কাঁটা

হৈমন্তী ভট্টাচার্য on

খেতে বসে তাড়াহুড়োয় মাছের কাঁটাটা এমন বেকায়দায় গেঁথে গেল, আহ, বেরোচ্ছেই না। অফিস যাবার পথে বাসে বসে অসীমবাবু বেশ করে জিভ দিয়ে এদিক ওদিক ঠেলাঠেলি করলেন, নাহ, বেয়াড়া কাঁটা এমন ভাবে সেঁদিয়ে আছে যে বেরোনোর নামটি নেই।

     বাপরে!! এবার ব্যথা হবে, তারপর পুঁজ হবে। ইস! তারপর ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে। ওরে বাবা, একগাদা টাকার ধাক্কা শুধুমুধু। ধুস, ভাল্লাগে না। অসীম রায় বাসে বসে ঢুলতে ঢুলতেই ভাবতে লাগলেন তিনি বুকের পাঁজরের মত চারটে কড়কড়ে একশো টাকার নোট বাড়িয়ে দিচ্ছেন, আর ডেন্টিস্ট খরগোশের মত দাঁত বের করে হাত বাড়াচ্ছে। অসীমবাবুর হাতটা ছোট্ট হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ, আর ডাক্তারের হাতটা ছোটবেলায় পড়া মেছোপেত্নীর হাতের মত লম্বা হয়ে তার পকেট অবধি চলে আসছে । কপাল ঘেমে উঠতে লাগল অসীমবাবুর।

     ধাক্কাধাক্কি করে বিধাননগরস্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে ভিড়ে ঠাসা  বাসে কোনরকমে শরীরটা গলিয়ে দিয়ে আধঘন্টা পেষাই হতে হতে অফিসে পৌঁছানো। বাসের জন্যও হা পিত্যেস করতে হয় অনেক ক্ষণ। মাঝে মাঝে লটারি পাবার মত বসার জায়গা মেলে। অটোতে গেলে আরামে যাওয়া যায়, কিন্তু পঁচিশটাকা ভাড়া। পঁ-চি-শ টা-কা!একদিন গেলে পাঁচদিন  তাকে হেঁটে উল্টোডাঙ্গা থেকে অফিস যেতে হবে, তবে গিয়ে ওই টাকা উসুল হবে।

        কেপ্পনের নাম করলে নাকি হাঁড়ি ফাটে। অসীম বাবুর কৃপণতা সেই রকম বিশ্বমানের ক্লাসিক লেভেলের না হলেও পিঁপড়ের পেছন টিপে চিনি খাবার উপমাটা একদম সুপ্রযুক্ত তার জন্য। একটি পয়সাও তিনি বাজে খরচ করবেন না। বাসে না গিয়ে অটো চড়া, অসুস্থ না হয়ে ট্যাক্সি চড়া, সপ্তায় একদিনের বেশি মাছ খাওয়া সবই অবশ্য তার “বাজে খরচ” এর লিস্টে পড়ে। অফিসের লোকেরা এবং বাড়িতে গিন্নি যে তাকে হাড় কেপ্পন, মক্ষীচুস বলে  তাতে অবশ্য তার বয়েই গেল। আরে বাপু, পয়সা জমাতে হয়, না হলে কী লক্ষ্মী বাস বাঁধে?  কম বয়সে বহুত কষ্ট করছেন। বেড়িয়ে হোটেলে খেয়ে সব টাকা ওড়ালে হবে? বিপদে পড়লে কে দেবে? এমনিতে তিনি যা মাইনে পান, তার ও গিন্নির ভালোই চলে যায়। বাচ্চা কাচ্চা নেই। তাই সেদিকে খরচও নেই।

              ওই তো তার অফিসের সোলাঙ্কি, কতটুকু মেয়ে, কদিন জ্বর জ্বর হল, তারপর ব্লাড টেস্টে কী দেখা গেল? না একিউট মাইলয়েড লিউকমিয়া। বাপরে, যেমন গাল ভরা নাম, তেমন তার খরচের বহর। বরের সাধারণ বেসরকারি চাকরি, তাও মুম্বাই নিয়ে গেল। কত খরচ। একেকটা কেমো তেই নাকি তিন চার লাখ করে খরচ, শোনা কথা অবশ্য। কলকাতায় ফিরেছে মাস পাঁচেক হল। একটা ক্লাসটুতে পড়া ছেলে আছে।

