ঘুম আসে না

তিস্তা চক্রবর্তী on

(১)

“শো যা রাজদুলারি … শো যা… শো যা…”

নোংরা তেলচিটে কাপড়ের পুতুলটাকে বুকের কাছে নিয়ে আলতো হাতে চাপড় দিতে দিতে ঘুম পাড়াচ্ছে মতি। বাচ্চাটা রাতভর কেঁদে কেঁদে পরেশান হয়ে গেল।এই ভোরের দিকে এসে আঁখ বনধ হয়ে আসছে দুজনেরই। এমনিতেই এত্ত খাঁশি হয়েছে কী …সরবতিয়া থাকলে লসুন আর সর্শো কা তেল গরম করে এ্যায়সা মালিশ করে দিত যে উ বিমারিফিমারি সব জানলা গলে উড়নছু হয়ে যেত কবেই। 

গলাটা শুকিয়ে আসে বারে বারেই। শুধু মতির নয়, মতির রাজদুলারিরও। দুধের বোতলটাও অনেক আগেই খালি হয়ে গেছে। খানিক দোনোমনা করতে করতেই নিজের জামায় হাত দেয় মতি। একটা একটা করে বোতাম খুলতে থাকে অভ্যস্ত আঙুলে। খোলা বুক। একভি বাল নেই ওর সিনায়, একদম লৌন্ডিওকে মাফিক। নিজেই নিজের বোঁটায় হাত বুলিয়ে দেখে বারবার। ভিজে ভিজে লাগছে কি সরবতিয়ার ভারি বুকদুটোর মতো? টিপ টিপ বারিশের মতো সফেদ দুধ পড়ছে কি বেয়ে বেয়ে? শিরশির করে ওঠে শরীর। তাড়াতাড়ি দুলারির মুখের কাছে চেপে ধরে কালচে বাদামী রঙের বৃন্ত … আআহ্হ্হ্ শান্তি!

মকর সংক্রান্তির মেলায় সরবতিয়াকে প্রথম দেখেছিল মতি। লাল ঘাগরা চুন্নি আর লিপিস্টিক কাজলে একদম জুহি চাওলার মাফিক। বিলাস সরু চোখে তাকাতে তাকাতে বলেছিল, “আইটেম হ্যায় শালি!” মতির মন ভারি হয়ে উঠেছিল। জুহি চাওলা ওর ফেভারিট হিরোইন। সেই রাতে কিছুতেই ঘুম আসে না তার। তিনদিন পর পুরানা শিউজির মন্দিরের পিছে ফাঁকা ঝোপটা খুব নড়ছিল খাঁ খাঁ দুপুরে। দুপুর ভর সবাই যখন ঝিমোয়, মতি জেগে থাকে। বচপান থেকেই ওর এই স্বভাব। পুরা মহল্লা টহল মারতে মারতে মন্দিরের কাছে আসতেই ওর ছাতিটা টনটন করে ওঠে। ঝোপটা এত্ত নড়ছে কেন! সাপওয়াপ নয় তো? ডর হয় মতির। কিসের নেশায় তবু পা দুটো ঝোপের দিকেই এগিয়ে যায় ওর।ঘাসের ওপর একটা লাল চুন্নি। এটাই পরেছিল না মেয়েটা সেদিন! আরেকটু এগিয়ে যায় মতি। কাতরাচ্ছে কেউ, খুব ব্যথায়, নাকি খুব সুখে! ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে দুদিকেই … ওই তো দেখা যাচ্ছে গোলাপি নখ, রুপোর পায়েল পড়া ধবধবে পা দুটোকে সাপের মতোই পেঁচিয়ে রেখেছে আরও একজোড়া কালো পা, এই পা দুটোও খুব চেনা তার। রোজ রাতে মতির পায়ে পা ঘষে এই পাথরের মাফিক খসখসে পা দুটো । বুকে হাত দেয় ঘুমের ঘোরে।খামচে ধরে বারবার। মতির ভাল্লাগে না, অস্বস্তি হয়। ঘুম আসে না কিছুতেই। চৌকি থেকে নেমে এসে মাদুর বিছোয় মাটিতে। রাত খুল্লি আঁখ জেগে থাকে তার পাশেই। ভোর হবার খানিক আগে দানো ভর করে যেন বিলাসের শরীরে। মতির মুখ চেপে ধরে পাজামার নাড়া খুলে দেয় একটানে, তারপর …তারপর যন্ত্রণায় আর কিছু মনে থাকে না, শুধু ঘাটে কাপড় ধোবার সময় খুব লজ্জায় সে লুকিয়ে ফেলে পাজামার লেগে থাকা শুকনো রক্তের দাগ। 

