নীল দরজা

মুনমুন মুখার্জী on

দরজাটি আর কোন রকম আকর্ষণ তৈরী করে না আজকাল। জীর্ণ, শীর্ণ, এখানে ওখানে রঙ চটে যাওয়া, দেয়ালের দৃঢ় গাঁথুনি থেকে অনেকাংশেই নিজেকে মুক্ত করে নেয়া স্বপ্ন-নীল রঙা দরজাটির কোন জৌলুসই আজ আর অবশিষ্ট নেই। দরজার ওপরের ধ্বংসপ্রায় অভিজাত কারুকার্য, দু’পাশে ক্ষয়ে যাওয়া প্রশস্ত দেয়ালের মলিনতায় আজ নীরব হাহাকার!

হয়তো একদিন এই দরজাটির বাঁধা অতিক্রমের জন্যই উন্মুখ ছিল কোন অপরিণত তারুণ্য। হয়তো দরজার ওপাশে ভালোবাসা চাদর মুড়িয়ে অপেক্ষায় ছিল কোন পিয়াসী প্রেয়সী। তবুও বাহিরমহলের বিভাজন দ্বার ডিঙ্গিয়ে অন্তরমহলে প্রবেশাধিকার ছিল না সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কোনও জাগতিক অনুভূতির। অতৃপ্ত ভালোবাসা হয়তো ডুকরে কেঁদেছে দরজার ওপাশে। আর এপাশে- শান্তি, তৃপ্তি, আভিজাত্য আর আনুগত্যের প্রতীক হয়ে আত্নবিশ্বাসী প্রত্যয়ে ভেতর আর বাইরের সবটুকু মান, অভিমান, দ্বন্দ্ব, বিচ্ছেদের কাহিনী আপাতঃ অন্তরালে রেখেছে এই নীল দরজা।

ক্ষয়িষ্ণুতার সূত্র মেনে বাইরের ঝঞ্জার কাছে হার মেনেছে সে অবশেষে। একটি কপাট আলতো খুলে গেছে হাওয়ার দাপটে। তবুও মুক্তির আনন্দ মেখে ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এল না কেউ।

অপ্রাপ্তিতে অভ্যস্থ মৃণালিনী আজ আর ভালোবাসার স্পর্শে পরিপূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখে না।


মুনমুন মুখার্জী

জন্মঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে।
স্কুল কলেজে বিজ্ঞানের ছাত্রী হলেও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিবিএ এবং এমবিএ করেন।
লেখালেখির শুরু স্কুলজীবন থেকে। স্কুল এবং কলেজে ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ লিখে স্কুল কলেজ পর্যায়ে  বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন।
বিবাহসূত্রে ভারতীয়। দিল্লী প্রবাসী।  বিয়ের পর সাহিত্যচর্চায় বিরতি আসে।
২০১৫ সাল থেকে পুনরায় লিখতে শুরু করেন। এবার ইংরেজী ভাষায় লেখা শুরু করেন। অতঃপর স্কুলের এক বন্ধুর উৎসাহে ২০১৭ থেকে আবার বাংলায় লেখা শুরু করেন। এখন বেশ কিছু বাংলা ব্লগ এবং অনলাইন পত্রিকা (বাংলাদেশী এবং ভারতীয়) লেখালেখি করেন। ছোটদের একটি ইংরেজী অনলাইন দৈনিক পত্রিকার "Saturday Edition" এর এডিটর ইনি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।