খড়কুটো

অঞ্জন রক্ষিত on

আত্রেয়ী,পুনর্ভবা,টাঙন সহ দঃদিনাজপুরের ছোট বড় সব নদীতেই বান এসেছে।দুকুল ছাপিয়ে উপচে পড়েছে জল।পথঘাট তেমন আর নেই,অধিকাংশই ভেসে গেছে জলের তোড়ে।কোনোরকমে প্রাণ হাতে নিয়ে রিলিফক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার বিপদগ্রস্থ মানুষজন।চারিদিকে যেন একটা যুদ্ধকালীন হাহাকার।মানুষ পর্যাপ্ত ত্রান পাচ্ছে না।জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে অপরিচিতজনেরা হয়ে উঠেছেন একে অপরের আত্মীয়। এমনই এক ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে নিশান,বছর কুড়ির এক যুবক।প্রথমে জল বাড়ায় বেশ মজায় ছিল কিন্তু ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে বিপদ,কিছু জিনিষ যেন হারিয়ে যাচ্ছে চিরকালের মতই ভিটেমাটি,বাড়িঘর,অন্নসংস্থান।পেটে টান ধরলে যখন রিলিফ থাকে না তখন সকলের সঙ্গে চিৎকার করতে হয়,করে করেও জ্বালা মেটে না;অগত্যা কাড়াকাড়ি করে ছিনিয়ে নিতে হয়।নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে, ভালো লাগে না ।এরমধ্যেই নিশানদের ত্রিপলের নিচে আরেকটি পরিবার আসে,মা এসে নিশানকে জানায়। মনটা যেন খিঁচড়ে বেরিয়ে আসতে চায়।কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারে না।সবাই তো বিপদগ্রস্থ।নিশান শেডের তলায় এসে দেখল শাবানা। ও নিজেই বলল,
-কি রে তোরাও কি তাড়িয়ে দিবি?
নিশান আর কিছু বলতে পারেনি বরং অবাকই হয়েছিলো।শাবানা,লাল ফিতে দিয়ে দুটো ঝুঁটি বেঁধে ইস্কুলে যেত,পিঠে ব্যাগ,ছেলেদের তেমন পাত্তাই দিত না,খুব বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কথাই বলতো না।নিশান বলতে চেয়েও ফিরে আসতো-এত নাক উঁচু লোকের সঙ্গে দরকার নেই বাবা!বানের জলের মতই কথাগুলো যেন হু হু করে মাথায় এল।নিশান বলল,
-না না সে কি, থাক থাক।চারিদিকে যা অবস্থা।
-জল কমলে তো আর কেউ থাকবো না,বল।
-হ্যাঁ, তাই তো।
নিশান চলে গেল।ইস্কুলে অনেকদিন নিশান কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু শাবানা পাত্তাই দেয়নি।সে আজ নিজেই কথা বলছে যেচে যেচে।গতদুদিন মেজেজটা যেমন রগড়ে ছিল, এক মুহূর্তে যেন একটা বুকের ভেতর দিয়ে একটা ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে গেল। ক্ষণিকের মধ্যেই যেন ভুলে গেল পেটের টান,রিলিফের চিড়ে, কাড়াকাড়ি,ওষুধ,ভিটেবাড়ি সবই। শরীর এবং মনে যেন একশো হাতির বল এসেছে। মুষড়ে পরা নিশান কাড়াকাড়ি করে রিলিফ নিয়ে এসেছে। একটা চঞ্চলতা নিশানকে তাড়া করে বেরাচ্ছে।ত্রিপলের তলায় প্যাকেটটি খুলে পেলো গুড়, রুটি, মুড়ি আর দুটো সাবান।অন্য জিনিষগুলো সরিয়ে রেখে রুটির প্যাকেটটি খুলে মুখে পুরতে আরম্ভ করলো একপিস দুপিস করে। খিদের তাড়না কি বেশ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে নিশান যা এযাবৎকালের মধ্যে কোনদিনই টের পায়নি সে।হঠাৎ দেখলো একটু দূরেই বসে আছে শাবানা।
-কি রে পাসনি?