সবাই সব ভুলে দিব্যি ঘুমোয়, শুধু মতির চোখে ঘুম থাকে না কিছুতেই। মাঝে মাঝে খুব অজিব লাগে তার নিজেকে। নেতিয়ে থাকা পুরুষাঙ্গটার দিকে চোখ চলে যায়। হাত রাখে ওখানে। নরম গোলাপি ঠোঁট , লাল চুন্নি, মোটা কাজল টানা একজোড়া চোখ খিলখিল করে হেসে ওঠে তাকে দেখে…ঘুমিয়ে থাকা কালসাপ জেগে ওঠে ,মুঠো শক্ত হয় মতির আপনাআপনিই…ক্লান্ত হতে চায় খুব শরীরটা। ঘুম, একটু ঘুম চাই তার। আর ঠিক তখনই ডেকে ওঠে চিকু… কুঁকুরু কুঁ…ওরও মতির মতোই ঘুম আসে না যে!

সরবতিয়া যেদিন তার ভাবি হয়ে এবাড়িতে এসেছি, সেদিনই এবাড়িতে চিকুও আসে। রাতের খানাপিনার জন্য, বাকি মুরগীর সাথেই হালাল হতে। খুব দুবলা ছিল, গলা ছেড়ে ডাকতেও পারত না। মতির মতোই…পিছওয়াড়া লোহুলোহান হলেও মুখ ফোটে না! মায়া হয় মতির খুব। বিলাসের সেদিন হেব্বি ফুর্তি মনে ,বিস্তর গরম করার গজব পুরিয়া আজ থেকে তার ঘরেই। মতি আর তার মুরগা বারান্দায় সেই রাত থেকেই। একসাথে চাঁদ দেখে দুজনেই, একসাথে জাগে। 

(২)

চিকুর ভোর হলেই খুব খিদে পায়। মতির গলা পেলেই আনচান করে ওঠে খুব। ডানা ঝটপট করতে করতে এগিয়ে আসে গুটগুট করে । মতি ওকে গমের দানা ছড়িয়ে কাছে ডাকে। গলায় পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়। কোলের কাছে চলে আসে চিকু।মতি চুমু দেয় খানিক তাকে। চায়ের লিকারের কষাটে ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে। জারের মাসগুলোয় গুড় দিয়ে যে চা বানাতো সরবতিয়া, তার স্বাদ লেগে থাকে টাকরায়। এখন আর মতি সকালে চা খায় না। সারা রাতের জমে থাকা ঘুম টকজল হয়ে উঠে আসে বারবার। নোনা ধরা দেওয়ালের খসতে থাকা পলেস্তারার গায়ে বোবা শিবের নীল ছবি ভাঙ্গা ক্যালেন্ডার হয়ে লটকে থাকে।

মতি লাল চুন্নিটা নাকেমুখে চেপে ধরে। ন্যাপথলিন আর পুরনো ট্রাংকের ভ্যাপসা গন্ধ পেরিয়ে সরবতিয়ার চুলের গন্ধ জেগে থাকে। তন্দ্রা আসে। এই বিস্তরেই বিলাস সুহাগ রাত মানিয়েছিল। রাতভর খাটিয়ার মচমচ আর বুকে জ্বালা ধরানো শীৎকার …দু’হাতে কান চেপে সারারাত দাওয়ায় পড়ে ছিল মতি। সকালে দরজা খোলার পর থেকে সে লুকোতে শুরু করে। কিছুতেই নজর মেলাতে পারে না বিলাসের নইনভেলি দুলহনের সাথে। সারবতিয়ার নাহানোর জন্য পানি চাই। বিলাস হাঁক দিতে থাকে মতিকে। মতি ঘাপটি মেরে বসে থাকে চাচার ঠেকে। “কামচোর কাঁহিকা…”, বিলাস বেরিয়ে যায় ধান্দায়। মতি স্নানের জল বালতিতে ধরে এনে বারান্দায় রেখেই পালাতে যায় , লেকিন লড়কি বহুত চৌকান্না …খপ করে ধরে ফেলে মতির হাত!

