রং-তুলি ও ক্যানভাসে প্রকৃতি

শুভঙ্কর চ্যাটার্জী on

ছবি আঁকার প্রথাগত কোন শিক্ষা নেই। অনেকটাই দেখে শেখা। সে অর্থে স্বশিক্ষিত। ছবি আঁকার সঙ্গে যুক্ত ছেলেবেলা থেকেই। অ্যাক্রেলিক ও অয়েলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।

আঁকার কোন সংজ্ঞা আমার জানা নেই। যদি প্রশ্ন ওঠে – কেন আঁকি? সোজা-সাপ্টা জবাব দেব – আঁকতে ভালো লাগে তাই আঁকি। যদিও জানিনা কতদূর সেটা হয়ে ওঠে।

 ছবি বলতে বুঝি আলো-ছায়ার খেলা, যেটা সব থেকে বেশি খুঁজে পাই প্রকৃতিতে। তাই প্রকৃতিকে আঁকি। বিশেষ করে গ্রাম-বাংলা। কোথাও কালো জলের পুকুর, শান্ত স্থির জল, তাতে কোন গাছ ঝুঁকে পরেছে। কিংবা মাটির ঘর, মাথার ওপর একরকম বাঁশের ঝাড্‌, কোথাও পাট কাঠির বেড়া, কোথাও ঘন ঝোপ-জঙ্গলের তলে গা ছমছমে অন্ধকার ছায়া।

 পেন্টিং আর ফটোগ্রাফি এক বিষয় নয়। ফটোগ্রাফিতে এমন অনেক বিষয় আনা যায় যেগুলো পেন্টিং করলে ভালো লাগবে না। আমি নিজেও যখন পেইন্টিং-এর কম্পোজিশন করি কয়েকটা জিনিস নজরে রাখি। যেমন পার্সপেক্টিভ, ভ্যানিশিং পয়েন্ট, হরাইজেন্টাল লাইন ইত্যাদি।

 একটা বাঁশ ঝাড় যদি আঁকি তবে পাশাপাশি কম্পোজিশনে রাখি তার পাশ দিয়ে আঁকা বাঁকা ভাবে দূরে চলে যাওয়া মেঠো পথ। যদি খুব কাছে একটা পাম্প হাউস আঁকি তবে দূরের জমিতে আরেকটা ছোট্ট পাম্প হাউস আঁকি, যাতে আকারের পার্থক্যটা সহজেই চোখে পড়ে।

 পেইন্টিং-এ ল্যান্ডস্কেপে হিউম্যান ফিগারকে বাদ রাখার চেষ্টা করি। যদিও কিছু পেইন্টিং-এ ছবির প্রয়োজনে এঁকেছি। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি ফিগার ল্যান্ডস্কেপকে বিরক্ত করে। উদাহরণ হিসাবে বলছি – একটা আঁকা বাঁকা ছোট খাঁড়ির দৃশ্য। তার ধারে ধারে জঙ্গল, কাশবন, ছোট বড় গাছ মিলে একটা অদ্ভুদ চোখ ঠান্ডা করা দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলেছে। তার মাঝখানে হঠাৎ কোমর বাঁকানো মহিলা জল নিতে যাচ্ছে – এটি ছবির কৃত্রিমতাই বৃদ্ধি করে মাত্র।

 প্রকৃতিতে আছে রঙের বৈচিত্র্য অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রতি ইঞ্চি ইঞ্চিতে রঙের পার্থক্য দেখা যায়। মাটির রং আর কাদা মাটির রং আলাদা। গাছের পাতা আর গাছের তলের সবুজ ঘাস দুটোই সবুজ হলেও রঙের তারতম্য চোখে পড়ার মতো।

 কোনো ল্যান্ডস্কেপে রোদ তৈরি করা খুব মজার। কারণ ক্যানভাসে যতটা আমি আলো দেবো লক্ষ্য রাখতে হবে সেই আলোর বিপরীত স্থানে ততটাই অন্ধকার দিতে হবে। মানে ছায়া ততটাই ঘন হবে।

 ইমাজিনেশন ছাড়া পেইন্টিং হয় না – এ কথা ঠিক। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব অভিমত – আমি যা দেখছি সেটাই আঁকছি। প্রকৃতিকে যদি একশো শতাংশ ধরা যায়, তার দশ শতাংশও যদি কাগজে বা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা যায় আমার মনে হয় সেটা খুব সুন্দর পেন্টিং হয়ে ধরা দেবে। সে চেষ্টাই আমি করি।


শুভঙ্কর চ্যাটার্জী

জন্মঃ ১৯৮২ সালের ২৭শে জুলাই। পড়াশোনাঃ বালুরঘাট হাই স্কুল। লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত স্নাতক স্তর থেকে। বর্তমান পেশাঃ প্রাথমিক শিক্ষক। সঙ্গে লেখালেখি। এছাড়া ছবি আঁকার সঙ্গে যুক্ত।ছবি আঁকার প্রথাগত কোন শিক্ষা নেই। অনেকটাই দেখে শেখা। সে অর্থে স্বশিক্ষিত। ছবি আঁকার সঙ্গে যুক্ত ছেলেবেলা থেকেই। অয়েল এবং অ্যাক্রেলিকে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। মুলত ছোটগল্প ও অণুগল্প লিখতে ভালোবাসেন। এছাড়া কিছু বড় গল্প এবং উপন্যাস ও লিখেছেন। মানুষের কথা, সমাজের কথা, সাংসারিক টানাপড়েন এইসবই লেখার উপজিব্য বিষয় । আনন্দমেলা, পত্রপাঠ প্রভৃতি পত্রিকায় লেখা ছাপা হয়েছে। স্থানীয় পত্রিকা আত্রেয়ীর পাড়াতে লেখা ছাপা হয়। কিছু উল্লেখযোগ্য গল্প - ফ্রেন্ডশিপ, ফেরী, বিষ ইত্যাদি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।