-না রে এত লোকজনের মাঝে কি করে……………..
-নে তাহলে;নিবি?
বলেই প্যাকেটটি এগিয়ে দিল।শাবানাও এবার প্যাকেট থেকে রুটি বের করে খেলো।দুজনে একই প্যাকেট থেকে স্লাইস বের করে খাচ্ছে আর হাসছে। মনটা বেশ উৎফুল্ল,যে শাবানার সাথে স্কুললাইফে কথা বলার জন্য ছটফট করতো, যাকে ক্লাসে না দেখলে দিনটা বিরস লাগতো সেই শাবানা কিনা তার সঙ্গে এক ইঞ্চি দূরত্বে বসে রুটির স্লাইস খাচ্ছে।শাবানা ক্যাম্পে আসার পর থেকে নিশানের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।দুজন চোখে চোখে কথা বলে আর হাসে মুখ টিপে।এরমধ্যে রুটির প্যাকেটটা শেষ হয়ে গেল। নিশানের মন বা পেট কিছুই ভরলো না।শাবানা বলল,
-একটা কথা শুনবি?
-কি?
-একটু জল কমুক তারপর বলবো।
-কেন বল এখন।
-না,এখন হবে না পরে।
-আচ্ছা।
নিশান আর কথা বাড়ায় না।শুধু অপেক্ষা করে, পরিতৃপ্ত অপেক্ষা।সারাদিন নিশান শুধু জলে জলে ঘোরে। নৌকা পেলে মাছ ধরে।রিলিফ এলে হইচই করে আনতে যায়।রিলিফ পার্টির কাজে হাত লাগায়। কিন্তু নিশানের ধ্যানজ্ঞান পরে থাকে- ‘একটু জল কমুক তারপর বলবো।’মাঝে মাঝে কাজেও ভুল করে ফেলে।কখনো কখনো ইচ্ছে করেই আর রিলিফ কাড়াকাড়ি করতে যায় না, ছেড়ে দেয়।
 ‘একটু জল কমুক তারপর বলবো।’-শব্দগুলো যেন খুব চেনা,আদরের,ছুঁতে ইচ্ছে করে;ভূত ,ভবিষ্যৎ,বর্তমান সবকিছুকেই গ্রাস করে নিচ্ছে।মাঝে মাঝে জলের মধ্যে একা একা হেঁটে হেঁটে বেরাচ্ছে।মা ডাকে “ওভাবে ঘুরে বেড়াস না,চারিদিকে সাপগোপ ঘুরে বেরাচ্ছে।”নিশানের কানে কোন কথা ঢোকে না। কখনো কখনো একা একা হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের তারা গোনে।আর ভাবে আকাশ তো পরিষ্কার  মেঘও নেই,কবে জল কমবে। হঠাৎ দেখে ওর পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে শাবানা।
-আমিও এসেছি।বলে হাসল।
-ও;তুই এই জলের মধ্যে এলি কেন?