“ইতনা শরম কাহে ভলা, উ ভি হামসে! হামরা শকল পসন্দ না আয়া কে দেবরজি কো?”

মতির ভালো লাগে খুব। সরবতিয়া খুব যত্ন করে তাকে। রোটি ভাজির সাথে পিঁয়াজ আর তিখি মির্চির আচার সাজিয়ে খেতে দেয়। চিকুকেও লাডপ্যায়ার করে, দানাপানি সময়মতো দিতে কখনো ভুল করে না। চুলা চৌকির সময় কখনো সখনো বুকের আঁচল সরে যায়, মতি নজর ফেরাতে পারে না।মুখ টিপে হাসে সরবতিয়া, ঠোঁটের ডান দিকে লেগে থাকা তিল কেঁপে ওঠে যেন… আঁচল আরও বেপরোয়া হয়।

তন্দ্রা আসে মতির। পায়রার পেটের মত নরম বুকের ওম …এই হাতে লেগেছিল একদিন, নিজের হাতটা নিজের চোখেমুখে বুলিয়ে নিতে থাকে বারবার। একটা বোঁটকা গন্ধ কোত্থেকে উঠে আসছে যেন। কিছু কি মরেছে আশেপাশে! ধড়ফড় করে উঠে বসে মতি। কমবখত নিন্দ, হামেশা আঁখ মে চোলি খেলতা রহতা হ্যায়! সামনের দেওয়াল থেকে বিলাস আর সরবতিয়া তার দিকে তাকিয়ে খুব হাসছে রোজকার মতো। শালি, পেট সে থি তব…একটা পরীর মতো বেটি চাইতো খুব। ফ্রক ভি বনওয়াই থি উসকে লিয়ে,লাল পিলা হরা নীলা গুলাবি …

মতি দেওয়ালে লটকে থাকা ছবিটার গায়ে খুব যত্নে হাত বোলায়।ধুলো পড়েছে খুব। অনেকদিনের।

গন্ধটা বড্ড নাকে এসে ধাক্কা দিচ্ছে আজ। উল্টি আসছে খুব। আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায় মতি। এহহ, এ কী চেহারা হয়েছে তার! গোঁফদাড়ির জঙ্গলে মুখ ঢেকে যাবার জোগাড়, কঙ্গিও করা হয়নি কতদিন ঠিক করে। রেজরটাও আর তেমন ধারালো নেই, আর থাকবেই বা কী করে…ইস্তেমাল তো কম হল না!

চিকুটা খুব আওয়াজ দিচ্ছে অনেকক্ষণ থেকে। ঘরে আর একটুও দানাপানি নেই। কা খিলায়ে ইসকো ভগওয়ান জানে। দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ায় মতি। মুরগাটা মতিকে দেখে তার পায়ের কাছে এগিয়ে আসে। মতি তাকে কোলে তুলে নেয়। ডানায় হাত বোলাতে বোলাতে বলে, ” চুপ হো যা পগলে, এক দিন কী হি তো বাত হ্যায় ব্যস!”

(৩)

ঘরময় ছড়িয়ে আছে কাটা চুল দাড়ি। নিজের সাফসুতরো মুখটা দেখে একটা প্রায় ভুলিবিসরি বাচ্চা ছেলের থোবড়া ইয়াদ আসছে মতির। যে ছেলেটার হাত ধরে একটা হ্যাঁচকা টান দিয়ে পাথরের মতো তাগড়া জওয়ান বিলাস বলেছিল, 

” চল মেরে সাথ, ভুখা মরনা হ্যায় কা তুঝে!”

