেতে এগোতে থাকি?

৩.
বেঁচে আছি জৈবিক পরিচর্যাহীন
শুধু কান্না পেলে কাঁদি, হাসি পেলে হাসি

মাঝে বিস্তর হাহাকারের ভিতর কেউ
উঁকি রাখে না
কেউ সরলবর্গীয় বৃক্ষের চাওয়া
বুঝে ওঠে না

অথচ আমার জৈবিক বরফে বিশ্ব উষ্ণায়ন
ঢেলে দিয়ে তুমি
আচমকা এক সোয়ালো পাখি…

৪.
ফুরিয়ে গেলে কোনো কান্না বাকি থাকেনা
যতটুকু নদী আসে এই তুমি যাচ্ছ যাচ্ছ বেলায়

এখন কোনো মন খারাপের বেহালা নেই
এখন শুকিয়ে পড়া নৌকাবিহার নিয়ে
ভালো গল্পের বই পড়ি, প্রতিবাদী কবিতা
উচ্চারণ করি

তবে হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে
বুকে হাত ঘষি
একে তুমি বরং মুদ্রাদোষ ধরে নিও প্রিয়!

৫.
কি দেখে বলো, বদলে ফেলছো ভাষালিপি
হো-হো হাসির ভিতর ফুলে ওঠা বুক নেই



বিপ্লব সরকার

প্রথম দশকের তরুণ কবি। জন্মঃ ১৩-০৩-১৯৯২, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার ক্ষুদ্র শহর মাথাভাঙ্গায়। সেখানে বসেই লিখে চলেছেন বাংলা কবিতা। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর বিপ্লবের কর্মজীবন এখনও স্থায়িত্ব না পেলেও পূর্বে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা ও উত্তরবঙ্গ সংবাদে সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে গৃহশিক্ষকতা ও পড়াশুনা নিয়ে থাকেন। প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থ "ওঁ চিহ্নের সন্ধি" (শাম্ভবী) ও "চাপা পড়ে আস্ত শহর" (হাওয়াকল)। ২০১৮ সালে হৃদয়কলি সাহিত্যপত্রিকা "হৃদয়কলি সম্মান" প্রদান করেন কবিকে। কবিতা লেখার পাশাপাশি কবি ঘুরতে ভালোবাসেন পাহাড় ও বনাঞ্চলে

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।