শুধু দুজনে

বর্ণালি বসাক বোস on

সুবর্ণাদেবী আজ ভোর  না হোতেই উঠে পড়েছেন । বলতে গেলে তিনি  যে ঠিক কখন উঠেছেন তা তিনি নিজেই জানেন না । সারারাত তো তার ঠিক মত ঘুমই হয়নি । পাছে উঠতে দেরী হয়ে যায় কিছুক্ষণ পরপরই উঠে মোবাইলটা টিপে সময়টা দেখে নিয়েছেন। ভোর চারটা বাজতেই, “ নাঃ আর বিছানায় থাকা চলবে না ”। বাসিকাজ সেরে  স্নান করে পূজোটা সেরে নিলেন। পূজো করে  যখন নিচে নামলেন তখন সাড়ে পাঁচটা বাজে। চা করে জয়ন্তবাবুকে ডেকে  তুললেন। ভোরের ঘুমটা ভেঙে যাওয়ায় জয়ন্তবাবুর একটু রাগ হলো কিন্ত পরক্ষণই মনে  পরে গেলো না না আর  তো ঘুমলে চলবে  না । তাড়াতাড়ি বাজারে যেতে হবে  । সুবর্ণাকেও তো একটু সাহায্য করতে হবে । ও তো এতো  রান্না একা করতে পারবে না । সুবর্ণাদেবীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,  “ কতবার বললাম একটা রান্নারলোক নাও  ক দিনের  জন্য । না তোমার ঐ  এক জেদ নিজে হাতে রান্না করবে । আরে বাবা এত ধকল কি এখন সইতে পারবে ”। সুবর্ণাদেবী বললেন , “খুব পারব । নিজে হাতে রান্না করার যে কী আনন্দ ও তুমি বুঝবে না । তুমি শুধু আমাকে বিরক্ত করো না । নাও তো তাড়াতাড়ি চা  খেয়ে বাথরুমে যাও । বাজার যেতে  দেরী  হলে একটাও ভালো মাছ পাবে না । আচ্ছা শোনো আসার সময় পনিরটা আনতে ভুলোনা কিন্তু । আর শোনো অন্তত তিন রকম মাছ আনবে । ইলিশ যদি ভালো পাও  তবে  দামের দিকে দেখো  না ” ।  সুবর্ণাদেবী তার বাজারের ফিরিস্তি দিয়েই চলেছেন জয়ন্তবাবু সোজা বাথরুমে ঢুকে গেলেন । বাথরুম থেকে বেড়িয়ে ব্যাগটি হাতে নিয়ে বাজারে চললেন । বাজারে গিয়ে মনে মনে ভাবলেন একটা পাকা বোয়াল যদি পাই তো খুব ভাল হয় । বাজার তখনো ভাল ভাবে বসেনি । একটু অপেক্ষা করে জয়ন্ত বাবু মাছ বাজারে ঢুকলেন দেখলেন ইলিশ ,বোয়াল ,চিংড়ি ,সবই তো আছে । যদিও সবই আকাশছোঁয়া দাম । জয়ন্তবাবু কিছুই ভাবলেন না । সব রকম মাছই নিয়ে নিলেন । বাড়ি ফিরে দেখলেন সুবর্ণা দেবীর রান্নার জোগার প্রায় শেষ । সুবর্ণা দেবী বললেন, “একটু জিড়িয়ে নিয়ে স্নান করে নাও । স্টেশনে যাবে তো ?” জয়ন্তবাবু বললেন, “হ্যাঁ যাব তো । অতভারি বাজারের বাগটা বয়ে নিয়ে একদম হাঁপিয়ে উঠেছি । কতদিন পর এত বাজার করলাম বল সুবর্ণা ?” সুবর্ণা দেবী বললেন, “তাই তো । প্রায় আড়াই বছর পর বল ?”

  • হ্যাঁ ঠিক তাই ।

দেখতে দেখতে দশটা বেজে গেল । জয়ন্তবাবু স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হলেন । সাড়ে দশটায় ট্রেন ঢুকে যাবে । সুবর্ণা দেবী তারাতারি আরেকবার ওপরের ঘর থেকে ঘুরে এলেন । দেখলেন সব ঠিক ঠাক আছে কিনা । আগের দিন রাতেই তিনি সব পরিষ্কার কঢ়ে রেখেছেন । মফঃসল শহর, দিনের বেলা একটি ট্রেন ঢোকে আর রাতে একটি । জয়ন্তবাবু প্ল্যাটফর্মে দাড়িয়ে আছেন । সবাই যে যার মত নামছেন । জয়ন্তবাবু চোখ যে তিনটি মানুষকে খুঁজছে তারা এখনই নামেনি । দেখতে দেখতে ট্রেন ফাঁকা হয়ে গেল । কই তারা তো নামল না ! জয়ন্তবাবু ট্রেনের ভেতরে ঢুকে গেলেন এই কামরা ওই কামরা খুজতে লাগলেন । না, ট্রেনে তো কেউ নেই । জয়ন্তবাবু বাড়ি ফিরে চললেন ।