**********

       অফিসে ঢুকতেই দেখলেন  সিনিয়ার টাইপিস্ট বড়ুয়া বাবু, কম্পিউটারের নতুন জয়েন করা ছেলেটা ,কী যেন নাম, ও হ্যাঁ, ইয়াসিন, এবং কয়েকজন ইউ .ডি একজোট হয়ে সেকশন অফিসার শ্যামলবাবুর টেবিলে কি সব আলোচনা করছে গম্ভীর মুখে। কী হল রে বাবা? আবার কারোর বিয়ে কী বিবাহবার্ষিকী নাকি? আবার দু দুশ টাকা গচ্চা যাবে। কোনোভাবেই কাটানোর জো নেই। চক্ষুলজ্জা র খাতিরে ‘দেব না’ ও বলা যায় না। অসীমবাবু কিপটে হতে পারেন, কিন্তু তার আত্মসম্মানজ্ঞান টনটনে। তিনি যান না নেমন্তন্ন খেতে, অম্বলের রোগ, খেলে হজম হয় না। তাই বেশী গায়ে লাগে।

         কিন্তু না তো, পাশ দিয়ে যাবার সময়ে সোলাঙ্কির নামটা শুনে দাঁড়িয়ে গেলেন। একটু গলা খাকড়ে বললেন

-” ইয়ে, কী ব্যাপার? কী হয়েছে?”

-“কিছু শোনেননি অসীমদা?” ইয়াসিন প্রশ্ন করল।

-” না, কী হয়েছে?”

-” সোলাঙ্কির ক্যানসার আবার রিলাপ্স করেছে, রাজারহাট টাটায় ভর্তি। ডাক্তার বলেছে কেমোয় কাজ হচ্ছে না। বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টই একমাত্র পথ। ” একটু থেমে ইয়াসিন বলল ” তাতে খরচ প্রায় কুড়িলাখ, তাই আমরা অফিস থেকে টাকা তুলেছি যতটুকু সাহায্য করা যায়। ফেসবুকেও দেওয়া হয়েছে।”

-” ইউ. ডি রা প্রত্যেকে হাজার করে দেওয়া হোক”, আপার ডিভিশন ক্লার্ক শুভাশীষ বলল। 

হা-জা-র! মাথাটা বন বন করে ঘুরে গেল। চোখে ঝাপসা লাগছে। ইউ. ডি, এল. ডি রা হাজার দিলে তিনি বড়বাবু, পনেরশ হবেই তাদের।

-” কেন?” মরিয়া ভাবে বলে উঠলেন অসীম বাবু, “যে যার সামর্থ মত দেবে”।

            কী আপদ বাপু, সোলঙ্কি প্রচন্ড সৌখিন ছিল। অফিসে একজন আসে শাড়ি বিক্রি করতে, সোলাঙ্কি কত টাকার শাড়ি কিনত, ধারে অবশ্য। কত জায়গায় বেড়াতে যেত। ওই ভাবে পয়সা নষ্ট করলে বিপদের সময় এই অবস্থাই হয়। আর তা ছাড়াও ক্যান্সারে কেউ বাঁচে নাকি? শুধু শুধু পয়সা নষ্ট।

-” এই ছাড়ো তো ইয়াসিন, যাও অসীম, ও সব পরে ভাবা যাবে। আগে যে ফাইলটা কাল দিয়েছিলাম , সেটা ক্লিয়ার করে দাও দিকি।” চড়া গলায় বললেন সেকশন অফিসার শ্যামলবাবু।

তারপর দরাজ গলায় বললেন “আমি দু হাজার দিচ্ছি, নাও লিখে রাখো। ইয়াসিন সকলের নামের লিস্ট বানাও। কে কত দিল নোট কর।”