তিন কুলে কেউ ছিল না মতির। বিন মায়ের বাচ্চা, বাপ শালা কবেই আরেকটা জরু নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ভাগলবা। চাচাচাচির মুখনাড়া খেয়ে থাকার চেয়ে সেদিন বিলাসের মুঠোতে বন্দি হওয়াটাই অনেক বেহতর মনে হয়েছিল মতির। বিলাস তাকে রোটি কাপড়া দিল, মাথার ওপর ছাদ…কিন্তু নিল অনেক বেশি। 

ঘুম…ঘুম আর ধরা দেয় না তার চোখে।

মতি ভুলেই গেল জিন পরীরা কেমনভাবে একটা খোয়াব লেখে গহরি নিন্দের মধ্যে। শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা যা কাউকে বলতে পারা যায়না এমনই লজ্জার, তার থেকে সামান্য রাহত দিতে পারত যে সেও চলে গেছিল তাকে ছেড়ে। চোখদুটো প্রাণপণে বন্ধ করে নিজের মাথায় কত রাত নিজেই চাপড়ে চাপড়ে ঘুম ডেকেছে মতি, সাড়া মেলেনি। তাইতো অস্থির হয়ে একদিন …

রেজরটা খুব ধারালো ছিল। খুন বন্ধই হচ্ছিল না , চিকুটা খুব চিল্লাচ্ছিল বাইরে তখনও। খোলা চোখ, হাঁ করা বিভৎস মুখ…বিলাসের ডেডবডিটা দেখে তার খুব ভয় লাগছিল। কিন্তু সরবতিয়াকে সে কখনোই মারতে চায়নি। পাগলি চিল্লাই কাহে বুরবক কী তরাহ! মুখটা শক্ত করে বাঁধতে বাধ্য হয়েছিল মতি। সেই প্রথমবার খুব নরম করে অনেক অনেক চুমু খেয়েছিল মেয়েটার ঠোঁটে …গলায়…বুকে! 

ভারি পেটটা নিয়ে থরথর করে কাঁপছিল সরবতিয়া। দেওয়ালে ঠেস দিয়ে ওকে বসিয়ে রেখে বিলাসের লাশটাকে উঠোনের মধ্যেই একপাশে মাটিতে…খুব হাঁপাচ্ছিল মতি, অতখানি মাটি একা কুপিয়ে বিলাসের ওই বিশাল শরীরটার একটা গতি করা কি মুখের কথা!

চিকুই সাক্ষী ছিল এই সব কিছুর। বেহুদার মতো গলা ছেড়ে চিল্লিয়ে কী প্রমাণ করতে চাইছিল কে জানে! শালা নিমকহারাম! কবেই তো হালাল হয়ে যেতিস যদি না এই মতি থাকতো।

হঠাৎ মনে পড়লো মেয়েটাকে ঘরে একলা মুখ বেঁধে বসিয়ে রেখে এসেছে…”নাহ্, সরবতিয়া এখন থেকে আমারই। উ হামার জরু হবে আজ থেকেই। আমিই হব ওই বাচ্চাটার…”আহ্হঃ, ঘাড়ে রেজরটা খুব জোরে চালিয়ে দিয়েছিল বোকা মেয়েটা। ইতনা দর্দ হল যে …না না, সরবতিয়াকে কখনোই শেষ করে দিতে চায়নি মতি। ভালোবাসতো সে এই মেয়েটাকে। খুব। ধাক্কাটা এত জোরে লেগে যাবে বুঝতেই পারেনি। বাচ্চাটাও মায়ের সাথেই চলে গেল। পড়োশিরা খুব দুঃখ করছিল মেয়েটার জন্য। মরদটাকে কামকাজের খাতিরে এই সময়েই এত দূরে যেতে হল? আর বদনসিব লড়কি ,নিজের জান আর বাচ্চা একসাথে খুইয়ে বসলো! একটু সাবধানে চলাফেরা করতে হয় এই সময়… কেই বা বলতো এসব!শাসশ্বশুর কৌন থা ভলা ইস ঘর মে! গেল তো পা ফিসলে পড়ে দু’দুটো জীবন…