এদিকে সুবর্ণা দেবীর সমস্ত রান্না শেষ । ঘড়ির দিকে দেখে সুবর্ণা দেবী বাড়ির সামনে গেটে দাড়িয়ে আছেন । মিনিট পনেরোর মধ্যে জয়ন্তবাবু ফিরে এলেন । সুবর্ণা দেবীর জয়ন্তবাবুর উদ্ভ্রান্তের মত চেহারাটা খেয়াল করার মানষিক পরিস্থিতি ছিল না । তিনি চেয়ে আছেন আরেকটি রিক্সার দিকে যেটি এখুনি এসে তাদের বাড়ির সামনে থামবে । কিছুক্ষন হয়ে গেল , কোন রিক্সা তো এল না ! এবার সুবর্ণা দেবীর চোখ পরল জয়ন্তবাবুর উপর । চোখের চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রাখলেন জয়ন্তবাবু । সুবর্ণা দেবী তার কাছে এসে বললেন, “ কি গো ওরা আসেনি ?”

  • নাঃ বললেন জয়ন্তবাবু ।
  • বাবুকে ফোন করনি । কোন বিপদ আপদ হল না তো ?
  • ফোন করেছি বলছে এই নম্বরটি বাস্তবে নেই ।
  • মানে?
  • বাবুর হয়তো সিমটা নষ্ট হয়ে গেছে ।
  • তাহলে যোগাযোগ করব কি ভাবে ?
  • জানি না ।
  • একবার রিয়ার ফোনে চেষ্টা করে দেখ না ।
  • দেখেছি । ওটা তেও ফোন লাগছে না ।

সুবর্ণা দেবী আর জয়ন্তবাবু দুজনেই খুব চিন্তায় পরে গেলেন । কি হল ওদের ? কেন ফোন হচ্ছে না ? সুবর্ণা দেবী বার বার মনে মনে মহাদেবকে স্মরণ করতে লাগলেন ।

এর মধ্যে হঠাৎ রিমা, অর্থাৎ জয়ন্তবাবুর ভাইয়ের মেয়ে, ভাল মা ভাল মা বলে দাকতে দাকতে ঢুকল । রিমা দিনে অনেক বারই সুবর্ণা দেবীর কাছে আসে । সুবর্ণা দেবীও তাকে খুব ভালবাসে । আজ ও সেরকমই এসেছে ভেবেছে সুবর্ণা দেবী । রিমার হাতে একটা বড় ফোন । সে মহানন্দে ভালো জেঠু ও ভালোমা কে তার ছবি দেখাতে এসেছে । দেখতে দেখতে হঠাৎ ফেসবুক খুলতেই রিমার চোখে পড়ে একি এযে দাদাভাইয়ের ছবি । এই তো বৌদি আর সোনাইয়েরও ছবি আছে । এত একটু আগে আন্দামান থেকে পোষ্ট করা । সমুদ্রের জলে দাড়িয়ে তিনজনে সেলফি তুলেছে । রিমা বুঝতেই পারছে না ভালোমাকে সে কি বলছে । সে জানে ভালমা খুব নরম মনের মানুষ । গত দুদিন থেকে সে যে দাদাভাইয়ের পথ চেয়ে আছে । রিমা লক্ষ করে তার ভালোমা খুব দুশ্চিন্তায় আছে । সে তার জেঠুর কাছে গিয়ে বলে, “জেঠু তুমি কি স্টেশনে গেছিলে ?” জয়ন্তবাবু বললে, “হ্যাঁ রে । দেখনা ওরা আসেনি এদিকে ওদের ফোনেও পাচ্ছিনা । তোর ভালোমা তো খুব টেনশন করছে । আমারও খুব ভয় হচ্ছে রে ।”

রিমা বলল, “ভয় করনা জেঠু ওরা ভালো আছে । in fact ওরা খুব ভালো আছে ।” রাগ করে বলে রিমা । এবার নতুন ফোনে ফেসবুক থেকে রাজ, রিয়া ও সোনাইয়ের ছবি বেরকরে দেখাল । “এই দ্যাখো জেঠু দাদাভাই একটু আগে এই ছবিটা পোষ্ট করেছে । ওরা এখন আন্দামানে । দেখ নিছে লেখা রয়েছে – A short tour of Andaman ।”