মনে মনে চিড়বিড় করে জ্বলতে জ্বলতে অসীম সিটে এসে বসলেন।   অফিসের হোয়াটসএপ গ্ৰুপটা খুলতেই পরপর মেসেজ। হ্যাঁ সোলাঙ্কির জন্য আবেদন করেও একটা মেসেজ আছে। সোলঙ্কির ব্যাঙ্ক একাউন্ট ডিটেইলস দেওয়া আছে। আই.এফ.এস.সি কোড , ব্রাঞ্চনেম সব আছে। 

        হঠাৎ অসীম বাবুর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। আরে বাহ, দারুন জিনিস মাথায় খেলেছে তো!! তিনি যদি বলেন অফিসে নয়, সরাসরি ওর একাউন্টে টাকা  পাঠিয়ে দেব? তাহলে তিনি কত দিচ্ছেন না দিচ্ছেন কেই বা জানতে যাচ্ছে। এমনকি তিনি যদি না দেন! আরে তাইতো!! না দিলেও কেউ কিছুটি জানবে না। ভদ্রতার খাতিরে কেউ তো আর প্রমান দেখতে চাইবে না। বেড়ে ভেবেছেন তো। কতগুলো টাকা বেঁচে গেল। নিজেই মনে মনে নিজের পিঠটা চাপড়ে দিলেন ভালো করে।

          “আমার যে সব দিতে হবে…হুহু আমি জানি, আমার যত হুহুহুহু ..” মনে মনে গান ভাজতে ভাজতে ফাইল খুললেন। ইস কাঁটাটা এখনো জ্বালাচ্ছে। সমানে খচখচ করে চলেছে তো। বারবার মনটা ওদিকেই চলে যাচ্ছে।

*************

যথা সময়ে ইয়াসিন পার্থরা এসে হাজির নাম লেখা ফর্দ নিয়ে। 

-” অসীমদা তখন বললাম না , বুঝতেই তো পারছেন এত খরচ..আপনার ইচ্ছামতই দিন না হয়, যতটুকু সম্ভব”..

কথা শেষ করতে না দিয়ে অসীমবাবু বলে উঠলেন

” হ্যাঁ ভাই, আমি দিয়ে দিয়েছি , ওর একাউন্টেই পাঠিয়ে দিয়েছি এন.ই.এফ.টি করে”। যতটা সম্ভব মুখটা করুন করে বললেন অসীম রায়।

-“তাই?” মুখে একরাশ অবিশ্বাস ফুটিয়ে ইয়াসিন বলল। 

প্রমান দেখতে তো আর চাইতে পারবে না বাছাধন। মনে মনে একচোট হেসে নিলেন অসীমবাবু।

কথা না বাড়িয়ে ওরা অন্য টেবিলে চলে গেল।

কিন্তু অসীমবাবু ফাইলে মন দেবেন কি করে? কাঁটা র খচখচানি তাকে বড্ড জ্বালাচ্ছে যে!

*********

টিফিনে খাবার সময়ে আবার সেই কাঁটার খচখচানি। মুড়ি চিবুতে গিয়ে বেশ লাগছে। 

পাশের টেবিলে টাইপিস্ট নয়না, আর মনীষাদির কথা কানে আসছে। 

-” ইস এইটুকু বাচ্চা মেয়ে। এই সেদিন ও অফিস করে গেল, বল?”

-” হুম কার যে কখন কী হয়, কেউ বলতে পারে না, এই তো সেদিক লাদাখ ঘুরে এল, তারপরই..”। 

বাপরে লাদাখ !! সে তো অনেক খরচা, জীবনে দি .পু .দা মানে দীঘা পুরী দার্জিলিংই গেলেন না। ওহ না, একবার দীঘা গেছেন অবশ্য। শালী আর তার বরের সঙ্গে। তাও গিন্নির চাপে। নইলে তিনি কেঁদে রসাতল করতেন।

