ভোজ

তিস্তা চক্রবর্তী on

voj

মিড ডে মিলের তদারকি করতে এসেছে পূর্বা রোজকার মতোই। আগে তো এই রোদঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাচ্চাগুলো খোলা মাঠেই বসে যেত খেতে। এখন পাকা ডাইনিং হল আর মাথার ওপর ফ্যান পেয়ে তারা বেজায় খুশি। ভিড়ও খুব হয় খাবার লাইনে, বিশেষ করে বুধবার। ওইদিন স্পেশাল মেনু, ডিমের ঝোল ভাত। গরম ভাত ডাল তরকারির গন্ধ আর বাচ্চাদের কলকলানিতে একটা অদ্ভুত তৃপ্তি আসে পূর্বার। কার আরেকটু ভাত লাগবে, কার আরেকটু তরকারি … মাসিদের ফাঁকি দেবার জো নেই এই দিদির চোখ এড়িয়ে।
কিন্তু মাসুদ কই? এমন তো আজ অব্দি কখনো হয়নি যে সে ছেলে স্কুলে এসেছে, অথচ…!
“এই সাহিল, মাসুদ খেতে আসেনি কেন রে?”
” কিজানি, কত করে বললাম চ…বলে পেটে ব্যথা, খাবুনি আজ।”
অস্বস্তি হয় পূর্বার। অসুস্থ নাকি ছেলেটা? একবার খোঁজ নিতে হচ্ছে তো…
ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে পুর্বা সোজা হাঁটা দেয় সেভেন বি সেকশনের দিকে।
ফাঁকা ক্লাসরুম। কই ,ছেলেটাকে তো দেখা যাচ্ছে না। এদিক ওদিক উঁকিঝুঁকি দিয়েও মাসুদের দেখা মিলল না। কাউকে না বলেই বাড়ি চলে যায়নি তো!

দোতলার করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ির মুখে জিওগ্রাফি ল্যাব। মনে হয় ফোর্থ পিরিয়ডে ক্লাস ছিল, দরজাটা খোলাই আছে। কোএডুকেশন স্কুল। ছেলেমেয়েরা একটু সুযোগ পেলেই আজকাল যা সব কান্ড ঘটায়! পূর্বা উঁকি দিয়ে দেখে ভেতরে কেউ আছে কিনা।
মাসুদ!
জানালার ধারে পেছন ঘুরে বসে মাথা নিচু করে কী যেন করছে। নেশাভাঙ ধরল নাকি… আশ্চর্যের কিছু নয় এই এলাকায়।
পূর্বা পা টিপে টিপে এগোয় হাতেনাতে ধরবে বলে…
“এখানে কী করা হচ্ছে? খেতে যাসনি কেন?”
থতমত ছেলেটার মুখভরা খাবার নিয়ে স্বর্গীয় হাসি। পূর্বার সামনে একটা আধখোলা টিফিনবক্স…
“আম্মি আজ ঘরে ছেলো…নিজে হাতে টিফিন দেছে ম্যাডাম। রুটি আর বেগুনভাজা…”



তিস্তা চক্রবর্তী

জন্মঃ হাওড়ার আন্দুলে। বর্তমানে গড়িয়ায় বসবাস। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে এম.এ (২০০৪) পেশাঃ স্কুল শিক্ষিকা লেখালেখি শুরু লিটল ম্যাগাজিনের হাত ধরে। 'উৎসব ','সাপলুডো ','অপদার্থের আদ্যক্ষর' ইত্যাদি ম্যাগাজিনের পাশাপাশি 'নতুন কৃত্তিবাস ' ও 'দেশ ' পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।