  • “ওরা আন্দামান গেছে ? তাহলে কাল রাতে যখন ফোন করলাম তখন কেন ফোনটা হল না ।”
  • “ওরা হয়তো তখন ফ্লাইটে ছিল ,” বলল রিমা ।

“তা হবে হয়ত ।” জয়ন্তবাবুর তখন চিন্তা সুবর্ণা দেবীকে সে কি বলবে । পেছন ঘুরে দেখতেই জয়ন্তবাবু সুবর্ণা দেবীকে দেখতে পান । সুবর্ণা দেবী রিমা ও জয়ন্তবাবুর সব কথা শুনে ফেলেছেন এবং একজন পাথর প্রতিমার মত দাঁড়িয়ে আছেন ।

রিমা কাছে গিয়ে বলে, “ভালোমা ।” সুবর্ণা দেবী বলেন “আমাকে কিছু বলতে হবে না রিমা । তুই বাড়ি যা ।” রিমা বাড়ি চলে গেল বাড়ি বলতে ওদের সকলের বাড়িই পাশাপাশি । রিমার মুখে সব কথা শুনে রিমার মা অর্থাৎ কাজলী দেবী এলেন সুবর্ণা দেবীর কাছে । তারপর যা হয় । কাজলী দেবী বলতে লাগলেন, “দেখলে তো ভালোদি ছেলেকে বেশী শিক্ষিত করার ফল । ছেলে ভালো ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে তুমি তো বাপু বিশাল কিছু ভেবে বসে আছ । দেখলে তো তোমাদের জন্য ওর এতটুকুও সময় নেই । যাই বলো আমার দিপুই ভালো বাড়ির খেয়ে স্কুলে মাষ্টারি করছে । আমার কাছে তো আছে ।” কাজলী দেবীর কথাগুলো সুবর্ণা দেবীকে খুব আঘাত করে । তবু তিনি বলেন, “ঠিকই বলেছিস কাজু ।”

কাজলী দেবী চলে গেলেন । সুবর্ণা দেবী খুব কাঁদলেন । জয়ন্তবাবুরও বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে । কাঁদতে পারছেন না তাহলে সুবর্ণা দেবীকে সামলাবেন কি করে । কাজলী দেবীর কথা গুলো রিমা শুনে ফেলেছে । বাড়ি গিয়ে রিমা তার মাকে ভীষন বকাবকি করলে । সে জানে ভালোমাকে এই কথা গুল বলা তার মার মোটেই উচিত হয়নি । কিন্তু কাজলী দেবীর কোনও অনুশুচনা হয় না । মনে মনে সে খুশিই হয় ।

জয়ন্তবাবু সুবর্ণা দেবীকে নিয়ে রাজের ঘরে যায় । যে ঘরটি সুবর্ণা দেবী কাল রাতে সাজিয়েছে । বিছানার চাদর থেকে পর্দা সব নতুন লাগিয়েছেন । অনেক দিন ধরে আস্তে আস্তে পছন্দসই জিনিস গুলো রাজের ঘরের জন্য সুবর্ণা দেবী কিনেছেন । সব কিছু নিজে হাতে সাজিয়েছেন । ওই ঘরে গিয়ে সুবর্ণা দেবী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে । জয়ন্তবাবু সুবর্ণা দেবীকে থামায় না । কিছুক্ষন পর সুবর্ণা দেবী নিজেই থামেন । দেখেন জয়ন্তবাবু ওদের তিনজনের ছবিটির সামনে দাড়িয়ে আছেন । আড়াই বছর আগে যখন ওরা এসেছিল ওটা তখনকার ছবি । জয়ন্তবাবু ছবিটা বড় করে ল্যামিনেট করে রেখেছেন । ওপর তলার এই ঘরটি জয়ন্তবাবু অবসরের পর পাওয়া টাকা থেকে করেছেন । এবং ঘরটি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন । একটা নতুন মেহগনি কাঠের খাট বানিয়েছেন । টি.ভি, আলমারী, ড্রেসিং টেবিল, কি নেই ঐ ঘরটাতে । রিয়া আসলে যেন ওর কোন কষ্ট না হয় । ও যেন দুটো দিন ভালো ভাবে থাকতে পারে । এই আশাতেই ঘরটি করা । এবার রাজরা আসার আগে জয়ন্তবাবু একটি সোফা সেট এনেছেন এই ঘরে । জয়ন্তবাবু সোফাটার উপরে বসলেন । সুবর্ণা দেবীকেও ডাকলেন ।

