পোটেনশিয়াল

মণিদীপা সেন on

ঘন জঙ্গলের মাঝে ঝড়াম করে নেমে এলো একটা জানলা। একটা বক্স জানলা। তাতে একটা মেয়ে বসে। তার পা খারাপ। ঈশ্বর তার ঘর বানাবার সময় বলেছিল ,” তোমার কি করতে সবচেয়ে ভালো লাগে?” মেয়েটা বলেছিল, ” ঘুরতে ” । ঈশ্বর একটা বক্স জানলা বানিয়ে সেখানে তাকে বসিয়ে দেয়। বলে, ” তুমি যখন যা দেখতে চাইবে, যেখানে যেতে চাইবে এই জানলা নিয়ে যাবে তোমায় সেখানে”। এরপর মেয়েটা যে জায়গার নাম বলত জানলা শুদ্ধু সেখানে অবতরণ করতে পারত। বক্সে সে বসে থাকত আর ফ্রেম দিয়ে দেখত। বাড়ির লোকেরা এত কিছু জানত না। তারা শুধু জানত তাদের একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে যে হাঁটতে পারে না। একটা অন্ধকার ঘরে সে একা থাকে। তার বন্ধু নেই। শুধু মাঝেমাঝে বলে, “আমায় ওই জানলাটায় বসিয়ে দাও”।


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করুন


মণিদীপা সেন

খড়খড়ি জানলা, লোহার ঘোরানো সিঁড়ি, প্রাচীন গ্রন্থাগার, খোলা মাঠ ইত্যাদি সমন্বিত গঙ্গা তীরবর্তী বনেদী মফস্বল হাওড়ার বালিতে জন্ম। ২০১৫ তে মাসকমিউনিকেশন -জার্নালিজমে স্নাতকোত্তর পাশ করার পরে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কর্পোরেট অফিসে কর্মজীবন শুরু। বর্তমানে সেই চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত।স্কুলজীবন থেকে লেখালিখির শুরু হলেও ২০১৫ থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ওয়েবজিনে লেখা প্রকাশ শুরু হয়। অপরাজিত, মধ্যবর্তী, বাক্, শহর, সৃষ্টির একুশ শতক, সোপান, দহগ্রাস, ক্রৌঞ্চদ্বীপ, ইত্যাদি পত্রিকা সহ অন্যান্য পত্রিকায় কবিতা ও গদ্য শাখায় তাকে পাওয়া গেছে। ২০১৭ সাল থেকে "এবং চিলেকোঠা" পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদনায় যুক্ত। নির্জনতার যা যা উপাদান হয় সবই প্রিয় যেমন প্রত্যন্ত কোনো গ্রামের বাঁশ-বাখারির মাচা, বিস্তীর্ন নদীতট, জঙ্গুলে ট্রি হাউস বা লবঙ্গনির্যাস তামাকধোঁয়া।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।