-” হুম রে, কার যে কখন কী হয়, তাই আমার বর বলে যে কদিন ভালো আছি, সে কদিন চুটিয়ে আনন্দ করে নাও, কার যে কখন ডাক আসবে। ” মনীষাদির গলা।

-” হ্যাঁ, আমার বোনের এক বন্ধু , কদিন ধরে গ্যাস হচ্ছিল, ধরা পড়ল গল ব্লাডার স্টোন। সাধারণ ব্যাপার। শেষে দেখা গেল গল ব্লাডারে ক্যান্সার হয়ে বসে আছে। ভাবো, ধরা পড়ার পাঁচ মাসের মধ্যে মারা গেল।”নয়না বলল।

-“সোলঙ্কির মুখটা চোখের ওপর ভাসছে , যেদিন লাস্ট দেখতে গেলাম , দেখলাম একদম রোগা হয়ে গেছে। খুব কাঁদছিল। বাচ্চাটা একদম ছোট। ইস।”

-” জানো লিউকমিয়ায় একদম শেষ স্টেজে অনেকের চামড়া ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসে শুনেছি। খুব কষ্ট”.নয়নার গলাটা ভারী হয়ে গেল।

-” কম খরচ? কুড়ি লাখ! বল তো, কত টাকা জমাবে মানুষ এক জীবনে, বিপদ আসবে ভেবে? ” ,মনীষা বলল।

-” না না, সম্ভব নাকি? জলের মত খরচ। যতক্ষন পারবে যোগাবে, তারপর ওপরওয়ালা ভরসা। যেটুকু আনন্দ জীবনে ভোগ করে গেল, সেটুকুই ।”

         উফফ, কেমন অস্থির অস্থির লাগল অসীম বাবুর। বাথরুমে গিয়ে মুখে চোখে জল দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন অসীম বাবু।

“কার যে কখন কী হয়” কথাটা কানে ভাসছে। সত্যিই তো এটা। এই যেবার তিনি দীঘা গেলেন, যদিও যেতে চান নি, কিছু গাঁটের কড়িও খসেছিল, কিন্তু বেশ ভালোই লেগেছিল। তারপর ফিরে এসে তার সুগার ধরা পড়ল। ওখানে একটা দোকানে খাবার পর মিষ্টির দাম দশ টাকা দেখে আর খান নি। কিন্তু এখন তার এক চামচ চিনি খাওয়াও বারণ। 

           জীবনে কোনোদিন গিন্নিকে পুজো পার্বন ছাড়া একটা শাড়িও হাতে করে কিনে দেননি।  অথচ তিনি জানেন গিন্নি সাজগোজ করতে ভালোবাসেন। গিন্নি আগে আগে ভারী অভিমান করতেন। তিনি অবশ্য গ্রাহ্য করতেন না। তার বাবা যত দিন বেঁচে ছিলেন মেয়ের টুকটাক শখের জিনিস জোগাতেন। তিনিও সগ্গে গেছেন বছর পাঁচ হল। আজ সকালেই তো গিন্নির পায়ের ব্যথা বেড়েছিল। কমোড থেকে উঠতে গিয়ে পা অবশ হয়ে সে কী অবস্থা! তিনি গিয়ে প্রায় কোল পাঁজ করে তুলে এনে বিছানায় শোয়ালেন। বাড়ি থেকে বেরোতেই চান না আর। অসীমবাবুর ভাইপো চাকরি পেয়ে একটা খুব দামী শাড়ি দিল এই সেদিন। পড়েই আছে নতুন।

কিন্তু হঠাৎ এমন মারন অসুখ করলে?? নিজেদের বঞ্চিত করে জমানো টাকায় কুলবে? যদি না কুলোয় তাকেও তো হাত পাততেই হবে। সারাটা জীবন তাহলে কী জন্য এত কষ্ট করলেন?? চোখ দুটো হঠাৎ কেমন শুকনো শুকনো লাগছে, অল্প অল্প জ্বালা করছে। জিভ দিয়ে দাঁতটা খোঁচাতে গিয়ে জিভটাই কেমন অমসৃণ অমসৃণ অনুভূতি হচ্ছে। মাড়িতে বেশ ফুটছে কাঁটাটা, কি অশান্তি!!

