খেল কাবাডি

শাশ্বত বোস on

“এ দাঁড়া, দুই মিনিট পর ক্লাস শেষ হবে। তার পর গেম্স রে।” বলল আমার ক্লাসের দল। আর ওইদিক থেকে স্যার,”এই শেষ বার বলছি। ভাল করে শোন (a+b)(a-b) = a²-b²” এই সুত্রটি স্যার তিন দিন ধরে পচাচ্ছে আর সবার কান এটা শুনে পেকে টসটসা রসালো হয়ে গেছে। “আরেক্…………”স্যার আরেক বার শুরু করতেই ঢং ঢং করে বেজে উঠল আমাদের মহাপ্রিয় স্কুলের বেল। আর কে কার কথা শোনে। মাঠে সবাই দিলাম ছুঁট। হঠাৎ রাজদীপ বলে উঠল,”কীরে কবাড্ডীর একটা ম্যাচ খেলবি নাকি?” “কোন অসুবিধা নেই। চল।”বলল সৈয়দ ও চন্দন। ক্লাসের বেশীরভাগ ছেলেরাই পরাশুনার ধরা-ছওয়ার বাইরে, আর যারা পরাশুনা একটু হলেও করত, তারা বিশেষ খেলতে না পারায় এই সময়গুলিতে অসুবিধায় পরত। গতি না দেখে আমরা সকলেই হ্যা করে দিলাম…….
            চন্দন ছিল চমৎকার খেলোয়ার। সে ১০০, ২০০, ৪০০ ও এমনকি ১৫০০ মিটারেও লাগাতার তিন বছর ধরে  গোল্ড মেডাল জিতছে। লঙ্গ জামপেও ও কিছু কম নয়। কবাড্ডি ছিল ওর সবচেয়ে পছন্দের খেলা। সে এমন করে পা ধরত যে কেও বেড়োতে পাড়তো না। রাজদীপ ও সৈয়দ তার ধরা-ছওয়ার বাইরে।
            শুরু হল খেলা। একদিকে সৈয়দ, আমি, দেবা, অগনীভ, সোহম,  চন্দন আর রাহুল। এই দিকে রাজদীপ, রিত্তিক, রৌনক, শুভ্রো, অনিক, পুরব, অন্জিস্নু। আর আমরা, অর্থাৎ আমি, সোহম, অগনীভ, শুভ্রো, রৌনক, অনিক, পুরব, অন্জিস্নু, তাদের বলা হল যে “তোরা কিচ্ছু করবিনা। শুধু দাঁড়িয়ে থাকবি”
      যা বলা হল, তাই করা হল। কিছু না করে দাঁড়িয়ে থাকাই হয়ে গেল করতব্য। ৩৫ মিনিটের খেলা শুরু হল।  বেশ জমজমাট খেলা। কখনো আমরা আগিয়ে তো কখনো ওরা। রাজদীপ ও সৈয়দ – দুজনেই ভালো খেলে। আবার চন্দন ও রিত্তিকের হাতে পড়লে ছাড়া পাওয়া দুস্কর। আমরা শুধু ‘জিততে হবে। জিততে হবে…..’ বলে চিল্লাচ্ছি ওরকম সময়ে গন্ডগোল হল।
   প্রিন্সিপাল ম্যাম এলেন। আমরা ঠিক লক্ষিছেলের মত চুপ করে রইলাম। ।           ‘গুড মরনিঙ্গ’  বলা মাত্রই তিনি মাথা নাড়লেন ও বললেন “রাজদীপ হয়ের ইজ ইওর বেল্ট?”
“সরি ম্যাম। আই উইল সিওরলি ওয়ের ইট টুমরো।” এটা রাজদীপের শেখা একটি মাত্র ইংরেজি লাইন। মনে মনে ভাবল “তাই প্যান্টটা ঢিলা লাগছে।”
“ওকে। প্লে নাও।”
খেলা আবার শুরু হল। আমরা ২০ ওরা ১৯। রাজদীপ গেল আরো ১ পয়েন্ট আনতে। পিছনে রিত্তিকের উপদেশ, “ভেবে চিন্তে খেলবি। ৩ মিনিট আর ১ পয়েন্ট বাকি। চন্দন কিন্তু সামনে।”
“ঠিক আছে ভাই। দেখি কি করা যায়”
রাজদীপ গেল। একটু ঘোরাফেরা করল। টিপিকাল একটা হাঁসি আর সিধা চন্দনের দিকে হাত বাড়াতেই চন্দন পা ধরল আর রাজদীপ সজরে দিল ঝাঁপ আর……..
চন্দন বলল, “এইটা কি হল! এটা তো….”
মেয়েরা বলল , ” ছিঃ রাজদীপ তুই এতো নির্লজ্য়!”
আমরা বললাম, “বাহ! অতি সুন্দর!”
এতক্ষনে রাজদীপের খেয়াল হলো, ওর মহাসুন্দর প্যান্ট টা চন্দনের হাতে । অঘটন ততক্ষনে ঘটে গেছে । সবার চক্ষু তখন ছানাবরা । চন্দন চ্যাচাচ্ছে, “ওরে পাগল তোর প্যান্ট…”। রাজদীপ তখন আর কি করে । চুপ করে বসে রইল কিচ্ছুক্ষন। পরে নিজের প্যান্ট নিয়ে সোজা বাথরুম ও তারপর সোজা ক্লাস। তার মনে গান বাজছে
“দোস্ত দোস্ত না রাহা…….”
——————————————–

শাশ্বত বোস

আত্রেয়ী ডি. এ. ভি পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেনির ছাত্র, সারাদিন পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে লিখতে ভালবাসে। নিজের এই  ১৩ বছরের জীবনের হাসির ঘটনাগুলি নিয়েই তার বেশিরভাগ  অনুগল্প লেখা। সে ইংরেজিতে কিছু আর্টিকেলও লিখেছে যেগুলি 'শমি ডট ইন' পত্রিকায় প্রকাশিত ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।