-তুই কি করছিস দেখতে এলাম।
-কিছু না আকাশটা খুব সুন্দর লাগছে।কত্ত তারা, ওদের কেউ চেনে না কিন্তু আলো দিচ্ছে।
-তুই জলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তারা দেখছিস?ধুর!আমি তো ভাবলাম মাছটাছ কিছু খুঁজছিস, হঠাৎ করে ধরে নিয়ে হাজির হবি।হা হা হা হা হা।
-ওহ না।
-চল,বেশি জলটল ঘাটলে শরীর খারাপ করবে।
-তুই যা আমি একটু পরে যাচ্ছি।
-হু।চলে আসিস চাচি চিন্তা করবে।
শাবানা চলে গেল,কিছু একটা যেন নিয়ে গেল। অনেকক্ষণ পর,রাত গভীর,নিশান গুটিসুটি মেরে একটু শুয়ে পরল।কুপির আলোয় দেখা যাচ্ছে একটু দূরেই শাবানা ওর বাবা-মা-র সাথে ঘুমাচ্ছে।মুখের একদিকে আধো আলোর একটি রেখা মাত্র।নিশানের চোখ খোলা,ঘুম নেই, কখন যেন ভোর হয়ে গেল।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই নিশান জলস্তরের সমান দাগ দিয়ে একটি কাঠি এক জায়গায় পুঁতে দিলো। একটু পরপর লক্ষ্য রাখছে কতটুকু জল নামছে। কখনো আবার নিজেই জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে চাইছে কখন হাঁটুর নিচে নামে।’একটু জল কমুক তারপর বলবো’- যেন নিশানের রক্তস্রোতে মিশে গেছে।সারাদিন জলে পরে থেকে থেকে বিকেলের দিকে নিশানের গা গরম হয়ে উঠল।নিশানের চঞ্চলতা একটু ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সকাল থেকে প্রায় দুই ইঞ্চি জল কমেছে,এটা একটা আশার কথা।কিন্তু সেটা উৎফুল্ল হবার মতো কিছু না।নিশান সন্ধ্যে থেকেই গুটিসুটি মেরে পরে আছে,মা এসে গায়ে হাত দিয়েই বলল,
-এ কি রে গা যে পুড়ে যাচ্ছে। বললাম জলের মধ্যে এত ঘুরিস না,তা শুনলি না তো।
-জল না কমলে কি করে হবে মা।
-সে কি তুই কমাতে পারবি? যখন কমার ঠিক কমবে।
ওদিক থেকে শাবানার মা বলল,
-কি হল নিশানের কি জ্বর এসেছে?
-হ্যাঁ আপ্পা;দেখেন তো একের পর এক বিপদ।
বিকেল গড়িয়ে রাত হল।চারিদিকে নিস্তদ্ধতা।শিবিরের শিশুগুলো যেন চারদিনে বেশ বড় হয়ে উঠেছে।কিছু না পেলেও কাঁদে না।বহুদূরে দু-একবার বিচ্ছিন্নভাবে ডেকে উঠছে কয়েকটি কুকুর,হয়ত অভুক্ত বা প্রভুরা কেউ নেই।মাঝে মাঝে ব্যাঙ লাফিয়ে গিয়ে জলের ওপর ফটফট করে আওয়াজ সৃষ্টি করছে।আকাশের তারাগুলো জলের ওপর আলপনা এঁকে দিয়েছে।সবকিছুই যেন স্থির,অনন্ত অপেক্ষমাণ-‘একটু জল কমুক তারপর বলবো।’
শাবানা এতটা কাছে কোনদিনও আসেনি।এত কথা কোনদিনও বলেনি।ক্লাস টেনে নিশান চেয়েছিল,ক্লাস ইলেভেনে নিশান চেয়েছিল,ক্লাস টুয়েলভে নিশান চেয়েছিল,ফার্স্ট ইয়ার,সেকেন্ড ইয়ার,থার্ড ইয়ার শুধুই চেয়ে গেছিলো। নিশান জ্বরে আক্রান্ত,পারছে না।এসব ভাবতে ভাবতে দু-চোখ ছলছল করে ওঠে। শরীরের যন্ত্রণাগুলো,ভাবনাগুলোকে বশীভূত করে ফেলে।
কানে একটা মৃদু আওয়াজ ভেসে আসছে,দু-চোখ জুড়ে আবছা শাবানা। লাল ফিতে বাঁধা দুটো ঝুঁটি, সে নিশানের দিকে পেছন ফিরে চাইছে আবার হেসে চলে যাচ্ছে।নিশান দৌড়ে ধরতে গেল,কিন্তু সে আর নেই।সমস্ত শক্তি দিয়ে ডাকতে চাইছে-শাবানা।কিন্তু গলা যে বুজে এসেছে।
-একটু জল খাবি?