মতি খুব কাঁদছিল বারান্দার এক কোণে বসে।সচমুচ কে আঁশু। আরও একজন রুদালি হয়েছিল সেদিন। মুরগা কো ভি  সরবতিয়াসে কাফি লাগাও থা। একটা দানাও দাঁতে কাটেনি সেদিন চিকু। চুপ থা সারারাত। মতিও ভুখাপেট দুলারিকে লোরি শোনাচ্ছিল, সরবতিয়া যেমন শোনাতো তার ভারি পেটে হাত রেখে…” লাল্লা লাললা লোরি, দুধ কি কটোরি, দুধ মে বতাসা…” তামাশা নয়, সত্যিই দুলারি। মতির বেটি। গুলাবী ফ্রক ভি পরিয়েছে ওকে।  একদম ছোটি সি সরবতিয়া লাগে এই গুড়িয়াটাকে!

বুকের দুধ না পেলে বাঁচে কখনো এইটুকু বাচ্চা! মতি ওর মা বাপ দুইই। এক মুহূর্ত কাছছাড়া করে না ও দুলারিকে। সবাই তাকে পাগল বলে। বলুক গে! চিকুটাও আজকাল তাকে দেখলেই কেমন খাট্টা দিমাগ হয়ে যায়। চিল্লানো থামতেই চায় না। একটুও ঘুমোতে পারে না মতি। কোঁকর কোঁ বন্ধই হয় না এর…

উৎকট গন্ধটা টিকতেই দিচ্ছে না আর। চিকুর আওয়াজও। মতি দুলারিকে বিছানায় শুইয়ে ঘরের বাইরে আসে। এত রাতে চিকু…নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে মাটি সরিয়ে ফেলেছে শয়তানটা, বিলাস জেগে যাবে তো! দুলারিকে কিছুতেই দেবে না সে কাউকে, কিছুতেই না।

“আহ্ আহ্ আজা পাশ আজা মেরা বাচ্চা…” আদরের 

ডাক। চিকু ফেরাতে পারে নাকি! মতির কোলে এসে মুখ গুঁজে দেয়।মতিও গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় ওর আদর করে, অনেকদিন পর …গলার কাছে আঙুল দিয়ে সুড়সুড়ি দেয়, অল্প অল্প চাপ… চিকুর চিল্লানি আস্তে আস্তে কমতে থাকে, কমতে থাকে…একসময় থেমেও যায়। চিরদিনের মতো।

আঁচড়ানো মাটির পাশেই পড়ে থাকে কিছু রঙিন পালক। ছিন্নভিন্ন। 

মতি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে। একদম শান্ত এখন সব কিছু। কতদিন পর কোথাও কোনো শোরশরাবা নেই। খুব ক্লান্ত সে। দু ‘চোখ ভরা ঘুম …বালিশের পাশেই রাখা আছে রেজরটা। এখনো ততটা ভোঁতা হয়নি …মতি মাথা রাখে বালিশে। তেলচিটে গন্ধ ছাপিয়ে নাকে এসে ঝাপটা দেয় সরবতিয়ার চুলের খুশবু…দুলারিকে বুকের কাছে টেনে আনে মতি, আরও…আলতো হাতে চাপড় দিতে দিতে গাইতে থাকে ঘুমঘুম গলায়…”শো যা রাজদুলারি, শো যা, শো যা…”



তিস্তা চক্রবর্তী

জন্মঃ হাওড়ার আন্দুলে। বর্তমানে গড়িয়ায় বসবাস। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে এম.এ (২০০৪) পেশাঃ স্কুল শিক্ষিকা লেখালেখি শুরু লিটল ম্যাগাজিনের হাত ধরে। 'উৎসব ','সাপলুডো ','অপদার্থের আদ্যক্ষর' ইত্যাদি ম্যাগাজিনের পাশাপাশি 'নতুন কৃত্তিবাস ' ও 'দেশ ' পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।