বসন্ত এসে গেছে

ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য্য on

বসন্তের গন্ধ নিতে গেলে বনে যেতে হয়। বসন্তে নাকি বনের ভেতর একটা মাতোয়ারা গন্ধ পাওয়া যায়। গন্ধটা রুমির ভীষন চেনা। যখন বাথরুমে শাওয়ারের নীচে এসে দাঁড়ায় ঠিক তখনই ওমন একটা গন্ধ পায় রুমি। এই গন্ধটাই কি ফিরদৌস আতরের ? কে জানে! রুমি এপ্রিলের জাতিকা। টি এস ইলিয়টে পড়েছিল,এপ্রিল ইজ দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ। রুমিরও তাই মনে হয়। সেই জন্যই তো রুমি এতটা নিষ্ঠুর । নিজের সুন্দর শরীরটাকেও ওর হিংসে হয়। হিংসেটা যত বাড়ে,মাতোয়ারা গন্ধটাও তত প্রকট হয়। নখের আঘাতে নিজের বুক,উরুসন্ধি কেটে,ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হয় রুমির। প্রজাপতি গুলো কেমন রুমির ঠোঁট ছুঁয়ে যায়। ফুল থেকে চুরি করে আনা পরাগ লেগে থাকে রুমির নরম ঠোটে। আর রুমির ইচ্ছে হয় ওই প্রজাপতির ডানা ছিঁড়ে এনে সারা শরীরে ঘসতে। নাভিতে,স্তনের বোঁটায়, উরুতে বা গলার ভাঁজে প্রজাপতির সেই খসখসে আবির রঙ মাখিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। যখন পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, বসন্তের মাতাল সমীরনের ডাকে সবাই বনের পানে ছোটে,রুমির চুল গড়িয়ে চাঁদের আলো নামে কোমরের বাঁকে আর সেই আলো চুইয়ে নেমে যায় রুমির গোপন অন্ধকারে। জানালার ওপাশে,অমলতাসের ফুল ফুটে থাকে আর সেই ফুল দুলে উঠে মাউথ অর্গানের সুরে। ছটফট করে রিমির বুকের ভেতর। এত আলো আকাশে,এত আলো বাতাসে,ও ছেলে বাজালো বাঁশী তবু কি বলে? ওই মাউথ অর্গানের সুর আর সুরকার দুজনকেই মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে রুমির। মনে হয় ওই ছেলেটার মুখ থেকে মাউথ অর্গানটা ছুড়ে কৃষ্ণ গহ্বরে ফেলে দিয়ে নিজের দুই ঠোঁট দিয়ে ওই ছেলের ঠোঁট চেপে ধরতে। ইচ্চে করে চুম্বনের পর চুম্বনে সব রক্ত টেনে নিতে। কল্পনায় দেখতে পায় রুমি,হিংসুটে সেই চুম্বনে সাদা হয়ে যাচ্চে ছেলেটি ক্রমশঃ আর শেষ পর্যন্ত নিশ্চুপ একটা সাদা মুখ এলিয়ে পড়ছে রুমির স্তনের উত্থানে। সারা শরীরে ঘাম জমে উঠে রুমির। রাত পোষাক ভিজে উঠে ঘামে ,আঁকড়ে ধরে শরীরের যাবতীয়  উঁচু-নীচু। 

ছেলেটাকে মেরেই ফেলেছে রুমি। গত রাতে যখন হলদে চাঁদ ঝুলে ছিল কার্নিসের সমান্তরালে,রুমি জাপটে ধরেছিল ছেলেটাকে। মুহূর্তের মধ্যে চাপ চাপ ছায়ার মতন যত সুর ছিল ছেলেটার সব অন্ধকার হয়েগেল। রুমির হিংসুটে ভালোবাসায় আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস  বন্ধ হয়ে গেল ওর। রুমির ভীষন তৃপ্তি হয়েছিল। যে ভালোবাসা ওর একার নয়,তার মরণ অনিবার্য। জোনাকি এসে বসেছিল ছেলেটির নিষ্পলক ঠোঁটে,রুমি পায়ের চাপে পিশে দিয়েছে সেই উত্তাপহীন আলো। স্নান করেছে রাতভোর। গায়ে যেন রক্ত লেগে আছে। স্নানের পর রুমির পোষাকহীন শরীর ভিজতে থাকে চাঁদের আলোয়। 
বিকেলের বৈরাগী রঙ মেখে শিমুলের ডালে একঘেয়ে ডেকে চলেছিল একটা কোকিল। রুমির আর রাগ হচ্ছে না এতটুকু। রুমির উরু বেয়ে নামছে ঋতুর রক্ত। বসন্ত এসে গেছে।

ঋদ্ধিমান ভট্টাচার্য্য

জন্ম ১৯৮৩র ৫ই এপ্রিল। ড়ি টাকিতে।রসায়নে স্নাতক।লেখালেখি সখ ইস্কুল থেকেই। স্রোত, কাজরী এমন কিছু লিটল ম্যাগের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল লেখা।সেই ভাললাগা থেকেই লিখে যাওয়া। সেভাবে বিশেষ কোন ধরনের প্রতি আলাদা পক্ষপাত না থাকলেও, ভ্রমনের গল্প, কবিতা, অনু গল্প, গল্প সব রকমের লেখাই পছন্দের। আপাতত রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থায় কর্মরত আর অবসর সময়ের সঙ্গী এই লেখা। বর্তমানে ব্লগ টগের মতন কয়েকটি অন-লাইন ব্লগের সাথেও এই লেখালিখির সুত্রে জড়িত। প্রতলিপি বা Story Mirror এর মতন পোর্টালেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এই নভেম্বরে Story Mirror আয়োজিত একটি সর্ব ভারতীয় প্রতিযোগিতায় “ট্যাটু” গল্পটি প্রথম পঞ্চাশটি গল্পের সূচীতে মনোনীত হয়েছে। লেখলেখির পাশাপাশি ছবি আঁকা, ছবি তোলা আর বেড়ানোর সখ আছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।