কানে কেমন যেন শোনালো।হুঁশ ফিরল।মাথা শাবানার কোলে।শাবানা মাথা উঁচু করে মুখের কাছে জলের বোতলটা ধরল।নিশান কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু ঢোক জল খেল।আবার শুয়ে পরল।শাবানার গায়ে একটা অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ।দূরে চলে গেলে আর পাওয়া যায় না।তারপর সারাদিন গুটিসুটি মেরেই নিশান পরে থাকলো।শাবানাকে আবার জিজ্ঞাসা করলো,
-শাবানা,জল কমেছে? কাঠিটার দাগটা একটু দেখ তো।
-হু,কমেছে তো, এমনিতেই তো বোঝা যাচ্ছে। ছোট গাছগুলোর মাথাগুলোও দেখা যাচ্ছে।
-সত্যি বলছিস কমেছে?
-হ্যাঁ রে।আর দুদিন পরে হয়ত বাড়ি ফিরতে পারবো।
এবার নিশান কেমন যেন একটু চুপসে গেল।দুদিন পর বাড়ি ফিরে যেতে হবে।নিশান ওর বাড়িতে,শাবানা ওর বাড়িতে। জলটা কি এত তাড়াতাড়ি না কমলেই হচ্ছিলো না!আর জ্বরটাও তো। কোনভাবেই কি আটকানো যায় না। যদি আবার শাবানা আসে আর এবার যদি ভাত মেখে খাইয়ে দেয়।কিছুই কি আর করা যায় না?আইডিয়া।চালাকি করে নিশান জ্বরের বড়ি দুটো জলে ফেলে দিল।জল সব কিছুকেই গ্রাস করে ফেলে, মুহূর্তের মধ্যে যেন আত্মাহুতি,কয়েকটি বুদবুদেই শেষ।
না তবুও তো জ্বর বাড়ছে না ।বাইরে প্রচণ্ড তাপ সূর্যের ।জলস্তর নেমে যাচ্ছে দ্রুত। আর কিছু ভাবা যাচ্ছে না,কাকে আটকাবে,কি করেই বা আটকাবে।“হ্যাঁ রে।আর দুদিন পরে হয়ত বাড়ি ফিরতে পারবো।” যেন হাতুড়ি।আবার “একটু জল কমুক তারপর বলবো”।উঃ আর কিছু ভাবা যাচ্ছে না। ছোট ছোট যেসব শুকনো জিনিষ হাতের কাছে পাচ্ছে জলের দিকে ছুঁড়ে মারছে একমনে- পাথর, মাটি, বিস্কুটের টুকরো সবই । শেডের নীচে যেটুকু জল এসেছে সেখানে দু একটা মাছের পোনাও ঘুরঘুর করছে খাবারের লোভে,কখনো ভয়ে সরে যাচ্ছে ,আবার আসছে। একসময় হাতের কাছে আর ছোঁড়ার মতো কিছু নেই। নিশান দেখল একটি সাবান। ঐ সাবানটা দিয়েই শাবানা চান করেছে। এটাকে আর ছুঁড়ে ফেলতে পারলো না।বরং নাকের কাছে ধরল।এই গন্ধটাতে কি শাবানা নেই? এরপর সবার অলক্ষ্যে সাবান মেখে ডুব দিয়ে স্নান করে এল।শাবানা বলল,
-কি রে স্নান করে এলি যে?
-ভাল লাগছিল না তাই।
-একি তুই কি আমার সাবান দিয়ে………….
-ও হো ভুলে গেছিলাম।
-উ হু তুই না!!