সুবর্ণা দেবী নিজেই বলে চলেছেন কাজু ঠিকই বলেছে বাবুর আমাদের জন্য সময়ই নেই তাই জন্যই ও সাত দিনে একদিন ফোন করতে পারে না । আমারা ভাবিও খুব ব্যস্ত । ভয়ে ফোন করিনা । অত বড় কোম্পানিতে চাকরি করে । হয়ত মিটিংয়ে আছে । আমরা ফোন করলে যদি অসুবিধা হয় ।

জয়ন্তবাবু বললেন সুবর্ণা, বাবু হয়তো কোম্পানি থেকে টুরে পেয়েছে । ও হয়তো আমাদের জানানোর সময় পায়নি আর তাছারা তুমি তো কোন স্বার্থ নিয়ে ছেলেকে বড় করনি । আমাদের কর্তব্য ছিল আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ছেলেকে মানুষ করা । আমরা তা করতে পেরেছি, এটাই আমাদের শান্তি, তাই না বলো ?

সুবর্ণা দেবী রেগে গিয়ে বললেন – বাজে কথা বোলো না । ছেলে দিনে একবার মার সাথে ফোনে কথা বলবে এতা চাওয়ায় মার স্বার্থ কথায় ? আমি কি চেয়েছি ও আমাদের খরচ পাঠাক ? আমরা যে নিজেদের ওষুধের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি এটা কি ওকে বলেছি ? এই যে তুমি আজকে বাজারে ২০০০ টাকা খরচ করে এলে মাসটা আমাদের চলবে কি করে ? আমাদের এই অবস্থার কথা ও কি কিছুই জানে না ? ও কি জানেনা ওকে বড় করতে আমাদের কত sacrifice করতে হয়েছে ?

জয়ন্তবাবু সব চুপ করে শুনলেন । কোন উত্তর করলেন না  কারন  তিনি জানেন এই কথা গুলি সবটাই সত্যি ।

হঠাৎ জয়ন্তবাবু  সুবর্ণা দেবীর হাত দুটো চেপে ধরে বললেন পালিয়ে যাবে সুবর্ণা ? সব ছেড়ে ?

সুবর্ণা দেবী অবাক হয়ে বললেন – কোথায় ?

জানি না । তবে এখানে আর নয় । সুবর্ণা কাউকে কিছু বলবে না । এমনকি রিমা কেও নয় । নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র গুছিয়ে রাখো । কালই আমি দালাল ধরব । লোক পেলেই সব জিনিস-পত্র সহ বাড়িটা বিক্রি করে দেব । টাকা অনেকটাই পাওয়া যাবে । নিজেদের জন্য টাকা রেখে বাকি টাকা বাবুর অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেব । তারপর দুজনে বেড়িয়ে পরব এক অজানা গন্তব্যে ।

সুবর্ণা দেবীরও আর এখানে থাকতে ভালো লাগছিল না । তিনি আর কোন আপত্তি করলেন না । শুধু বললেন যেখানে কোন মায়ার বন্ধন নেই সেখানে চলো । আমরা দুজন দুজনের পাশে থাকব আমৃত্যু ।


বর্ণালি বসাক বোস

বর্ণালি বসাক বোস একজন পুরপুরি গৃহবধূ । রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাষ্টার ডিগ্রি করেছেন বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে । ছাত্রজীবন থেকেই লিখতে ভালোবাসেন । স্বামীর উতসাহে, ছেলের উদ্দীপনায় ও ভাগ্নির আব্দারে আবার লেখার জীবনে ফিরে আশা । সংসারের কাজের ফাঁকে গান আর লেখা তার সঙ্গী । সমাজের চারিপাশের বিভিন্ন রকম চরিত্র যেটা তার মনকে নাড়া দেয়, তাই নিয়েই তিনি লিখতে ভালোবাসেন । এসবের পাশাপাশি সংসারের সবার প্রতি দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেন । এতদিন স্বামীই ছিলেন তার লেখার একমাত্র পাঠক তারই অনুপ্রেরণায় আজ এই লেখা সকলের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য প্রকাশিত । বাবা, মা এবং শাশুড়ি মায়ের আশীর্বাদকে ও ছোট বোনের ভালোবাসাকে জীবনের পাথেয় করে চলতে চান ।

3 Comments

Sunandan Basak and Arati Basak · আগস্ট 7, 2018 at 2:23 অপরাহ্ন

খুব ভালো হয়েছে
– মা আর বাবা

Sunandan Basak and Arati Basak · আগস্ট 7, 2018 at 2:24 অপরাহ্ন

খুব ভালো হয়েছে

Piyali basak roy · নভেম্বর 21, 2018 at 8:30 পূর্বাহ্ন

খুব খুব সুন্দর লেখা

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।