**********

       সিটে এসে বসে উল্টো দিকের একটা খালি চেয়ারের দিকে চোখটা চলে গেল। ওটাতেই বসত সোলাঙ্কি। পে.বিল তৈরির দায়িত্ব সামলাত। কতবার ছোট খাটো ভুলের জন্য বকুনি খেয়েছে বড়বাবু অসীম বাবুর কাছে। তবু এই সেদিন একটু সেরে যেদিন অফিসে এল অসীম বাবু কেমন আছে, ‘বৌদি’ কেমন আছে সব খোঁজ নিয়েছে। ইস!! কী যে একটা রোগ বাঁধিয়ে বসল ওইটুকু মেয়েটা!

        ছোট থেকে অনেক কষ্ট করেছেন, অল্প বয়সে বাবা মারা গিয়েছিলেন। এখন একটু টাকা জমানো আছে, সেটা ভেবে নিশ্চিন্ত লাগে। কিন্তু “কার কখন কী যে হয়!” একটা দীর্ঘশ্বাস বুক চিরে অজান্তেই বেরিয়ে এল। তবে এখন তার মনে হচ্ছে দুশ টাকা তিনি পাঠাতেই পারেন। হ্যাঁ তিনি পাঠাবেন। মেয়েটা হয়ত বাঁচবেই না। কিন্তু ওর নামে মিথ্যে বলে শুধু শুধু পাপ বাড়াবেন না তিনি। ফোনটায় ডাটা অন করে নেট ব্যাংকিং এ লগ ইন করলেন। একাউন্ট নম্বর লিখে টাকার অঙ্ক বসাতে গিয়ে একটু থমকালেন। দুশ লিখবেন?? আচ্ছা পাঁচশ ই দেওয়া যাক। একেবারে পাঁ-চ-শ!! আচ্ছা কতদিন বিধাননগর থেকে অফিস হেঁটে গেলে ওই টাকাটা উঠবে?? একটু হিসাব করতে লাগলেন মনে মনে। 

      টাকার অঙ্ক বসিয়ে কনফার্ম করার পর ফান্ড ট্রান্সফারের স্টেটমেন্ট এল। সেদিকে তাকিয়ে অসীম বাবুর চোখগুলো রসগোল্লার মত গোল গোল হয়ে গেল। আরে পাঁচশ লিখতে গিয়ে একটা শূন্য বেশী পড়ে গেছে তো! কী আশ্চর্য! দুবার টাইপেই ভুল হল। পাঁচহাজার টাকা ঢুকে গেছে সোলাঙ্কি মজুমদারের একাউন্টে । 

তারপর কী হল?  

“অসীম বাবু চোখ কপালে তুলে চেয়ার থেকে ভিরমি খেয়ে পড়ে আছেন……  অফিসের সক্কলে তার মাথায় গ্যালন গ্যালন জল ঢালছে…পুরো ব্ল্যাক আউট…দাঁতে দাঁত লেগে কিট কিট আওয়াজ হচ্ছে…..”

       কিন্তু না, কই এগুলো কিছুই তো হল না। ওই তো, অসীমবাবুকে দেখা যাচ্ছে , দিব্যি চেয়ারে বসে আছেন। সত্যি বলতে এত শান্তি তিনি অনেক দিন পান নি। কী রকম একটা ভার মুক্ত লাগছে। 

        আরে!!!! কাঁটাটার কথা তো তিনি ভুলেই গেছিলেন। ব্যাটাকে আর তো টের পাওয়া যাচ্ছে না, কখন যেন নেমে গেছে। গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ফাইলে ডুবে গেলেন অসীম বাবু।

           বিকেলে নাকি গিন্নির সাথে তাকে একটা নামী শাড়ির দোকানে দেখেছিল কেউ কেউ। কী জানি, চোখের ভুলও হতে পারে।



হৈমন্তী ভট্টাচার্য

পেশা: শিক্ষিকা। নিবাস: দমদম।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।