শব্দ দুটো যেন মুহূর্তের মধ্যে নিশানের অস্তিত্ত্বকে মাটিতে মিশিয়ে দিল।‘উ হু….’ ।এই কি শাবানা!! যে এত আদর মাখিয়ে হাতে ধরে জল খাওয়ালো।যার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছিলো জ্বরে।এর জন্যই কি চেয়েছে সকাল থেকে জ্বর আসুক। ওষুধ ফেলে দিল,ডুব দিয়ে স্নান করে এলো যেন জ্বর আসে;এ কি সেই শাবানা।‘উ হু’-এরকম করলো!এত ঘৃণা! নিশানের শরীর ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে ক্রমশ। বাইরের জলও নামছে দ্রুত। তারপর থেকেই শাবানার সাথে আর বিশেষ কিছু কথা হয়নি।রাতে শুধু একবার বলল,
-কি রে খেলি?
-না।
-কেন আবার কি জ্বর জ্বর লাগছে?
-না এমনিই।
-আর কি,কাল বাড়ি গিয়ে খাবি সব ভালোমন্দ।হা হা হা হা ।
-কাল চলে যেতে হবে; না?
-কেন রে আরও থাকতে চাইছিলি এখানে?
-না তা না।
-ঠিক আছে শুয়ে পড়।
সবাই শুয়ে পরেছে।অন্ধকার।নিশানের ঘুম নেই।এপাশ ওপাশ করছে। কখনো আবার দেখার চেষ্টা করছে কে কি করে,শাবানা কি করে । কিন্তু আজ যেন কুপির আলো একেবারেই ক্ষীণ।বাবা জিজ্ঞাসা করে,
-কি রে ঘুম আসে না?জ্বর জ্বর লাগে?
-না না।ঘুমাও।
ভোরের দিকে চোখ লেগে এসেছিল একটু।সকলের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।আজ সবারই তাড়া , বাক্স-প্যাটরা গোছানোতে ব্যস্ত।ঘরে ফেরার পালা ।কেউ অল্প অল্প করে জিনিসপত্র বাড়িতে রেখেও এসেছে। কেউ আবার ঘরদোর পরিষ্কার করে জিনিসপত্র নিয়ে তুলছে। স্থিতিই মায়া,মায়া বড় অদ্ভুত জিনিষ। কখনো কষ্টকে মাথা পেতে মেনে নিতে শেখায়।জলের ফোঁটা যেমন জলকে টানে।সবার ফেরার সময় হয়ে এল,গোছগাছ প্রায় শেষ।কিন্তু শাবানা এখনো কিছু বলল না।এবার অভিমান হচ্ছে,কেন তাকে শুধোতে হবে তারই তো বলার কথা। ও কি ভুলে গেল?এত গুরুত্বপূর্ণ কথাটা ভোলে কি করে! ছটফট করছে।কিন্তু আর তো চুপচাপ থাকা যায় না।
-অ্যাই, জল কমলে কি যেন বলবি বলেছিলি।
-কবে? কি বলবো?
-আরে সেদিন বলেছিলি না!পরে বলবি জল কমলে।
-ও হো আচ্ছা।তুই মনে রেখেছিস?আমি তো ভুলেই গেছিলাম।বলেই শাবানা হাসল।
-আয় এদিকে আয়।বলে নিশানকে নিয়ে গেল কিছুদূর।
-ঐ দ্যাখ।
শাবানা আঙ্গুল দিয়ে নিশানকে দেখাল, ডোবাটাতে লাল শালুক ভর্তি হয়ে আছে।
-এতদিন জলের নীচে ছিল বলে দেখা যায়নি।
-ফুলগুলো তো খুব সুন্দর।তোর চাই?
-না না ধুস। ওই ফুল দিয়ে আমরা কি করব, আমরা তো মুসলমান।কিন্তু শাপলার ডাঁটার চচ্চড়ি খুব ভালো লাগে আমার।এনে দিবি?
-ও আচ্ছা।



অঞ্জন রক্ষিত

জন্মঃ ০২/০৩/৮৬, ডালখোলায়। প্রকাশিত কাব্যঃ "হেলেনাকাশ" নভেম্বর, ২০১৬। পেশা- শিক্ষকতা, চূড়ামণ প্রহ্লাদচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।