অফার

মানস সরকার on

offer

এখন ট্রেনে। সামনে এক হকার। অনেকটা রোবট আকারের। বিক্রি করছে মোবাইল।

সুরেলা গলায় চেঁচাচ্ছে, – কথা বলুন,  কথা বলুন,  আপনার প্রিয় মানুষটার সঙ্গে। মোবাইল কানে দিলেই প্রেমিকা আপনার। এ মোবাইলই পৌঁছে দেবে সুমেরু বা কুমেরু। পাবেন রানি ভিক্টোরিয়া বা গান্ধীজীর ফেসবুক। আপনার সব আশা পূরণ করে দেবে এ মোবাইল। কয়েকশো গুণ মেগা পিক্সেল  লেন্স। শুধু একবার পরখ করুন।

   নড়েচড়ে বসলাম। আশেপাশের সব সহযাত্রীর মুখে নতুন আশার হাসি।

   অনেকদিন থেকে ইচ্ছে এ রকম একটা মোবাইলের।

   – পরের স্টেশনেই নেমে যাব। জলদি করুন। ছাড় আছে।

    চেঁচিয়েই চলেছে হকার। আলোকবর্ষের গতিতে ট্রেন।

    – এই যে,  একটু শুনুন, পেছনের পকেটে হাত রেখে স্পর্শ নিই মানি ব্যাগের।

    এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায় হকার।

    – একটু দেখতাম। বস্তির ছবি দেখা যায়?

    – না।

    – ফুটপাতের?

    – না।

    – আচ্ছা। ডিক্সনারি আছে?

    – আছে।

    – প্রেমের শব্দগুলো পাব নিশ্চয়ই?

    – না।

    – কী আশ্চর্য!  এই তো বলছিলেন…

    – ছাড়ুন। অফারটা শুধু হৃদয়হীনদের জন্য।



মানস সরকার

স্কুলে সাহিত্যচর্চার শুরু হয়ে কলেজে চললেও শূন্য দশকের প্রথমেই সাহিত্যের আঙিনায় পাকাপাকিভাবে চলে আসা। ইংরাজি সাহিত্যের ছাত্র ও প্রথাগত পড়াশোনা। একটি দৈনিকের সম্পাদনার কাজে দীর্ঘদিন থাকার পর এখন প্রকাশনা সংস্থায়। আনন্দবাজার, এবেলা,  আনন্দমেলা,  এই সময়,  বর্তমান, প্রতিদিন,  একদিন,  কিশোর ভারতী, তথ্যকেন্দ্র, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, গৃহশোভা, স্টেটসম্যান, অদ্বিতীয়া বা অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনের পাতায় গল্প লেখা নিয়মিত। গল্প থেকে তিনটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মিত,  যার একটি পশ্চিমবঙ্গ তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উৎসবে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত। প্রকাশিত গল্পগ্রন্হ ' তুলির শেষ টান' (২০১৮) ও ' বর্ষাপুরুষ' ( ২০১৯)। বেশ কিছু পুরস্কার লাভ। উপন্যাস লিখলেও মূল আগ্রহ গল্প ঘিরে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।